ট্রাম্পের এফবিআই বিভ্রাট

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪২
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারির শেষের দিকে জানতেন যে, তার তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে যে মিথ্যা বলেছেন, ঠিক তা-ই সম্ভবত এফবিআই এজেন্টদেরও বলেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইনজীবী জন ডোড রোববার এ কথা বলেছেন। জন ডোড বলেন, হোয়াইট হাউসের আইনি পরামর্শক ডনাল্ড ম্যাকগন প্রেসিডেন্টকে এই তথ্য দেন। ম্যাকগনকে আবার আইন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটস এই তথ্য জানিয়েছিলেন। ইয়েটস ম্যাকগনকে ফ্লিনের মিথ্যা বক্তব্যের বিষয়েও সতর্ক করেছিলেন।
ফ্লিনের ওই মিথ্যা বক্তব্যের ভিত্তিতেই এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে মিডিয়াকে বলেন, ফ্লিন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো আলাপ করেন নি।
পরে মার্কিন গোয়েন্দাদের আড়ি পেতে ধারণকৃত আলাপ থেকে প্রমাণিত হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসল্যাকের সঙ্গে এক ফোনালাপে ফ্লিন রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। মার্কিন আইনানুযায়ী তখনও কোনো সরকারি দায়িত্বে না থাকা ফ্লিনের ওই আলোচনা করার কোনো এখতিয়ার ছিল না। ফ্লিন শুধু নিয়মবহির্ভূতভাবে অবরোধ সংক্রান্ত আলোচনা করেই ক্ষান্ত ছিলেন না, এ বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্টকে মিথ্যেও বলেন। এ কারণে তাকে পরে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্টের আইনজীবীর নতুন বক্তব্য ও ট্রাম্পের একটি টুইট নিয়ে নতুন আলোচনা চলছে। জানা যাচ্ছে যে, ট্রাম্প জানতেন ফ্লিন এফবিআই এজেন্টদের মিথ্যা বলেছিলেন। কিন্তু তা জানা সত্ত্বেও, ট্রাম্প জেমস কমিকে ফ্লিনের ব্যাপারে নরম হতে বলেন। এ কারণেই নতুন করে অভিযোগ উঠেছে যে, প্রেসিডেন্ট এফবিআই’র তদন্তকাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন।
অবশ্য, কমি প্রেসিডেন্টের ওই অনুরোধ রাখেন নি। আবার মে মাসে কমিকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট। পরে কংগ্রেসের এক শুনানিতে কমি বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই বৈঠকের পর নোট রেখেছিলেন তিনি। ওই নোট অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট তাকে বলেছিলেন, ‘এই ব্যাপারটি থামাতে বা ফ্লিনকে ছাড় দেয়া যায় কিনা দেখুন।’ কিন্তু রোববার দেয়া এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কখনই ফ্লিনের ব্যাপারে তদন্ত থামাতে বলি নি কমিকে।’
উল্লেখ্য, শনিবার এফবিআই’র কাছে মিথ্যা বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন ফ্লিন। পাশাপাশি, তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট এস. মুয়েলারের রাশিয়া-সংক্রান্ত তদন্তে তিনি সহযোগিতা করবেন। এরপর থেকেই এ বিষয়ে একের পর এক টুইট করে যাচ্ছেন ট্রাম্প। কিন্তু শনিবারের একটি টুইট নিয়েই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ওই টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘জেনারেল ফ্লিনকে আমার বরখাস্ত করতে হয়েছিল, কারণ তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এফবিআই’র কাছে মিথ্যে বলেছিলেন।’ কিন্তু আগে হোয়াইট হাউস ফ্লিনকে বরখাস্ত করার কারণ হিসেবে শুধুমাত্র ভাইস প্রেসিডেন্টকে মিথ্যা বলাকে উল্লেখ করেছিল। এখন জানা যাচ্ছে, এফবিআইকে মিথ্যা বলাও একটি কারণ ছিল। আইনজীবী ডাউড পরে বলেছেন যে, ট্রাম্পের ওই টুইটটি তিনিই লিখেছিলেন। তিনি বলছেন যে, তার এখন মনে হচ্ছে এটির শব্দ চয়ন সঠিক হয়নি। ডাউড এখন বলছেন, এফবিআইকে ফ্লিন মিথ্যা বলেছেন বলে প্রেসিডেন্টকে বলা হয়েছিল, বিষয়টি তা নয়। ট্রাম্প শুধুমাত্র তা-ই জানতেন যেটি হোয়াইট হাউসের আইনি পরামর্শককে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটস বলেছিলেন। আর তা হলো, ভাইস প্রেসিডেন্টকে ফ্লিন যে তথ্য দিয়েছেন, সেটি এফবিআইকেও বলেছেন। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় ফ্লিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ তখন আনে নি। আবার ইয়েটসের পরিচিতরা বলছেন, এফবিআই’র তদন্তের কোনো অংশই তিনি হোয়াইট হাউসকে জানান নি।
ডাউড বলছেন, প্রেসিডেন্টের ওই টুইটের তেমন গুরুত্ব নেই। কিন্তু বেশ কয়েকজন আইনি বিশেষজ্ঞ বলছেন, ওই টুইট এবং ডাউডের মন্তব্যের ফলে প্রেসিডেন্টের আইনি জটিলতা বেড়ে যেতে পারে। যদি ট্রাম্প জেনে থাকেন যে ফ্লিন এফবিআই’র সঙ্গে মিথ্যা বলেছেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিচারকাজে বাধাদানের অভিযোগ আনার ক্ষেত্র তৈরি হয়ে গেছে, বলছিলেন বারাক কোহেন, যিনি পার্কিন্স কোয়ি ল’ ফার্মের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী ও সাবেক সরকারি কৌঁসুলি। বারাক কোহেন আরো বলেন, ‘আবার প্রেসিডেন্ট ওই টুইট নিজে না লিখে থাকলেও, তিনি যদি প্রকাশ করে থাকেন, তার মানে হলো, প্রেসিডেন্ট জেনেই তা প্রকাশ করেছেন। এটি তারই বক্তব্য। মূল কথা হলো, ওই টুইটটি ট্রাম্পের জন্য ভালো হলো না। এটি তার পরিস্থিতি আরো খারাপ করে দিলো।’
হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি বলেছেন, এই টুইটটি এক ঐতিহাসিক মাত্রার ক্ষতি করেছে। হোয়াইট হাউসে এটি রীতিমতো আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোয়াইট হাউস খুব দ্রুতই বুঝতে পারে, ওই টুইটটি ছিল বিরাট এক ভুল। স্পেশাল কাউন্সেল মুয়েলার যদি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিচারকাজে বাধাদানের অভিযোগ নিয়ে অগ্রসর হন, তাহলে এ টুইট ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। ডেমোক্রেট দলীয় সিনেটররা এই টুইট লুফে নিয়েছেন। সিনেটর ডায়ানা ফেইন্সটেইন বলেন, তার কাছে মনে হয়েছে, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিচারকাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সূচনা দেখতে পাচ্ছেন তিনি। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট দলীয় সদস্য মার্ক ওয়ার্নার বলেন, ফ্লিন এফবিআইকে মিথ্যা বলেছিলেন জেনে থাকলে ট্রাম্পের উচিত ছিল আরো আগেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।
নির্বাচনী প্রচারাভিযানকালে ফ্লিন ছিলেন ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন সহযোগীদের একজন। শনিবার তিনি এফবিআইকে মিথ্যা তথ্য দেয়ার দায় স্বীকার করেন।
প্রেসিডেন্টের আইনজীবী ডাউড বলেন, ট্রাম্প জানতেন যে, এফবিআই ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্সকে দেয়া ফ্লিনের বক্তব্য এক ছিল। হোয়াইট হাউসের পরামর্শক ম্যাকগনকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ইয়েটস এই কথাই বলেছিলেন। ডাউড আরো বলেন, ইয়েটস ও ম্যাগকনের আলাপচারিতাই ইয়েটস বলেছিলেন যে রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্টকে যা বলেছেন ফ্লিন, তা মিথ্যা। এটি তাকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফেলে দিতে পারে। ইয়েটস আরো ইঙ্গিত দেন, দুই দিন আগে অর্থাৎ জানুয়ারির ২৪ তারিখ ফ্লিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এফবিআই। ডাউড দাবি করেন, তখন ইয়েটস বলেননি যে, ফ্লিন এফবিআইকে মিথ্যা বলেছিলেন। শুধু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্টকে যে কথা বলেছেন ফ্লিন, ঠিক তা তিনি এফবিআই এজেন্টদের বলেছেন। ডাউডের আরো দাবি, ‘কিছু কারণে আইন মন্ত্রণালয় ফ্লিনকে মিথ্যা বলার দায়ে অভিযুক্ত করেনি। এজেন্টদের ধারণা ছিল ফ্লিন নিজেই কনফিউজড।’ কিন্তু ইয়েটস ও ম্যাকগনের ওই আলাপচারিতার অন্য বিবরণ ডাউডের দেয়া বিবরণের সঙ্গে মিলছে না। বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা বলেছেন, ইয়েটস ম্যাকগনকে বলেছিলেন যে, রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ফোনালাপে ফ্লিন রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কথা আলাপ করেছিলেন। ফলে তিনি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, তিনি ভাইস প্রেসিডেন্টকে এ নিয়ে মিথ্যা বলেছেন। এ কারণে ফ্লিনকে কেউ চাইলে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। ওই কর্মকর্তারা জানান, ইয়েটস ম্যাকগনকে আরো বলেছেন যে, দুই দিন আগে এফবিআই ফ্লিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ম্যাকগন তখন জানতে চান, জিজ্ঞাসাবাদে কেমন করেছেন ফ্লিন। জবাবে ইয়েটস এ ব্যাপারে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। ইয়েটস নিজেও ঠিক এই বিবরণই দিয়েছিলেন মে মাসে দেয়া এক সিনেট শুনানিতে।
ইয়েটস তখন ম্যাকগনকে প্রমাণ হিসেবে ফ্লিন ও রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের ফোনালাপের রেকর্ডিং শোনানোর প্রস্তাব দেন। ৩০শে জানুয়ারি ওই রেকর্ডিং শোনানোর তারিখ ছিল। কিন্তু ঠিক সেই দিনই ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অনীহার কারণ দেখিয়ে ইয়েটসকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প।
এদিকে ট্রাম্পের ওই টুইট নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, পরেরদিন এফবিআইকে নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু করেন তিনি। খবরে এসেছে, ট্রাম্প-বিরোধী বার্তা আদান-প্রদানের দায়ে এক এফবিআই কর্মকর্তাকে নিজ দল থেকে সরিয়ে অন্যত্র বদলি করেছেন মুয়েলার। এই খবর শেয়ার করে টুইটারে ট্রাম্প এফবিআই’র বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ আনেন।
(ওয়াশিংটন পোস্ট অবলম্বনে)

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমার, বাংলাদেশ সফরের আহ্বান

৪ সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ভূমিমন্ত্রীপুত্র কারাগারে

টেকনাফে ডাকাতি

লেকহেড স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ

সন্ধ্যার আগেই থার্টিফার্স্টের সব অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ

অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণ সতর্কতা

কাশবন দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ১৫

দেশে আকায়েদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার তথ্য মেলেনি: মনিরুল

‘আমরা আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করবো’

রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ নিহত ৩

ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করার পক্ষে প্রায় অর্ধেক বৃটিশ

পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণার আহ্বান তুরস্কের

মগবাজার ফ্লাইওভারে বাসে আগুন

ভুয়া চিকিৎসক ও ক্লিনিককে দিতে হবে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

নিউ ইয়র্কে আকায়েদের আত্মীয়দের বিবৃতি

জিতলেন ডগ জোনস, হারলেন রয় মুরস