এক পরিবারেই সাত প্রতিবন্ধী

এক্সক্লুসিভ

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি | ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
নাটোরের বড়াইগ্রামের মাঝগাঁও ইউনিয়নের এক পরিবারে সাত শারীরিক প্রতিবন্ধী ভিক্ষা করে নয় উঠে দাঁড়াতে চায় স্বাবলম্বী হয়েই। ওরা ওই সাতজন কেউই ভিক্ষা করেন না। ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দিনমজুরি করে কোনোরকম দিন চালাচ্ছে। এর মধ্যে ৪ জনের রয়েছে প্রতিবন্ধী কার্ড। তারা নিয়মিত সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। বাকি ৩ জনেরও আবেদন তাদের যেন সরকার একটি করে প্রতিবন্ধী কার্ড দেয়। উপজেলার মাঝগাঁওয়ের মাঝগ্রামের মৃত সায়েদ আলীর স্ত্রী হাসমতি নেছা (৮১), দুই ছেলে আব্দুর রব (৬১) ও মফিজউদ্দিন সেখ (৪১), দুই মেয়ে বিলকিস বেগম (৫৭) ও ফুলবানু  বেগম (৫৩), নাতি নুরুন্নবী সাগর (১৩) ও নুর আলম (৬) এরা সবাই প্রতিবন্ধী। এদের সবারই কম-বেশিভেদে
পিঠে বড় কুঁজ, লম্বায় খাটো, কম বয়সেই চেহারায় বয়সের ছাপ, দেখতে অনেকটা বৃদ্ধের মতো। সোজা হয়ে শুতে বা দাঁড়াতে পারেন না। যার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাটা তাদের জন্য কষ্টকর। তাদের মধ্যে আব্দুর রব ও নুরুন্নবীর পিঠে বড় কুঁজ আছে। কুঁজের ভারে তারা সোজা হয়ে দাঁড়াতে বা শুতে পারেন না। সরেজমিনে আরও প্রত্যক্ষ করা গেছে, বিলকিসের উচ্চতা ৩ ফুট ৭ ইঞ্চি ও ফুলবানুর ৩ ফুট ৮ ইঞ্চি। দু’জনেরই দুই পা কিছুটা বাঁকা ও পিঠে ছোট কুঁজ আছে। ছোট ছেলে মফিজউদ্দিনের উচ্চতা ৩ ফুট ১০ ইঞ্চি। দুই পায়ের পাতা বাঁকানো, পিঠে কুঁজ আছে, বুক কিছুটা বেশি উঁচু। হাঁটার সময় হেলে পথ চলতে হয় তাদের। মফিজের ছোট ছেলে নুর আলম অন্যদের চেয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও তার দুই পা বাঁকা। ধীরে ধীরে সেও বাবার মতো হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারলেও ঠিকমতো বসতে পারে না সে। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও দুই হাত ভালো থাকায় দুই ভাই বেছে নিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসা। বড় ভাই আব্দুর রব সবজির বীজ ও মফিজউদ্দিন ছোটখাটো ফলের দোকান দিয়েছেন। যৌবনে দুই বোনের বিয়ে হলেও দুজনের স্বামীই কিছুদিনের মধ্যে তাদেরকে তালাক দেয়। বর্তমানে তারা দুজনেই ভাইদের সঙ্গে বসবাস করছেন। তারা দু’জন বাড়িতে ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে টাকা আয় করছে। প্রতিবন্ধী মফিজউদ্দিন জানান, শারীরিকভাবে যখন সুস্থ বোধ করি তখন দোকানে যাই। অন্য সময় যেতে পারি না। অভাবের সংসারে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে। তার আশির্ধো বয়সী মা হাসমতি নেছা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট হয়েছে সন্তানদের বড় করতে। তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে বহুবার ধরনা দিয়ে পাননি একটি প্রতিবন্ধী কার্ড বা বয়স্ক অথবা একটি বিধবা কার্ড। মাঝগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মো. খোকন মোল্লা বলেন, ওই পরিবারে ৪টি প্রতিবন্ধী কার্ড দেয়া হয়েছে। দুই ভাই ছোটখাটো ব্যবসা করে বেশ ভালোই চলছে। তাই তাদের পরে কার্ড দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে তার মায়ের বিষয়ে তিনি জানান, অবশ্যই তার জন্য একটি বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার কার্ড দেয়া দরকার।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রবিউল করিম জানান, প্রতিবন্ধী নামের তালিকায় বাকি তিনজনের নাম ছিল না। তবে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন যদি কার্ড পাওয়ার যোগ্য হয় তাহলে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ওই মায়ের জন্য বিধবা অথবা বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রদান করা হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ এক সপ্তাহ স্থগিত

বাকেরগঞ্জে সাবেক এমপি মাসুদ রেজার ভাই গুলিবিদ্ধ

বিরাট-আনুশকার বিয়ে সম্পন্ন

কংগ্রেসের নতুন প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী

কলকাতায় ডিয়াগো ম্যারাডোনা, খেলবেন ফুটবল

আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো দল নেই: জয়

কুমিল্লাকে হারিয়ে রংপুর ফাইনালে

স্বর্ণের দাম কমেছে

‘আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি করি’

১৫টি পদের ১৪টিতেই আওয়ামীপন্থীদের জয়

ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ

রাজধানীতে গলাকাটা লাশ উদ্ধার

অতিরিক্ত সচিব হলেন ১২৮ জন

ভুয়া ডাক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

এবি ব্যাংক চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে দুদকে তলব