ভেস্তে গেল চট্টগ্রাম বন্দরে পচা খাদ্যপণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ

এক্সক্লুসিভ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ৬ ডিসেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৬
বাধার মুখে ভেস্তে গেল চট্টগ্রাম বন্দরে পচা কয়েকশ’ কোটি টাকার ১০৯ কন্টেইনার পিয়াজ-মরিচ, রসুন ও ফল ধ্বংসের উদ্যোগ। গতকাল নগরীর পতেঙ্গা এলাকার বিমান বন্দর সড়কের বিজয় নগর গুচ্ছগ্রাম মাঠে এসব পচা খাদ্যপণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নেন কাস্টমস। কিন্তু দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয় লোকজন দুপুরে এসব খাদ্যপণ্য মাঠে ফেলায় বাধা সৃষ্টি করে। পচা খাদ্যপণ্যবাহী ট্রাক যাতে আসতে না পারে তার জন্য বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে। এ সময় কাস্টমসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও করেছেন এলাকাবাসী।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম বলেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা ফলমুল বিভিন্ন সময় জব্দ করে।
বিপুল পরিমাণ ফলমুল পচে যাবার পর সেগুলো এয়ারপোর্ট রোডের বিজয়নগর এলাকায় ডামিপং শুরু করে। কিন্তু পচা ফলের দুর্গন্ধে ক্ষুব্ধ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ দুপুরে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়।
তিনি বলেন, ব্যারিকেডের কারণে ওই সড়কে একঘণ্টার মতো যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। বিমানযাত্রীদের ঠিক সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শাহ আমানত বিমানবন্দরের বিমান যাত্রীদের অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই রওনা দেয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, পচা পিয়াজ আর রসুনের গন্ধ যে কী তীব্র ও ঝাঁঝালো তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানেন। পচা ফলমুল ও ভোগ্যপণ্যের এই দুর্গন্ধে ইতিমধ্যে আশপাশের মানুষ চরম অস্বস্তিতে ভুগছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের বর্তমান কমিশনার ড. একেএম নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পতেঙ্গার গুচ্ছগ্রাম মাঠে ৯৫ ট্রাক পচা ফলমুল, পিয়াজ-রসুন ও মরিচ বিজয়নগর মাঠে ফেলে ধ্বংসের উদ্যোগ নেয়া হয়। গতকাল সকাল থেকে প্রায় ২০ ট্রাক পচা খাদ্যপণ্য ফেলা হয়েছে।
কিন্তু সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন এসব পণ্য ফেলায় বাধা দেয়। পরে তারা কাস্টমসের বিরুদ্ধে মিছিল করে সড়ক অবরোধ করে। ফলে পচা খাদ্যপণ্য না ফেলে ওই ট্রাকটি ফেরত আসে। এতে এসব খাদ্যপণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ আপাতত ভেস্তে গেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা কয়েকশ’ কোটি টাকার কমলা, আপেল, আঙুর, মাছ, রসুন-পিয়াজ, কাঁচামরিচ পচে গলে নষ্ট হয়ে গেছে। ১০৯ কন্টেইনার ভর্তি এসব খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাতে বায়ু দূষণে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। শিপিং এজেন্টরা এসব খাদ্যপণ্য আমদানি করলেও ব্যবসায়ীরা তা খালাস করে নিয়ে যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে কন্টেইনারে পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
পড়ে থাকায় পচনশীল এসব খাদ্যপণ্য ক্রমেই পচে গলে নষ্ট হয়ে খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে এসব খাদ্যপণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নেয়া হয়।
কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মিয়া মো. নাজমুল হক জানান, আমদানি করা এসব খাদ্যপণ্যগুলো কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্সের ১১ কন্টেইনার, মার্সক বাংলাদেশ লিমিটেডের ৬৬টি, কে লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের ১২টি, এপিএল বাংলাদেশ লিমিটেডের ৮টি, ইয়াংমিন লাইন্সের ৩টি, ইন্টারমডাল প্রা. লিমিটেডের ২টি এবং পিআইএল বাংলাদেশ লিমিটেডের ৭টি কন্টেইনার ভর্তি পণ্য।
তিনি বলেন, নিলামযোগ্য এসব পণ্য খালাসের ব্যবস্থা নিয়ে তাদের কন্টেইনারগুলো খালি করে দেয়ার জন্য শিপিং এজেন্টরাও দীর্ঘদিন ধরে আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে যথাসময়ে এ ব্যাপারে কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরো বলেন, যথাসময়ে খালাস না নেয়া পণ্যভর্তি কন্টেইনার শুধু যে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি করছে তা নয়, শিপিং কোমপানিসমূহকেও মহাবিপাকে ফেলে। বিশেষত পচনশীল পণ্যভর্তি কন্টেইনার তাদের জন্য বড় সঙ্কটের।
বন্দর পরিচালনা পরিষদের সদস্য (মিডিয়া ও প্রশাসন) মো. জাফর আলম বলেন, বন্দরে কন্টেইনার রাখতে অনেকদিন ধরে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অথচ কন্টেইনার রাখার জায়গা আটকে আছে নিলামযোগ্য পণ্যভর্তি কন্টেইনারে। এই সমস্যাটি বিরাজ করছে বছরের পর বছর ধরে।
তিনি বলেন, জাহাজ থেকে নামানোর পর ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারক কর্তৃক মালামাল সরবরাহ নেয়া না হলে বিধান মোতাবেক তা নিলামের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফলে কন্টেইনারে পচে যাওয়া খাদ্যপণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন