মাইকেল ফ্লিনের অভিযুক্ত হওয়া নিয়ে ট্রাম্পের টুইট কাণ্ড!

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৫ ডিসেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার
ডনাল্ড ট্রাম্প আপনাকে একটি জিনিস জানাতে চান। তা হলো, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক পরামর্শক মাইকেল ফ্লিনের এফবিআইর কাছে ২০১৬ সালে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য লুকানোর অপরাধ স্বীকার করা প্রসঙ্গে তিনি একদমই চিন্তিত নন! একবিন্দুও নন!
আমরা সেটা কিভাবে জানি? জানি কারণ ট্রা¤প সাধারণত আমাদেরকেই এমনটাই বলে থাকেন। শুক্রবার সকালে মাইকেল ফ্লিনের স্বীকারোক্তি দেবার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০টিরও বেশি টুইট করেছেন ট্রা¤প। ওইসব টুইটের মাধ্যমে তিনি বলতে চেয়েছেন, বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুয়েলারের কাছে দোষ স্বীকার করে তদন্তে সহযোগিতা করতে ফ্লিন যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তাতে প্রেসিডেন্ট ট্রা¤েপর কিছুই যায় আসে না! এখানেই কিন্তু শেষ না। ট্রা¤প আরো বলেছেন, এফবিআই একটি চরম দুর্নীতিগ্রস্ত এবং বাজে প্রতিষ্ঠান! এবং রাশিয়া কানেকশনের তদন্ত একটি ধাপ্পাবাজি! গণমাধ্যম অসৎ এবং খারাপ। হিলারি ক্লিনটনকে অল্পতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে...
এতে কি সব কিছু মিটে গেলো? পাওয়া গেলো ট্রা¤েপর নিজেকে বারংবার নির্দোষ দাবি করার প্রমাণ? হয়ে গেলো ফ্লিন সমস্যার সমাধান? মোটেও না।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সকাল থেকে।
ট্রা¤েপর এটর্নি জন ডাউড এক টুইটে দাবি করেন, ‘তিনি জেনারেল ফ্লিনকে বরখাস্ত করেন কারণ ফ্লিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এফবিআই এর কাছে মিথ্যা বলেছিলেন। ফ্লিন তথ্য গোপন করার দোষ স্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনাটি লজ্জাজনক যে, ফ্লিন পূর্বে তথ্য লুকিয়েছেন। কারণ, লুকোনোর মতো আসলে কিছুই ছিলো না’!
এখানে ট্রা¤েপর জন্য একটি সমস্যা রয়ে যাচ্ছে। তা হলো, যদি জন ডাউডের টুইটকে সত্যি বলে ধরে নেয়া হয়, তাহলে এটাও প্রতীয়মান হয়ে পড়ে, ফ্লিনকে বরখাস্ত করার পর তিনি এফবিআই পরিচালক জেমস কমিকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে কোনোভাবে ফ্লিনের তদন্তের ঘটনাকে ধামচাপা দেন। আর ফ্লিনের ঘটনায় ট্রা¤প এবং ডাউডের টুইট সত্যি বলে বিবেচনা করা হলে এটা ¯পষ্ট প্রতীয়মান হয়ে যায় যে, ট্রা¤প আসলে এফবিআই-এর কাছে ফ্লিনের মিথ্যাচারের ঘটনা জেনেশুনে লুকাতে অনুরোধ করেছেন। এর জন্যে ট্রা¤প একের পর এক টুইট করেছেন। ওই টুইটগুলোয় পাঁচটি বিরোধপূর্ণ ব্যাপারে একই সঙ্গে আলোকপাত করেছেন ট্রা¤প। এই নানা বিতর্কিত ব্যাপার একসঙ্গে উসকে দিতে চাওয়ার পেছনে ট্রা¤েপর দু’টি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এক হলো, তিনি তার- ফ্লিনকে দোষী সাব্যস্ত করে করা প্রথম টুইটটি থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে নিতে চাইছেন। অন্যটা হলো, যখন যা মাথায় আসছে তাই-ই টুইট করছেন ট্রা¤প। চলুন আমরা দেখে নেই, কিভাবে ট্রা¤প তার বিভ্রান্তিমূলক টুইট কা- আরম্ভ করেন। ঘটনার সূত্রপাত শুরু হয় ট্রা¤প যখন ‘কেন আমরা ক্লিনটনকে (হিলারি) নিয়ে কথা বলছি না’ বলে প্রথম টুইটটি করেন। সেখানে ট্রা¤প লিখেন, জেনারেল ফ্লিন এফবিআই’র কাছে মিথ্যা বললো; আর এতেই তার জীবন বরবাদ হয়ে গেলো। কিন্তু হিলারির ব্যাপারে কেন কিছু করা হলো না? কেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো রেকর্ড রাখা হয়নি? সে (হিলারি) অসংখ্যবার মিথ্যা বলে কেন পার পেয়ে গেলো? এটাকে দ্বৈতনীতি নাকি জঘন্য তদন্ত পদ্ধতি? ট্রা¤প আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক জনগণই জানতে চায় যে, কিভাবে হিলারির মতো একজন কুচক্রীকে ছেড়ে দেয়া হলো।
পরে ট্রা¤প টুইটের নল তাক করেন গণমাধ্যমের দিকে। তিনি সম্প্রতি ভুল তথ্য দেবার দায়ে সাংবাদিক বরখাস্ত করা এবিসি নিউজকে উল্লেখ করে বলেন, এবিসি নিউজকে অভিনন্দন। তিনি আরো বলেন, বানোয়াট খবর আরো বেশি করে প্রকাশ করা হোক। এরপর রোববার সকালে ট্রা¤প আবার টুইটের নল ঘুরিয়ে আনেন রাজনীতিতে। তিনি মাইকেল ফ্লিনের বরখাস্তের প্রসঙ্গে বলেন, আমি কখনোই এফবিআই পরিচালক কমিকে ফ্লিনের ব্যাপারে তদন্ত থামাতে বলিনি। এরপর আবার গণমাধ্যমকে একহাত নিয়ে তিনি টুইটে বলেন, কমিকে ফ্লিনের ব্যাপারে আমার অনুরোধ করার মিথ্যা ঘটনা নিয়েও এখন নানা ধরণের গল্প ছাপা হবে। এরপর একঘণ্টা পরে করা আরেকটি টুইটে ট্রা¤প লেখেন, কমির মেয়াদকালে এফবিআই একটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে অবস্থায় আছে। তবে চিন্তা করবেন না। জলদিই আমরা এফবিআইকে সুপথে ফিরিয়ে আনবো। এছাড়াও তিনি আরো অসংখ্য অসংলগ্ন টুইট করেন।
ট্রা¤েপর এই দৃশ্যত পাগলামির যদি কোনো অর্থ খুঁজতে চাওয়া হয়, তবে এটা নিশ্চিত যে এখানে তিনি বিশেষ একটি কৌশল খাটাচ্ছেন। তা হলো, জল ঘোলা করে মূল বিষয়বস্তু থেকে লোকজনের নজর অন্যদিকে সরিয়ে নিতে চাইছেন তিনি। তিনি বুঝাতে চাইছেন যে, ফ্লিনের মিথ্যাচারের সঙ্গে তার কোন সংযোগ নেই। তাই এ ব্যাপারে তার কোন মাথাব্যথাও নেই। তবে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে নেয়ার যে কূটকৌশল ট্রা¤প অবলম্বন করছেন, তাতে হয়তো তার সমর্থকরা তুষ্ট হতে পারেন। তবে তার এইসব উদ্ভট আচরণ পুরোপুরি বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ, এসব ঘটনা একদমই তুচ্ছ নয়, বরং ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন