নবীন নাবিকদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ৫ ডিসেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০০
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০১৭-বি ব্যাচের ৭৭৫ জন নবীন নাবিকের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ গতকাল খুলনায় নৌ-ঘাঁটি বানৌজা তিতুমীর প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত  হয়েছে। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও আকর্ষণীয় মার্চপাস্টের সালাম গ্রহণ করেন। পরে তিনি কৃতী নবীন নাবিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে,  নৌবাহিনীর ২০১৭-বি ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে শেখ মোহাম্মদ রাসেল, ডিই/এমএ-২/ইউটি পেশাগত ও সকল বিষয়ে সেরা চৌকস নাবিক হিসেবে ‘নৌ প্রধান পদক’ লাভ করেন। এছাড়া  মো. হোসাইন, ডিই/ইউসি/ইউটি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘কমখুল পদক’ এবং মো. মাহমুদুল হাসান, ডিই/ইউসি/ইউটি তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘তিতুমীর পদক’ লাভ করেন। নৌ প্রধান নবীন নাবিকদের উদ্দেশে তার ভাষণে, মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সেই সঙ্গে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বীর নৌ-সেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা গভীরভাবে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা এবং পরবর্তীতে তার সুযোগ্য উত্তরসূরি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের ক্রমাগত অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সামরিক বাহিনী এবং সকল ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। পাশাপাশি নৌবাহিনী আজ বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নৌবাহিনীতে রূপান্তরিত হতে চলেছে। তিনি বলেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে নৌবাহিনীকে একটি আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে নৌবহরে যুক্ত হয়েছে সর্বোচ্চ সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফ্‌ট, হেলিকপ্টার ও বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডস। এছাড়া, আরো দু’টি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফ্‌ট কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়া, চলতি বছরের মার্চে দু’টি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এখন ত্রিমাত্রিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, পটুয়াখালীর রাবনাবাদ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি নৌ-ঘাঁটি, ঢাকার খিলক্ষেতে একটি পূর্ণাঙ্গ নৌ-ঘাঁটি এবং চট্টগ্রামের পেকুয়ায় একটি সাবমেরিন ঘাঁটির নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, নৌবহরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্রমান্বয়ে পুরাতন জাহাজগুলোকে প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় গত ৮ই নভেম্বর প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত দু’টি লার্জ পেট্রোল ক্রাফ্‌ট বানৌজা দুর্গম ও বানৌজা নিশান এবং দু’টি সাবমেরিন টাগবোট বানৌজা হালদা ও বানৌজা পশুর কমিশনিং করেন। এছাড়া, নবীন নাবিক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণের মান ও অন্যান্য সুবিধাদি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্কুলটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য একটি মানসম্পন্ন ১০তলাবিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবনের নির্মাণ কাজ খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পরিশেষে, তিনি নবীন নাবিকদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্বে নিজেদের আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে যোগ্য নাবিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং সেই শিক্ষাকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে ব্যবহার করে জাতীয় নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে সঠিকভাবে কাজ করে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। মনোজ্ঞ এ কুচকাওয়াজে অন্যান্যের মধ্যে খুলনার সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক, সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স), খুলনা নৌ-অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার, খুলনা ও যশোর এলাকার পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকবৃন্দ এবং নবীন নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন