জিল্লুল হাই রাজি: এক অজাতশত্রু

মত-মতান্তর

মাসুম খলিলী | ৪ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার
ইনবক্সে পাঠানো মসিউর ভাইয়ের জরুরি বার্তাটি তখনও আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তিনি লিখেছেন রাজি ভাই আর নেই, কিছুক্ষণ আগে তিনি ইন্তেকাল করেছেন মেসিভ হার্ট এটাকে । তখনই জাফর ভাইকে ফোন করি এই আশায় যে, খবরটি যেন অসত্য হয়। বাকরুদ্ধপ্রায় জাফর ভাই জানালেন তিনি সবে মাত্র শুনেছেন এবং রাজি ভাইয়ের ডিওএইচএস এর বাসায় যাচ্ছেন। মাহমুদ ভাইও জানালেন তিনিও খবরটি এই মাত্র শুনেছেন এবং তার পক্ষে বিশ্বাস করা কষ্টকর হচ্ছে রাজি ভাই নেই। মাত্র দুদিন আগে রাতে অনেকটা আকশ্মিকভাবে ভাবিসহ এসে দেখা করে গেছেন। প্রথম আলোর শওকত হোসেন মাসুমের কাছেও ফোন করি, মাসুম এ ধরনের কিছু তখনো শোনেন নি। রাজি ভাইয়ের খবর ততক্ষণে ছড়িয়ে গেছে। জাফর ভাই নিশ্চিত করলেন, রাজি ভাই আর নেই। তার ছোট মেয়ে এয়ারপোর্ট থেকে ইমিগ্রেশন করার পর আবার ফিরে এসেছেন। রাজি ভাই সব সময় মেয়েকে বিদায় দিতে এয়ারপোর্টে যান। এবার শরীর ভালো না থাকায় বড় মেয়ের জামাইকে পাঠিয়েছেন। মেয়েকে নিচে গিয়ে বিদায় জানিয়ে বাসায় এসে সোফায় শুয়ে বিপিএল ক্রিকেট দেখছিলেন। ভাবী মেয়ের এয়ার পোর্টে খবর নিচ্ছিলেন ফোনে । এর মধ্যে হঠাৎ দেখতে পান রাজি ভাইয়ের হাত নি:শ্বাড় হয়ে ঝুলে আছে শোফায়। ভাবি কাছের হাশপাতালে নিয়ে যান রাজি ভাইকে। ডাক্তার তখন পালস বা হ্নদস্পন্দন খোঁজে পাননি রাজি ভাইয়ের। সবার প্রিয় এই মানুষটি প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন। সম্ভবত বছর বিশেক আগে রাজি ভাইয়ের সাথে প্রথম দেখা। হালিম ভাই দুজন মেধাবি মানুষের গল্প প্রায়ই করতেন। তাদের একজন ছিলেন রাজি ভাই। আমার বড় ভাইয়ের কাছাকাছি বয়সের এক নিরহঙ্কার মানুষ তিনি। অকপটে কথা বলার এ মানুষটির মধ্যে আমি যেন অগ্রজের নির্ভরতাই খুঁজে পাই। রাজি ভাই তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেড এন্ড ইকনমি সেকশনে কাজ করেন। সাময়িকভাবে মিডিয়ার দায়িত্বও তার কাছে। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি রিপোর্টারদের মধ্যে বেশ প্রিয় হয়ে ওঠেন। ইউরোপের রফতানি বাণিজ্য অথবা ইউরোপের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক- এসব নানা বিষয়ে জানার জন্য এবং গভীর তাৎপর্যের বিষযটি সম্পর্কে অবহিত হতে রাজি ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতেন রিপোর্টাররা। অর্থনৈতিক বিষয় নিয়েই তখন আমার মূলত রিপোর্টিং। মাঝে মধ্যে শরণাপন্ন হতে হতো রাজি ভাইয়ের। তিনি সহজভাবে জটিল বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিতেন, জানাতেন অনেক অজানা তথ্য।
রাজি ভাই বাংলাদেশের রাজনীতি অর্থনীতি এবং কুটনৈতিক সম্পর্কের অনেক গভীর বিষয়ে খবর রাখতেন। কিন্তু রাজনীতির দলভিত্তিক সংকীর্ণ ধারণার মধ্যে কখনো তার চিন্তা বন্দী ছিল না। সম্ভবত তার একটি গভীর বিশ্বাস এবং কমিটমেন্টও ছিল। সেটি ছিল একান্তভাবেই বাংলাদেশ এবং এর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ঘিরে। রাজি ভাই ১৯৮৯ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আগে রাষ্ট্রের একটি সংবেদনশীল সংস্থায় বেশ কয়েক বছর কাজ করেছেন। সেই সংস্থার এক প্রতিনিধি দলের সাথে তাকে তখনকার প্রেসিডেন্ট ইন্দোনেশিয়া পাঠিয়েছিলেন। আশির দশকে তখন জেনারেল সুহার্তোর নেতৃত্বে দেশটি ছিল সামরিক বাহিনীর প্রাধান্য সম্বলিত এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র। একই মডেল তখন প্রেসিডেন্ট এরশাদ বাংলাদেশে চালু করতে চেয়েছিলেন। রাজি ভাইয়ের সহযাত্রী টীমের অন্য সদস্য ইন্দোনেশীয় মডেলটি বাংলাদেশে চালু করার ব্যাপারে একটি ইতিবাচক রিপোর্ট দেন। আর রাজি ভাইয়ের উপসংহার ছিল ইন্দোনেশীয় মডেলের গণতন্ত্র বাংলাদেশে চালানো যাবে না। তার যুক্তির কারণে এই মডেল বাংলাদেশে চালুর উদ্যোগ থেমে যায়। এখন ইন্দোনেশিয়ায়ও সে মডেল আর নেই। রাজি ভাইয়ের অবশ্য আর সেই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা হয়নি। তিনি ভিন্ন জগতে কর্ম জীবনের সুচনা করেন। রাজি ভাইয়ের বন্ধু জগৎটি ছিল বেশ বৈচিত্র। ছাত্র ইউনিয়নের এক সময়ের সভাপতি কাজি আকরাম ছিলেন রাজি ভাইয়ের ঘনিষ্ট বন্ধুদের একজন। তিনি অনেক বার কমিউনিস্ট পাটি ও সিপিবির মুখপাত্র একতা অফিসে গেছেন তার সাথে। কিন্তু সিপিবির রাজনীতির সাথে তিনি সম্পর্ক গড়ে তুলেননি। বরং ঠিক এর
বিপরীত শিবিরের অনেকের সাথে রাজি ভাইয়ের ঘনিষ্ঠতা ছিল। তবে তিনি তাদের নীতি ও কৌশলের ভ্রান্তি দেখলে তা ধরিয়ে দিতে কসুর করতেন না। রিপোর্টিং জীবনে রাজি ভাইয়ের সাথে আমার যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় একই ধরনের সম্পর্ক অন্য পত্রিকার অর্থনৈতিক সাংবাদিকদেরও ছিল। রাজি ভাই তাদেরও একান্ত শুবানুধ্যায়ীর মত পরামর্শ দিতেন। নয়া দিগন্তের চীফ রিপোর্টার থেকে নিউজ এডিটরের দায়িত্ব নেবার পর আমার কর্ম সময় এবং কাজের ধরনে বেশ পরিবর্তন আসে। আগের মতো দিনের বেলায় রাজি ভাইয়ের সাথে কথা বলার সুযোগ কমে আসে। তিনি তখন ডিওএইচএস এর ১ নাম্বার বাসায় থাকতেন। আমার উত্তরার বাসা এবং মতিঝিলের অফিসের ঠিক মাঝখানটাতেই বলা যায়। রাত ১০টা/১১টায়ও যখন প্রয়োজন মনে করেছি রাজি ভাইয়ের সাথে দেখা করেছি তার বাসায় অথবা বাসার নিচে। আমি কখনও রাজি ভাইয়ের উচ্চতর এবং আমার মতো এক ছাপোশা সংবাদকর্মীর অবস্থানের পার্থক্য বুঝতে পরিনি। আমার মতো নিউ এজ এর সম্পাদক কবির ভাইসহ অনেকেই এভাবে রাতে ফেরার সময় রাজি ভাইয়ের সাথে গল্প করে যেতেন।
রাজি ভাইয়ের ব্যক্তিত্বের অসাধারণ এক দিক ছিল হালকা রম্যরশ দিয়ে অনেক কঠিন বিষয়কে প্রকাশ করতেন। রাজি ভাই নাকি তখন সবে মাত্র বিয়ে করেছেন। ভাবি বরিশালের মেয়ে। রাজি ভাই সিলেটের মানুষ, বেড়ে উঠেছেন রাজশাহীতে বাবার কর্মস্থলে। সেখানে রাজি ভাইয়ের বাবা রাজশাহী সরকারি কলেছে দুই দশকের বেশি সময় অধ্যাপনা ও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। শহরে বড় হলে যেটি হয়, রাজি ভাইয়ের সাতার শেখার কাজটি হয়ে উঠেনি। বিয়ের পর একবার স্টিমারে রওয়ানা দেন বরিশালের শ্বশুর বাড়ি। এই রুটে স্টিমারের চলাচল হয় সাধারণত রাতে। এর মধ্যে মাঝরাতে হঠাৎপ্রবল বাতাস শুরু হলে আতঙ্কিত ভাবি উঠার জন্য রাজি ভাইকে ডাকেন। তিনি নির্বিকার জবাব দেন সাতার টাতার জানি না। যা হবার তো হবে, ঘুমটা নষ্ট করে কি লাভ? রাজি ভাইয়ের সংসার পরিবার যেন ছিল শান্তির এক অনাবিল ঠিকানা। রাজি ভাইয়ের বন্ধুদের সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই জানতেন ভাবি। ভাবির আতিথেয়তার সুনাম অন্য রকম। রাজি ভাইয়ের বাসার আকর্ষণ বেশ খানিকটা বেড়ে যেত ভাবীর সুস্বাধু খাবারের লোভে। সাদামাঠা নির্জঞ্জাট জীবন যাপনের প্রতি রাজি ভাইয়ের ঝোঁকটা সব সময় দেখা যেত। বনানির একেবারে সেন্টারে রাজি ভাইয়ের পৈত্রিক বাড়ি।
সারা জীবন উচ্চ বেতনের চাকরি করেছেন তিনি কিন্তু অবসরের আগ পর্যন্ত ভাড়া বাড়িতে কাটিয়েছেন জীবন। মির্জা বেহরুজ ইস্পাহানি থেকে শুরু করে অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তি ছিলেন রাজি ভাইয়ের একান্ত ঘনিষ্ট বন্ধু। বাংলাদেশের বণিক সংগঠনগুলোর নেতারা নানাভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে কর্মরত থাকাকালে সহায়তা নিয়েছেন তার। কিন্তু অবসরের পরও রাজি ভাই সাদামাঠা কনসাল্টেন্সিকে নিজের আর্থিক সংস্থানের জন্য বেছে নিয়েছিলেন। গণমাধ্যমের সাথে ঘনিষ্ট যোগসুত্রতার প্রভাবটা তিনি হয়তো কাটাতে পারেনি। গত অক্টোবরের শুরু থেকে তিনি প্রথম আলোর বাণিজ্য সাংবাদিকতা বিভাগের পরামর্শক হিসাবে যুক্ত হয়েছিলেন।
রাজি ভাইয়ের অসাধারণ এক বৈশিষ্ট্য ছিল মানবিক মূল্যবোধ এবং সারল্যপূর্ণ গভীর অন্তর্দৃষ্টি। তিনি যে কোন ব্যক্তিকে তার অবস্থান ও মাইন্ডসেট দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করতেন। ফলে সবাই রাজি ভাইকে পেতেন তার একান্ত শুভান্ধ্যুায়ী হিসাবে। রাজি ভাই সম্ভবত কিভাবে উত্তেজিত হতে হয় অথবা রাগতে হয় তা শিখতে পারেননি। আমরা সব সময় তাকে দেখতাম অনুত্তেজিত আর ঠান্ডা। রাজি ভাই ভাবিসহ যেবার হজে যান সেবার উল্টোমুখি জনশ্রোত মুখোমুখি হয়ে অনেক হজযাত্রি পদপিষ্ট হয়ে মারা যায়। আমার পরিচিত একজনের মা বোন সহ সবাই মৃত্যু বরণ করেন। আমরা রাজি ভাইয়ের অবস্থা জানার জন্য চেষ্টা করি। রাজি ভাই যে হোটেলে ছিলেন সেখানে অনেক বিদেশি থাকতেন। এদের মধ্যে অনেকে দুর্ঘটনাটির পর আর হোটেলে ফিরেননি। তখনও রাজি ভাইয়ের মধ্যে চিন্তা বা উৎকণ্ঠার লেশ মাত্র দেখা যায়নি। নিজের ভাগ্য এবং আল্লাহর উপর এতটা নির্ভর একজন মানুষের কাছে শেখার অনেক কিছু রয়েছে।
আমরা রাজি ভাইয়ের ছোট বড় বন্ধুরা যেভাবে পেয়েছি তার ভাই বোন বা পরিবারের অন্য সদস্যরা হয়তো পেয়েছেন অন্যভাবে। কিন্তু এ মানুষটির ব্যাপারে সবার প্রতিক্রিয়াই অভিন্ন। রাজি ভাইয়ের বাবার বনানির বাড়ির নিচতলার একটি রুম ছিল ‘বনানি আড্ডা’র জন্য নির্ধারিত। পরিবারের সদস্যরা এবং তাদের বন্ধু বান্ধব সেখানে সন্ধ্যার পর একত্রিত হয়ে আড্ডা দিতেন। রাজি ভাইয়ের বড় ভাই নিজে চা পুরি দিয়ে সবাইকে আপ্যায়ন করেন। রাজি ভাইয়ের বাবা অধ্যাপক অবদুল হাই যে বনানি জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির আজীবন সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই শেষ বারের মতো রাজি ভাইকে আনা হয়। জোহরের নামাজের আগে রাজি ভাইয়ের নিশ্চল মুখ খানা যখন খোলা হয় তখন অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠেন অনেকে। রাজি ভাইয়ের এই বিদায়কে তার পরিবার বা বন্ধুদের পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন। চার ভাইয়ের মধ্যে রাজি ভাই ছিলেন তৃতীয়। সবার আগে চলে গেলেন তিনি। রাজি ভাইয়ের ছোট ভাই জানাজার আগে পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলছিলেন ‘আল্লাহ জীবন এবং মৃত্যু দুটিকেই সৃষ্টি করেছেন। মৃত্যুর এই বাস্তবতা সবার জন্যই সত্য। রাজি ভাইও চলে গেছেন। আমরা উনাকে কোন সময় অসুস্থ দেখিনি।’ অনুজ আরো বললেন ভাইকে পরিবারের ভেতরে বা বাইরে কারো সাথে রাগ করতে দেখিনি। পরিবারের যে কোন জটিল বিষয়কে সহজভাবে নিয়ে তিনি সমাধান করতেন।
রাজি ভাই চলে গেছেন। তিনি এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি মানুষের কেবল কল্যাণের কথা চিন্তা করতেন। রাজি ভাইয়ের কাজ এবং কথায় কেউ আহত হয়েছেন এমনটি কোনদিন শুনিনি। অথচ তিনি সত্য কথাটি বলতে কোন দিন নিবৃত হতেন না। তার বিদায়ে আমরা কেবল হারানোর বেদনা অনুভব করছি, এমন এক বান্দাকে মহান প্রভু নিশ্চয়ই জান্নাতের উচ্চ ঠিকানা বরাদ্দ করবেন। বনানি জামে মসজিদের শেষ বিদায়ের নামাজে সবারই প্রভুর প্রতি আকুতি ছিল সেটি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

চারদিকে তখন আতঙ্ক

ফ্যামিলি ভিসা নিরাপত্তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়- ট্রাম্প

নিউ ইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলাকারী আকায়েদের বাড়ি চট্টগ্রামে

প্যারিসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্কে বোমা হামলাকারী বাংলাদেশী আকায়েদ উল্লাহ আইএসের অনুসারী, দায় স্বীকার আইএসের

শাহজালালে বিপুল পরিমান আমদানী নিষিদ্ধ ঔষুধসহ আটক ১

নব্য জেএমবির দুই সদস্য গ্রেপ্তার

‘রাজকোষ চুরি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক’

রোহিঙ্গা নির্যাতন: মিয়ানমারের মহামূল্যবান রত্ন শিল্পে আঘাত

‘এটা আমার জন্য বড় একটি ব্যাপার’

২০ লাখ পাউন্ড ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও সাবেক ডেপুটি-মেয়রের নাম

পাচার অর্থ ফেরতে নানা জটিলতা

ম্যানহাটন হামলায় আটক ব্যক্তি বাংলাদেশি?

২৯ রোহিঙ্গা নারীর মুখে ধর্ষণযজ্ঞের বর্ণনা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ এক সপ্তাহ স্থগিত

বাকেরগঞ্জে সাবেক এমপি মাসুদ রেজার ভাই গুলিবিদ্ধ