দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশে যুদ্ধবিমানের গর্জন, সতর্ক উত্তর কোরিয়া

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৪ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০৫
দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশে গর্জন করছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান। সঙ্গে যোগ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানও। উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে যখন যুদ্ধের আশঙ্কা চারদিকে তখন যৌথভাবে সামরিক মহড়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। এর মধ্য দিয়ে কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলকে পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে উত্তর কোরিয়া। সিএনএন একে ‘ওয়ার গেম’ বা যুদ্ধ যুদ্ধ মহড়া বলে আখ্যায়িত করেছে। ফলে কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে রণসাজ। তা দেখে আতঙ্কিত বিশ্ব। উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন সব ভয়াবহ পূর্বাভাসের মধ্যে উত্তর কোরিয়া গত সপ্তাহে তাদের সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ফলে বিদ্যমান উত্তেজনার পারদ স্ফুটনাংকে পৌঁছেছে। যে কোনো সময় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। অনলাইন সিএনএন লিখেছে, আকাশপথে যুদ্ধ মহড়া যৌথভাবে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রে ও দক্ষিণ কোরিয়া। সোমবার শুরু হওয়া এ মহড়া সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধের জন্য প্রস্তাত তাদের এফ-২২ যুদ্ধবিমান যোগ দিয়েছে এয়ার ফোর্স ও মেরিন কোর এফ-৩৫ এর সঙ্গে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ পর্যন্ত এত বেশি রণপ্রস্তুতি গ্রহণ করে নি যুক্তরাষ্ট্র। এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান বাহিনীর ২৩০টি যুদ্ধবিমান অংশ নিচ্ছে। বার্ষিক মহড়া হিসেবে এর নাম দেয়া হয়েছে ভিজিল্যান্ড এইস ১৮। আর এর সঙ্গে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-২২ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে দু’ভাবে উস্কানি দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এক. শনিবার তারা একটি বিবৃতি দিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একটি পারমাণবিক যুদ্ধ লাগানোর জন্য হাতেপায়ে পড়ছেন। দুই. এর একদিন পরে পিয়ংইয়ংয়ের রোডোং সিনমুন পত্রিকায় একটি মন্তব্য চাপা হয়। তাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত যে সামরিক মহড়া করছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ এক প্ররোচণা দেয়া। এর মধ্য দিয়ে ওই অঞ্চলকে পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওদিকে শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার। তিনি বলেছেন, কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে প্রতিদিনই যুদ্ধের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে রিপাবলিকান দলের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, উত্তর কোরিয়া সামরিক প্রযুক্তির দিকে ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। এতে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে ভয়াবহ ৬টি এফ-২২ র‌্যাপটর যুদ্ধবিমান শনিবার পৌঁছেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা যোগ দিযেছে ভিজিল্যান্ট এইচ ১৮ অভিযানে। এই মহড়ায় ২৩০টি যুদ্ধবিমানের সঙ্গে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ১২০০০ কর্মকর্তা বা সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সামরিক বিমান এতে যুক্ত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ৬টি এফ-২২, ৬টি এফ-৩৫, ৬টি ইএ-১৮জি যুদ্ধবিমান।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৭-১২-০৪ ০১:৫৯:১৭

উত্তর কোরিয়া আর আমেরিকার মাঝে যুদ্ধ হলে যেই পরাজিত হউক আমেরিকা মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হবে তাতে সন্দেহ নেই। আমেরিকার মাটিতে ও আঘাত হানবে উ কোরিয়া। তাই আমেরিকার ভূখণ্ড নিরাপদ থাকবে না। যুদ্ধ শেষে আমেরিকা আর্থিক দুর্বল হলে বিশ্বের পরাশক্তি রাশিয়া, চীন, জার্মান মিলে এর দায় আমেরিকার উপর চাপিয়ে দুর্বল করলে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলকে সহায়তা করার শক্তি হ্রাস পাবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসতে পারে। যা আমেরিকা জিইয়ে রেখেছে।

Anisur Khan

২০১৭-১২-০৪ ১৩:০৩:৪৯

সবাই জানে ও বুঝে যে একটা যুদ্ধ মানবজাতি তথা বিশ্বকে কি ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তদসত্বেও বেয়াদব ঊঃ কোরিয়াকে কেউ নিবৃত করতে উদ্যোগ নিচ্ছেনা। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়া তামাশা দেখছে। তাদের উদ্দ্যেশ্য বৈশ্বিক মুরুব্বি যুক্ত্রাষ্ট্রকে একহাত নেয়া এবং যুদ্ধের দায়টা তার ঘাড়ে চাপানো। তবে এবারের যুদ্ধ আগের কোন যুদ্ধের মতই হবে না ; স্থায়িত্ব ববে কম কিন্ত ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা ও বিস্তৃতি হবে ঢের ঢের বেশি। যুদ্ধের সমাপ্তি অন্তে যদি যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয় এবং এই পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকে তবে ১ম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির উপর দায় চাপানোর মত যুক্তরাষ্ট্রের উপর দায় চাপিয়ে অপর দু পরাশক্তি চীন ও রাশিয়া হয়ত প্রতিশোধ নেয়ার চিন্তা করছে। তবে এটা প্রায় নিশ্চিত করে বলা যায় যে উঃ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ লাগা মানে বর্তমান সভ্যতার বিলুপ্তির সূচনা করা। আর হবেই না বা কেন? মিশরীয়, রোমান, ভারতীয় সভ্যতার অবসান হয়েছে অথচ বর্তমান সভ্যতা অনন্তকাল টিকে থাকবে তা কি হয় ?

আপনার মতামত দিন

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ

রাজধানীতে গলাকাটা লাশ উদ্ধার

অতিরিক্ত সচিব হলেন ১২৮ জন

ভুয়া ডাক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা

হবিগঞ্জে ৫ জেএমবি সদস্য গ্রেপ্তার

ইসরাইল একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র- এরদোগান

বুধবার সারাদেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি

বিদ্যুৎ গ্রিডের ট্রান্সফরমারে আগুন, তিন ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

জেরুজালেম ইসরাইলেরই রাজধানী- নেতানিয়াহু

নির্বাচনে নিষিদ্ধ ভেনিজুয়েলার বিরোধী দল

ভারী তুষারপাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা বৃটেনে

সুদের ৮ হাজার টাকার জন্য যুবককে পিটিয়ে হত্যা, মামলা দায়ের

রাজকীয় দুই পুরস্কার ফেরত দিলেন মাহাথির মোহাম্মদ

এবি ব্যাংক চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে দুদকে তলব

আড়াইহাজারের এমপির সঙ্গে মাওলানা হাবিবুরের বাগবিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল