কিডনি চিকিৎসায় সিএপিডি ডায়ালাইসিস পদ্ধতির প্রচার জরুরি

শরীর ও মন

স্টাফ রিপোর্টার | ২৬ নভেম্বর ২০১৭, রবিবার
কিডনি বিকল চিকিৎসায় কন্টিনিউয়াস এ্য¤ুলেটরী পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস (সিএপিডি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে এ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করতে সরকারি নীতি সহায়তা জরুরি বলে তারা মনে করেন। চিকিৎসকরা বলেন, সিএপিডি এমন একটি পদ্ধতি যা রোগী ঘরে বসেই নিজের ডায়ালাইসিস নিজে করতে পারেন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ডায়ালাইসিস সেন্টারে যাবার ঝুঁকি নেই। কাজেই দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যারা শহর থেকে দূরে পল্লীতে বসবাস করেন, কিডনি বিকলের চিকিৎসায় তাদের জন্য হিমোডায়ালাইসিস এর তুলনায় ‘সিএপিডি’ উত্তম বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন। রোববার ঢাকা ক্লাবে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর পেরিটোনিয়াল ডায়ালইসিস (বিএসপিডি) এর প্রথম সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। বিএসপিডির সভপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ, ভারতীয় বিশেষজ্ঞ ডা. জর্জিয়া আব্রাহাম, রেনাল অ্যাসোসিয়েসন এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম এবং আই এস এন এর কাউন্সিলর অধ্যাপক ডা. মহিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বিগত কয়েক বছরে সরকার অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তবে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক দরিদ্র রোগী এখনও চিকিৎসাসেবার বাইরে রয়েছে। রেনাল ডিজিজেস এবং কিডনি ডিজিজেজকে নিরব ঘাতক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএসপিডির মত সংগঠনগুলো এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করতে পারবে এবং বিএসএমএমইউ এক্ষেত্রে যে কোন ধরনের সহযোগীতা প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছে । তিনি, অইনগত জটিলতা কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এখনও বড় বাধা। তাই হেমোডায়ালাইসিসের সঙ্গে পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসকেও জনপ্রিয় এবং গ্রহণীয় করতে সর্বাত্তক ভূমিকা নিতে হবে। অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, প্রযুক্তি নয় বরং অর্থায়নই সিএপিডিকে ছড়িয়ে দিতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের উপকরনকে সহজলভ্য করতে তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান। অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তনি বলেন, বিশ্বজুড়ে কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাব দিনদিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে দুই কোটিরও বেশী লোক কোন না কোন কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রায় চল্লিশ লাখ লোক অকাল মৃত্যুবরণ করে কিডনি বিকল হয়ে। কিডনি বিকলের চিকিৎসা প্রধানত দুই ধরনের-কিডনি সংযোজন ও ডায়ালাইসিস। বিশ্বব্যাপী- সিএপিডির কদর দিনদিন বাড়ছে। হংকং শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ, মেক্সিকোতে ৭৫ ভাগ, থাইল্যান্ড ৫০ ভাগ, নিউজিল্যান্ড ৩২ ভাগ, অষ্ট্রেলিয়া ২১ ভাগ রোগী পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস এর মাধ্যমে বেঁচে আছে। তিনি জানান, এশিয়া মহাদেশে শতকরা ২৩জন ডায়ালাইসিসের রোগী কিডনি বিকলের জন্য সিএপিডি পদ্ধতি গ্রহণ করছে। আমাদের দেশে সিএপিডি শুরু হয়েছে ১৯৯৭ সালের জানুয়ারী মাস থেকে। এই পদ্ধতিতে চিকিৎসারত আছে মাত্র ৩ ভাগ ডায়ালাইসিস রোগী পক্ষান্তরে হিমোডায়ালাইসিসে আছে ৯৫ ভাগেরও বেশি। প্রচার মাধ্যমের সহায়তায় সাধারণ জনগণের মধ্যে এই নতুন ধরনের চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। যদি ব্যাপকভাবে সিএপিডি প্রচলন করা যায়, তবে চিকিৎসা বঞ্চিত কিডনি বিকল রোগীদের এক বিশাল অংশ জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব। এ ব্যাপারে সরকারকে একটু এগিয়ে আসার আহবান জানান চিকিৎসকরা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ম্যানহাটন হামলায় আটক ব্যক্তি বাংলাদেশি?

২৯ রোহিঙ্গা নারীর মুখে ধর্ষণযজ্ঞের বর্ণনা

বাংলাদেশের দুই নেত্রীর লড়াইয়ের ইতি

বাড়ির পাশে ম্যারাডোনা

আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো কোনো দলই নেই

৩ দিনের সফরে ফ্রান্স গেলেন প্রধানমন্ত্রী

৫০ শতাংশের বেশি মানুষ মানসম্পন্ন সেবা পায় না

বিএনপি’র পিন্টু না টুকু নতুন প্রার্থীর খোঁজে আওয়ামী লীগ

তন্নতন্ন করে খুঁজেও বিদেশে সম্পদের অস্তিত্ব মেলেনি

ঢাকা-রংপুর ফাইনাল আজ

জনগণের মুখোমুখি রসিক মেয়র প্রার্থীরা

‘যাদেরকে টিফিন খাওয়ালো তারাই হত্যা করলো’

ওয়াসা আর ফ্লাইওভারে লণ্ডভণ্ড চট্টগ্রামের সব সড়ক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ এক সপ্তাহ স্থগিত

বাকেরগঞ্জে সাবেক এমপি মাসুদ রেজার ভাই গুলিবিদ্ধ

কংগ্রেসের নতুন প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী