প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ঢাবি ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক ৬

শিক্ষাঙ্গন

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে | ২৫ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার
বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় দিনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রশ্নপত্র ফাঁস করার চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রসহ ৬ জনকে আটক করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। শনিবার সকাল ৭টায় নগরীর বাংলাবাজার আরশেদ আলী কনস্ট্রাক্টর গলির নাহার ম্যানশনের নীচতলার ভাড়াটিয়া বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র মুয়ীদুর রহমান বাকীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় ৫টি এন্টি জ্যামার ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস, ৫টি ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ব্লুটুথ ইনডাকশন (ইয়ারফোন), প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজে ব্যবহৃত ১১টি মোবাইল সেট (সিম সহ), অতিরিক্ত ২টি সিমকার্ড, ১টি হেডফোন এবং ৩টি পেন ড্রাইভ।
বিকেল ৩ টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন।
আটককৃতরা হলো যশোরের বাঘারপাড়া থানার বলরামপুর গ্রামের মো. মুরাদ মোল¬ার ছেলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অমর একুশে হলের শহীদ বরকত ভবনের ৪০১ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা মারুফ হোসাইন মারুফ (২২), পটুয়াখালীর দুমকীর কার্তিকপাশা গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের হাওলাদারের ছেলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র অমর একুশে হলের শহীদ বরকত ভবনের ৩০১ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সদস্য আলমগীর হোসেন শাহিন (২৪), পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকার মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের ৩য় বর্ষে ছাত্র অমর একুশে হলের শহীদ বরকত ভবনের ৩০২ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান আবিদ (২৩), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া গ্রামের গাজী হাফিজুর রহমানের ছেলে বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র মুয়ীদুর রহমান বাকী (২২), পটুয়াখালীর দুমকীর লেবুখালী গ্রামের আবুয়াল হোসেনের ছেলে ঢাকার মোহাম্মদপুর ডিগ্রি কলেজের বিবিএ ৩য় বর্ষের ছাত্র রাকিব আকন (২১) এবং পটুয়াখালীর গলাচিপার পানপট্টির জাফর আহম্মেদের ছেলে গলাচিপা ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র সাব্বির আহম্মেদ প্রিতম (২৩)। এদের মধ্যে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন শাহিন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের অন্যতম হোতা এবং সে ঢাকার সিআইডি পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোড পুলিশ কমিশনারের অস্থায়ী কার্যালয়ের হলরুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন আরো বলেন, আটককৃতদের সাথে ৩জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী যোগাযোগ করেছিলো। তাদের কাছে ১ লাখ করে চাওয়া হয়েছিলো। তাদের সাথে চুক্তি করলে ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীরা এই চক্রের দেওয়া এন্টি জ্যামার ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস শরীরের সাথে বেঁধে ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ব্লুটুথ ইনডাকশনের বিশেষভাবে কানে দিয়ে মোবাইল কলের মতো বাইরে কল করে প্রশ্নপত্র বাইরে ফাঁস করতে পারতো এবং বাইরে থেকে এই চক্রের সদস্যরা তাদের উত্তরপত্র সরবরাহ করতো। কিন্তু তার আগেই তাদের আটক করা হয়। এ কারনে গতকাল ‘ক’ গ্রুপের ভর্তি পরীক্ষায় কোন প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে পারেনি তারা। আটক ৬ শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকেই বিজ্ঞান বিভাগের হওয়ায় বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথম দিন (২৪ নভেম্বর) ‘খ’ ও ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় কোন প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ পায়নি বলে দাবী পুলিশ কমিশনারের। আটক ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সহ তাদের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিন। আটক ৬ জনের মধ্যে ঢাবি ছাত্র শাহীন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের অন্যতম হোতা এবং সে ঢাকার সিআইডি পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড বলেও পুলিশ কমিশনার জানান। পুলিশ আরও জানায়, এই জ্যামার মেশিনকে অকার্যকর করে হলে থাকা পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর সরবরাহ করার চেষ্টা করছিল বলে দাবী করেছে আটককৃতরা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন