একটি যুগের সমাপ্তি

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক | ১৫ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৫৮
বিদায় বেলায় হাসতে পারলেন না গিয়ালুইগি বুফন। বিদায় বেলাটা সবসময়ই বেদনার। আর তা যদি হয় আকস্মিক পরাজয়ের ফলে তবে চোখের জল ফেলা ছাড়া উপায় কী। ১৭৫ ম্যাচে ইতালির গোলবার আগলে রেখেছেন। এবারই তিনি ফিফার বর্ষসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেলেন। আর এবারই তাকে বিশ্বকাপ খেলতে না পারার অভিজ্ঞতা নিতে হচ্ছে।
জন্মের পর থেকে কখনও ইতালিকে বিশ্বকাপের বাইরে দেখেননি। শিরোপা জিততে দেখেছেন দু’বার যার মধ্যে এবার তিনিও ছিলেন অন্যতম নায়ক। চারবার ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ খেলার গৌরব রয়েছে বুফনের। অনেক রেকর্ডও রয়েছে তার। ১৯৯৭ সালে প্লে অফ ম্যাচ দিয়ে ইতালির জার্সি গায়ে পরার সুযোগ পান কারারা শহরের বাসিন্দা বুফন। এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অভিষেক হয় তার। এরপর ২০০২, ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪তে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
৩৯ বছর বয়সী বুফন ২০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমি আজ আমার নিজের জন্য দুঃখিত নই। আমি ব্যথিত ইতালিয়ান ফুটবলের জন্য। ইতালির হয়ে আমার জীবনের শেষ এই ম্যাচটি লজ্জার হয়ে থাকলো। এই হারের জন্য সবাই দায়ী। কাউকে বলির পাঁঠা বানিয়ে লাভ নেই। এদিন আরো দু’জন: জুভেন্টাসের আন্দ্রে বারজাগলি আর রোমার ডানিয়েলা ডি রসিও তাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন। জর্জিও কিয়েলিনিও সম্ভবত তাদের দলে যোগ দেবেন। বুফনের জার্সিটা হয়তো এখন পরবেন ১৮ বছর বয়সী এসি মিলানের নজরকাড়া গোলরক্ষক গিয়ানলুইগি ডোনারুমা।
স্পেনের ১৬৭ ম্যাচ খেলা ও ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস বুফনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আমি তার মতো খেলোয়াড় কমই দেখেছি। আমি আপনাকে তেমনই দেখতে চাই যেমন সবসময় দেখেছি। আপনি অনেকের কাছেই একজন কিংবদন্তি। আপনার সঙ্গে দেখা করতে পেরে এবং অনেকবার মোকাবিলা করতে পেরে আমি গর্বিত।
বুফনের জন্ম ২৯শে জানুয়ারি ১৯৭৮ ইতালির এক খেলোয়াড়ি পরিবারে। তার মা মারিয়া স্টেলা ছিলেন ডিসকাস থ্রোয়ার। আর বাবা আদ্রিয়ানো ছিলেন ভারোত্তোলক। তার কাকা দান্তে মাসক্কো ছিলেন বাস্কেটবল খেলোয়াড়। আর ইতালি ও ইন্টার মিলানের কিংবদন্তিসম গোলরক্ষক লরেঞ্জো বুফন তার পিতার চাচাতো ভাই। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তারা দুজনই শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। বুফনের দুই বোন ভেরোনিসা ও গুয়েনদালিনা দুজনই ইতালির হয়ে ভলিবল খেলেছেন।
বুফন ২০১১ সালে বিয়ে করেন চেক প্রজাতন্ত্রের মডেল আলেনা সেরেদোভাকে। থমাস ও ডেভিড নামের দুজন সন্তান রয়েছে তাদের।
২০১০ বিশ্বকাপের পর ফাবিও কানাভারোর অবসর নিলে বুফন ইতালির অধিনায়কের দায়িত্ব পান। ২০১১ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি প্রথম নেতৃত্ব দেন জার্মানির বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে। ডর্টমুন্ডের ওই খেলা ১-১ গোলে ড্র হয়। ২০১১তে তিনি কিংবদন্তির গোলরক্ষক দিনো জফের রেকর্ড ভাঙেন। ৬৪৪ মিনিট তার জালে কেউ বল স্পর্শ করাতে পারেনি। এরপর ইতালির হয়ে জফের ১১২ ম্যাচ খেলার রেকর্ড ভাঙেন তিনি। ২০১২ ইউরো কাপে বুফনই ইতালিকে নেতৃত্ব দেন। বাছাই পর্বে তার নেতৃত্বে ইতালি মাত্র দুটি গোল হজম করেছিল। সেমিফাইনালে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারানোর পেছনে বুফনের ভূমিকা ছিল অসামান্য। তাকে জার্মানরা পরাস্তই করতে পারছিল না। মেসুত ওজিল পেনাল্টিতে একটি গোল শোধ করেন। ফাইনালে স্পেনের কাছে ৪-০ গোলে হেরে গেলেও বুপনের নৈপুণ্যে ইতালি হয়েছিল টিম অব দ্য টুর্নামেন্ট।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিএনপিকে ভোট দিয়ে অশান্তি ফিরিয়ে আনবে না জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

অভিযোগ মিথ্যা এতিমখানার টাকা আত্মসাৎ করিনি

আরো ব্লগার হত্যার হিটলিস্ট

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, অতঃপর...

ফের বেড়েছে বিদ্যুতের দাম

চাহিদা নেই, তবুও রাজউকের নতুন ফ্ল্যাট প্রকল্প

‘আনিসুল হককে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা ভিত্তিহীন’

মৌলভীবাজারে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ভিডিএন চেয়ারম্যান ও এমডি

সিলেটে জামায়াতের ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’, জল্পনা

সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

রোহিঙ্গা জাতি নিধনের তুমুল সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রের

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

যশোর জেলা স্পেশাল জজের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার না করতে বলা হলো পোপকে

অসুস্থ রাজনীতি বাংলাদেশকে গ্রাস করছে: ড. কামাল হোসেন