বিশ্ব বাংলা ব্র্যান্ডের মালিকানা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে জোর বিতর্ক

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৩ নভেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:১৮
কলকাতার যে কোনও প্রান্তে পোস্টার, হোর্ডিং ও ব্যানারে চোখে পড়বে বিশ্ব বাংলার লোগো। এটি তৈরি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেভাবে সরকারি পর্যায়ে এই লোগো ও ব্যান্ডটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তাতে সকলেই ভেবেছিলেন এটির মালিকানা সরকারেরই। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দিয়েই তৃণমূলের সাবেক সেনাপতি মুকুল রায় বিজেপির জনসভায় দাঁড়িয়ে ফাঁস করে দিয়েছেন যে, এটির মালিক আসলেই মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র ‘জাগোবাংলা’ পত্রিকার মালিকানাও যে ভাইপোরই সেটা সর্বসমক্ষে জানিয়ে দিয়েছেন। এর পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
মুকুল রায়ের অভিযোগ নস্যাৎ করতে নজিরবিহীনভাবে দুই আইএএস অফিসারকে দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়েছে যে, মুকুল ভুল তথ্য দিয়েছেন। বিশ্ব বাংলা ব্র্যান্ড ও লোগো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্টি। সেটি তিনি স্বেচ্ছায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দিয়েছেন। ওই ব্র্যান্ড ও লোগো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নামেই নথিভুক্ত রয়েছে বলেও দাবি করেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্য ও ক্ষুদ্র শিল্প দপ্তরের সচিব রাজীব কুমার। কিন্তু আমলাদের তথ্য যে ইচ্ছাকৃত ভুল সে কথা জানিয়ে মুকুল রায় পাল্টা চিঠি দিয়েছেন ঐ দুই আমলাকে। মুকুলের অভিযোগ, বিশ্ব বাংলা নিয়ে শাসক দলের হয়ে জবাব দিতে গিয়ে অসত্য তথ্য পরিবেশন করেছেন তাঁরা। ভারত সরকারের ট্রেডমার্ক অথরিটি-র অধীনস্থ ট্রেডমার্ক জার্নালের নথি তুলে ধরে মুকুল রায় জানিয়েছেন, ওই জার্নালের তথ্য অনুযায়ী এ বছরের ৮ই মে পর্যন্ত ওই লোগোর মালিক ছিলেন অভিষেক। ৮ই সেপ্টেম্বর লোগোর মালিকানা দাবি করে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতর। মুকুলবাবুর দাবি, ওই লোগোর প্রকৃত মালিক কে তা এখনও চূড়ান্ত হয় নি। তাহলে ওই আমলারা কীভাবে ওই লোগোকে সরকারের সম্পত্তি বলে দাবি করতে পারেন? মুকুলবাবুর দ্বিতীয় অভিযোগ, লোগোর মালিকানা নিয়ে বিতর্ক চলছে জেনেও ওই দুই আমলা বিষয়টি চেপে গিয়ে মানুষকে ভুল তথ্য দিয়েছেন। মুকুলের দাবি, আমলা হয়ে এভাবে শাসক দলের হয়ে মুখ খুলে ওই দু’জন ‘সার্ভিস রুল’ ভেঙেছেন। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহের দ্বারস্থ হয়েছেন মুকুল রায়। ইতিমধ্যেই সরকারি নথি থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, মুকুলের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। আর তাই মুকুল রায় বলেছেন যে কোনও আইনি লড়াইয়ে তিনি যেতে প্রস্তুত। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে অবশ্য কেউ মুখ খুলছেন না। এমনকি জাগোবাংলা নিয়ে তোলা তথ্যও ভুল বলে কেউ দাবি করে নি। বিজেপি অবশ্য অভিযোগ করেছে, দিদির সততার নমুনা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে। এদিকে মুকুল রায় আগেই জানিয়েছিলেন যে, তার কাছে অনেক তথ্যই রয়েছে। মাত্র একটি ফাইল প্রকাশ্যে এনেছেন। আগামী দিনে আরও আনবেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৭-১১-১২ ২৩:২৮:৫৮

Betrayer. Why did he not declared before while he was in party. Coward ?

আপনার মতামত দিন

বিএনপিকে ভোট দিয়ে অশান্তি ফিরিয়ে আনবে না জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

অভিযোগ মিথ্যা এতিমখানার টাকা আত্মসাৎ করিনি

আরো ব্লগার হত্যার হিটলিস্ট

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, অতঃপর...

ফের বেড়েছে বিদ্যুতের দাম

চাহিদা নেই, তবুও রাজউকের নতুন ফ্ল্যাট প্রকল্প

‘আনিসুল হককে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা ভিত্তিহীন’

মৌলভীবাজারে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ভিডিএন চেয়ারম্যান ও এমডি

সিলেটে জামায়াতের ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’, জল্পনা

সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

রোহিঙ্গা জাতি নিধনের তুমুল সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রের

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

যশোর জেলা স্পেশাল জজের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার না করতে বলা হলো পোপকে

অসুস্থ রাজনীতি বাংলাদেশকে গ্রাস করছে: ড. কামাল হোসেন