মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রার সময় কমছে তিন ঘণ্টা

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ১ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৪৯
ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেসে প্রান্তিক স্টেশনে অভিবাসন ও শুল্ক পরীক্ষা চালু হলে ট্রেনের যাত্রার সময়সীমা প্রায় তিন ঘণ্টা কমে যাবে। বর্তমানে কলকাতা থেকে ঢাকা বা ঢাকা থেকে কলকাতায় আসতে নয় ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু কলকাতা ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে অভিবাসন ও শুল্ক পরীক্ষা চালু হলে গেদে ও দর্শনায় মালামাল নামিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় অপেক্ষা করার ধকল আর সইতে হবে না। দু’দেশের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে প্রান্তি স্টেশনে চেকিং ব্যবস্থা চালু করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত অবশ্য নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রথমে এই ব্যবস্থায় রাজি ছিল না। তবে এখন দু’দেশের সরকারই প্রান্তিক স্টেশনে পরীক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই সঙ্গে কলকাতা ও খুলনার মধ্যে ট্রেন চলাচলের বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত ২৫শে অক্টোবর কলকাতায় দু’দেশের রেলওয়ে আধিকারিকদের বৈঠকে এই ট্রেনটি আগামী ১৬ই নভেম্বর থেকে চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আগামী ৯ই নভেম্বর সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কলকাতা ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে অভিবাসন ও শুল্ক পরীক্ষা চালু এবং কলকাতা ও খুলনার মধ্যে ট্রেন চলাচলের সূচনা করবেন। দ্বিতীয় এই মৈত্রী ট্রেনের নাম রাখা হয়েছে বন্ধন এক্সপ্রেস। এটি বর্তমানে সপ্তাহে একদিন (বৃহস্পতিবার) কলকাতা থেকে ছেড়ে যাবে খুলনা এবং সেদিনই ফিরে আসবে। ভারতীয় রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা স্টেশনে এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ৯ই নভেম্বও থেকে অভিবাসন ও শুল্ক পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করা হবে। বহুদিন ধরেই যাত্রীরা এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বর্তমানে সীমান্তবর্তী ভারতের গেদে এবং বাংলাদেশের দর্শনা স্টেশনে এই পরীক্ষার কাজ হয়। ফলে দুই ধারে পরীক্ষার জন্য তিন ঘèারও বেশি সময় ব্যয় হয়। যে কারণে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হন। প্রথম দিকে অবশ্য প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় ব্যয় হতো। পরবর্তী সময়ে দু’দেশের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সময় কমিয়ে আনেন। কিন্তু ট্রেন যাত্রার মাঝপথে তিন ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় বলে যাত্রীরা বিভিন্ন সময়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দু’দেশের সরকারের কাছে বিষয়টি বিবেচনার জন্য তোলা হয়েছিল। তবে দুই প্রান্তিক স্টেশনে পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্যই বারে বারে তারিখ চূড়ান্ত করেও তা পিছিয়ে দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব রেলওয়ের এক কর্তা ব্যক্তি। বর্তমানে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে ছয় দিনই মৈত্রী এক্সপ্রেস চলছে। ট্রেনের টিকিটের চাহিদাও বেড়ে গিয়েছে। ফলে অনেককেই টিকিট পেতে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে কলকাতার ফেয়ারলি প্লেস ছাড়া অন্য কোনও জায়গায় মৈত্রী এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি না হওয়ায় যাত্রীরা বিভিন্ন সময়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

MD.mosharof hossain

২০১৭-১১-০১ ০৩:১৪:৪৩

Very good distinction.

আপনার মতামত দিন