গণমাধ্যম-সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্ক নিয়ে সেমিনার

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ অক্টোবর ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৫
সামরিক বাহিনী কিভাবে গণমাধ্যমের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে জনগণের কাছে তথ্য পাঠাবে তা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ গণমাধ্যম এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে টানাপড়েন তৈরি হলে তা জনমনে সংশয় সৃষ্টি করে। গণমাধ্যম-সশস্ত্র বাহিনীর সমপর্কের উপরেই মূলত জনগণ এবং মিলিটারির মধ্যকার সমপর্ক নির্ভর করে। এ সমপর্ক সুদক্ষভাবে পরিচালনা করা গেলে তা রাষ্ট্রীয় এবং জাতীয় লক্ষ্যপূরণে তাৎপর্যপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। গতকাল ‘গণমাধ্যম ও সশস্ত্র বাহিনী- ধারণা ও বাস্তবতা: প্রেক্ষিত  বাংলাদেশ’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তনু হত্যায় কেউ জড়িত থাকতে পারে। তবে তাকে বিধি-বিধানের আওতায় নিয়ে আসলে বিতর্কের সুযোগ থাকে না। সাংবাদিকদের মধ্যে দুই একজন দায়িত্বহীন হতে পারে, তবে সবাই দায়িত্বহীন সাংবাদিকতা করে না। কোনো প্রতিষ্ঠানেই সকলে খারাপ নয়। তিনি বলেন, তথ্য গোপন করা যাবে না। তথ্য গোপন করলে গুজবের উপর ভিত্তি করে অপপ্রচার হতে পারে। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন এনডিসি কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেইলি স্টার পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহেদুল আনাম খান (অব.), মেজর জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফারজানা ব্রাউনিয়া। এনডিসি কমান্ড্যান্ট তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যম ও সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্ক অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পারস্পরিক আস্থাহীনতা, একে অন্যের পেশা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব, কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে অমূলক ভীতি, কড়াকড়ি প্রতিরক্ষা নীতিমালা এবং আভিযানিক গোপনীয়তার অপরিহার্যতা বিষয়ে মিডিয়ার অজ্ঞতা। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে, সত্যিকার অর্থে এ থেকে সে সময়কার গণমাধ্যম ও সামরিক খাতের মধ্যকার সমপর্ক নিয়ে কোনো সুসপষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। যদিও শুরুর দিকে গণমাধ্যম এবং সামরিক খাতের পারসপরিক সমপর্কের বিষয়টি খুব তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়নি। তবে ধীরে ধীরে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। সে কারণেই গণমাধ্যমের সঙ্গে সমপর্ক আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আইএসপিআর-এর মতো একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহেদুল আনাম খান বলেন, গণমাধ্যম হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা। গণমাধ্যম জনগণকে অধিক তথ্য জানাতে সবসময়ই আগ্রহী। অপরদিকে সামরিক বাহিনী যথাসম্ভব কম প্রচার করতে চায়। এটাই বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের গণমাধ্যম ও সামরিক বাহিনীর সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য। গণমাধ্যম-মিলিটারি সমপর্কের উপরেই মূলত জনগণ এবং মিলিটারির মধ্যেকার সমপর্ক নির্ভর করে। এ সমপর্ক সুদক্ষভাবে পরিচালনা করা গেলে তা রাষ্ট্রীয় এবং জাতীয় লক্ষ্যপূরণে তাৎপর্যপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আমি বিশ্বাস করি, এ দুটি পক্ষ পরসপরের মধ্যে সমঝোতাপূর্ণ বাধ্যবাধকতা বজায় রাখলে অবশ্যই যে কোনো ধরনের সংঘাত এড়ানো যায়। মেজর জেনারেল সারওয়ার হোসেন বলেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যে কাজ করছে গণমাধ্যম এর উপর আরো অধিক ভূমিক রাখতে পারে। কয়েক দশক ধরে সেনাবাহিনী এখানে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অথচ গণমাধ্যমে তার তেমন প্রতিফলন নেই। ফলে জনগণ সেনাবাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারছে না। অনুষ্ঠানে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফারজানা ব্রাউনিয়া বলেন, সেনাবাহিনী কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সেবায় দিনরাত যে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে গণমাধ্যমে তার প্রতিফলন নেই। তিনি বলেন, আইএসপিআর-এর সিদ্ধান্ত প্রণয়ন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে অনেক সময় তাদের সিদ্ধান্ত প্রকাশে বেশি সময় লাগে। এই বিলম্বের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই জনসাধারণ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দূরত্ব এবং ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। কারণ সবাই এখন দ্রুত তথ্য পেতে চায়। এর ব্যত্যয় ঘটলে মানুষ ফেসবুক, অনলাইন এবং ইউটিউবের মতো অনির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যমের শরণাপন্ন হয়ে ভয়াবহ তথ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এর আগে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী সেমিনারের উদ্বোধন করেন। সেমিনারে বিশিষ্ট ব্যক্তি, দেশি-বিদেশি উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহের ২৮ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাসহ ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সের ৮০ জন এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের ৩৫ জন প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তা সেমিনারে অংশ নেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিএনপিকে ভোট দিয়ে অশান্তি ফিরিয়ে আনবে না জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

অভিযোগ মিথ্যা এতিমখানার টাকা আত্মসাৎ করিনি

আরো ব্লগার হত্যার হিটলিস্ট

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, অতঃপর...

ফের বেড়েছে বিদ্যুতের দাম

চাহিদা নেই, তবুও রাজউকের নতুন ফ্ল্যাট প্রকল্প

‘আনিসুল হককে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা ভিত্তিহীন’

মৌলভীবাজারে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ভিডিএন চেয়ারম্যান ও এমডি

সিলেটে জামায়াতের ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’, জল্পনা

সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

রোহিঙ্গা জাতি নিধনের তুমুল সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রের

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

যশোর জেলা স্পেশাল জজের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার না করতে বলা হলো পোপকে

অসুস্থ রাজনীতি বাংলাদেশকে গ্রাস করছে: ড. কামাল হোসেন