নি র্বা চ নী হা ল চা ল, টাঙ্গাইল- ৪

গলার কাঁটা লতিফ সিদ্দিকী

শেষের পাতা

শাহীন আলম, কালিহাতী (টাঙ্গাইল) থেকে | ১৩ অক্টোবর ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৫৫
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী গণসংযোগ করছেন। তবে কালিহাতী উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৪ আসনে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র গলার কাঁটা হিসেবে দেখছেন নির্বাচন বোদ্ধারা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা বেশ আগে থেকেই গণসংযোগ করছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কুশলবিনিময়, নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার ও লিফলেট সেঁটে জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন । আর তৃণমূল নেতাদের সমর্থন ও কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পেতে লবিংও চালাচ্ছেন।
টাঙ্গাইল-৪ আসনটি বরাবরই ভিআইপি আসন হিসেবে চিহ্নিত।
এ আসনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইলের সংগঠক আবদুল লতিফ সিদ্দিকী উভয়েই রাজনীতির মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছেন। এদের মধ্যে শাজাহান সিরাজ অসুস্থতাজনিত কারণে রাজনীতিতে নীরব এবং আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নিউ ইয়র্কে হজ নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের কারণে মন্ত্রিত্ব হারান, দল থেকে বহিষ্কৃত হন এবং সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
সূত্রমতে, ১৯৭৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ৩ বার, বিএনপি প্রার্থী ৩ বার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী একবার, জাসদ (সিরাজ) প্রার্থী একবার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার জয়লাভ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, এরপর ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ আসনে যিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তাঁর দলই সরকার গঠন করেছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর পদত্যাগের পর উপ-নির্বাচনে এমপি হয়েছেন হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী। এমপি হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীর সঙ্গে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলামের সহযোগিতায় উপজেলা আওয়ামী লীগের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে। সাংগঠনিক কোন কর্মকাণ্ডের খবর পেলে উভয়েই উপস্থিত হন।
সংসদ সদস্য সোহেল হাজারী আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। দলীয় মনোনয়নও তিনিই পাবেন- এমন বিশ্বাস তাঁর কর্মী-সমর্থকদের। সোহেল হাজারী প্রতি সপ্তাহের ২-৩দিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এলাকার মানুষের খোঁজ-খবর নেন। সময়-অসময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন, কুশলবিনিময় করেন। মাথায় টুকরি নিয়ে নিজেই উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একজন সাধারণ মানুষের মতো মাছ ধরেন। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে এসএ গ্রুপের পরিচালক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সদস্য ও কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী, এফবিসিসিআই’র পরিচালক আবু নাসের গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী বিভিন্ন এলাকায় দু’হাতে দান-খয়রাতও করছেন। বিশেষ করে, এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে তিনি প্রায় সব সময় ছিলেন-ব্যক্তি উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য ত্রাণ বিতরণও করেছেন।
টাঙ্গাইল-৪ আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক শাজাহান সিরাজের স্ত্রী বেগম রাবেয়া সিরাজ, লুৎফর রহমান মতিন, মো. শাফি খান ও বেনজীর আহম্মেদ টিটুর রয়েছে নিজ নিজ গ্রুপ। ২০০৮ সালে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শিল্পপতি লুৎফর রহমান মতিন পরাজিত হলেও ভোট পান ৮৬ হাজার ৯১২টি। কিন্তু নির্বাচনের পরই তিনি দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। সরকার বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে পাশে পাননি। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি লুৎফর রহমান মতিনের সঙ্গে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজের সহধর্মিণী বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য বেগম রাবেয়া সিরাজের দ্বন্দ্ব রয়েছে। আগামী নির্বাচনে বেগম রাবেয়া সিরাজ বা তার ছেলে রাজীব আহমেদ (অপু সিরাজ) দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। উপজেলা বিএনপি’র একটি অংশ মনে করে, শিল্পপতি লুৎফর রহমান মতিন ব্যবসায়ী হলেও কালিহাতী বিএনপি’র রাজনীতিতে তার প্রয়োজন রয়েছে, তিনিই বিএনপি দলীয় প্রার্থী। এছাড়া মালয়েশিয়া বিএনপি’র সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান খান বাদল, সাবেক ছাত্র নেতা বেনজীর আহম্মেদ টিটু, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল হালিম, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কৃষিবিদ এসএমএ খালিদ দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় এলাকায় গণসংযোগ করছেন। এ আসনে জেলা জাতীয় পার্টির অর্থবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোস্তাক আহম্মেদ রতন দলীয় প্রার্থী।
টাঙ্গাইল-৪ সংসদীয় আসনের ১৩ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় মোট ভোটার ?দুই লাখ ৯০ হাজার ৫৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ৪৬ হাজার ৮০০ এবং পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৩ হাজার ২৫৫ জন।
আগামী নির্বাচনে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর ভূমিকা কি হয় তা নিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র মধ্যে আলোচনা। তিনি কি নির্বাচন করবেন? নাকি অন্য কাউকে সমর্থন দেবেন? কোনোটাই খোলাসা নয়। দীর্ঘদিনের এমপি-মন্ত্রী হিসেবে এখানে রয়েছে লতিফ সিদ্দিকীর একটা প্রভাব। আর তিনি যদি নির্বাচন করেন কিংবা অন্য কাউকে সমর্থন দেন তাহলে পাল্টে যেতে পারে সকল হিসাব-নিকাশ। আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই শিবিরেই তিনি গলার কাঁটা হিসেবে দেখা দিতে পারেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন