রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুক্রবার আবার নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ অক্টোবর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:৩১
রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আবারো বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। শুক্রবার অনুষ্ঠেয় এই বেঠকটি হবে অনানুষ্ঠানিক ও রুদ্ধদ্বার। এতে নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য, আঞ্চলিক দেশগুলো ও সংগঠনগুলোকে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে চ্যানেল নিউজ এশিয়া। এতে বলা হয়, ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সম্পর্কে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের বক্তব্য শোনা হবে। এতে কফি আনানেরও উপস্থিত থাকার কথা।
তার নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নৃশংসতার বিষয়ে তদন্ত করে একটি রিপোর্ট দেয় আগস্টের শেষে। তাতে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দেয়ার সুপারিশ করা হয়। বলা হয়, তাদের ওপর সেনাবাহিনী কঠোর নির্যাতন করেছে। ওই রিপোর্ট সময়কে কেন্দ্র করে ২৫ শে আগস্ট সৃষ্টি করা হয় রাখাইনে সহিংসতা। শুক্রবারের ওই বৈঠকে কফি আনান বা তার কমিশনের মুখ থেকে নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুর্ভোগের বিষয়ে বিস্তারিত শুনতে চায়। এর আগেও দু’দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তবে সর্বশেষ জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সময়ে শুধু রোহিঙ্গা ইস্যুতে উন্মুক্ত বিতর্ক হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদে। ওই বিতর্কের পর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধ দেয়া হতে পারে বলে আন্দাজ করা হলেও শেষ পর্যন্ত কিছুই হয় নি। শুধু উদ্বেগ জানানো হয়েছে। দাবি তোলা হয়েছে অবরোধের। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কিছুই হয় নি। ফলে শুক্রবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ফল কি তা অনুমান করা কঠিন। এ দিনই রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করতে চার দিনের সফরে মিয়ানমার আসার কথা জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা জেফ্রে ফেল্টম্যানের। জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, উদ্ভুত পরিস্তিতিতে করণীয় নির্ধারণে মিয়ানমারের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন জেফ্রে। উল্লেখ্য, ২৫ শে আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা)র হামলার জবাবে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন শুরু করে। জ্বালিয়ে দেয় গ্রামের পর গ্রাম। গুলি করে, কুপিয়ে, হাত পা কেটে, গলা কেটে হত্যা করে অসংখ্য মানুষকে। মা-বাবা সহ পরিবারের সদস্যদের সামনে গণধর্ষণ করে কিশোরী বা যুবতী মেয়েকে। এরপর তাকে তাদের সামনে গলা কেটে হত্যা করে। সন্তানের সামনে মাকে ধর্ষণ করে। এমন নৃশংসতায় জীবন বাঁচাতে সব কিছু ছেড়ে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে কমপক্ষে ৫ লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করে বাংলাদেশে। তাদেরকে মানবিকতায় আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ। জাতিসংঘ এ ঘটনাকে জাতি নিধন বলে এর নিন্দা জানিয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। পুড়ে শেষ হয়ে যাওয়া রাখাইনে সাহায্য গোষ্ঠীর পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার দিতে বলেন। পাশাপাশি পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদে দেশে ফেরত নেয়ার পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

S.M Nazrul Islam

২০১৭-১০-১২ ১১:০৭:১৭

ভিক্টিমরা যেহেতু মুসলমান সেহেতু জাতিসংঘের বৈঠকে কার্যকর কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবেনা।

আপনার মতামত দিন