রোহিঙ্গাদের ফেরাতে হবে

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৩৩
রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার জন্য মিয়ানমারকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমারকে আমরা বলেছি, রোহিঙ্গারা আপনাদের নাগরিক, তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাদেরকে নিরাপদ রাখতে হবে। তাদের আশ্রয় দিতে হবে। তাদের ওপর জুলুম-অত্যাচার চলবে না। তিনি বলেন, মানবিক কারণে নির্যাতিতদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ খাবার পাচ্ছে।
প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এই খাবার ভাগাভাগি করে খাব।  গতকাল নিউ ইয়র্কের মেরিয়ট মার্কুইস হোটেল বলরুমে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ আশাপ্রদ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং দেশটি এখন বিশ্বে একটা মর্যাদার আসনে রয়েছে। এই বিষয়টি বিদেশে তুলে ধরা প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী একই সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আগামী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করারও আহ্বান জানান।  তিনি বলেন, আপনারা দেশে যান এবং আমাদের উন্নয়নের কথা প্রচার করুন। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার জন্য জনগণকে বুঝাতে আমাদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা ব্যাপকভাবে প্রচার করতে আপনাদেরকে তাদের কাছে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা সর্বদা সকল সংকটে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তাদের অবদান অব্যাহত রেখেছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক চন্দন দত্ত ও আবদুর রহিম বাদশা, নিউ ইয়র্ক শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন, স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মমতাজ শাহনাজ, সদস্য রেজাউল করিম চৌধুরী এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতিগণ বক্তব্য রাখেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
গত ৮ বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সময়ে দেশের যে অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে তা নজিরবিহীন। তিনি বলেন, যেহেতু দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার একমাত্র হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষা, সেজন্য তার সরকার শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। 
‘ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা’ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বছরের শেষদিকে মহাকাশে নিজেদের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। তিনি বলেন, নগর ভিত্তিক উন্নয়নের পরিবর্তে তাঁর সরকার গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে প্রত্যেক বাড়ি বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ সীমাহীন দুর্নীতি ও দুঃশাসনের মধ্যে নিমজ্জিত হবে’। অনেক রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের মুক্তি ও অধিকার আদায়ের জন্য জাতির পিতা তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। একমাত্র বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করার জন্য বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের সকল সুখ ও আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর দেশ যখন সম্পূর্ণ ধ্বংসযজ্ঞ গুদামে খাদ্য সংকট, যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল ও সরকারি কোষাগার প্রায় শূন্য, তখন বঙ্গবন্ধু দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ৯ মাসের মধ্যে একটি সাবেক প্রদেশ মর্যাদার দেশকে সার্বভৌম দেশ হিসেবে পরিণত করার জন্য সংবিধান ও বেশির ভাগ অবকাঠামো নির্মাণসহ প্রয়োজনী সকল আইন ও নীতি নির্ধারণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বল্প সময়ের মধ্যে যে ব্যাপক কাজ করেছেন, তা কোন রাজনৈতিক নেতার পক্ষে সম্ভব ছিল না। প্রশাসনিক দক্ষতা, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের চেতনায় বঙ্গবন্ধু তাঁর দায়িত্ব পালন করে জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হতে ওআইসি’র প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: মিয়ানমারে দুর্দশাগ্রস্ত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হতে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)’র প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ফোরামের যেকোনো উদ্যোগে যোগ দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনের ফাঁকে গতকাল (যুক্তরাষ্ট্র সময় মঙ্গলবার) দিনের শেষদিকে এখানে ইউএনজিএ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা বিষয়ে ওআইসি’র কন্ট্রাক্ট গ্রুপকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংকট সমাধানে আপনাদের ঐক্য প্রদর্শন করুন। তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সামরিক অভিযানে মুসলিম ভাই ও বোনেরা জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি হওয়ায় রোহিঙ্গাদের সর্বকালের সবচেয়ে বৃহত্তম দেশত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী ওআইসি নেতাদের অবহিত করেন যে, গত ২৫শে আগস্টের পর থেকে স্থল ও নদীপথে সীমান্ত অতিক্রম করে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে, এদের ৬০ শতাংশই শিশু। এটি একটি অসহনীয় মানবিক বিপর্যয়। আমি নিজে তাদের অবস্থা পরিদর্শন করেছি এবং আমি তাদের বিশেষ করে নারী ও শিশুর ভয়ঙ্কর দুঃখ-দুর্দশার ঘটনার বর্ণনা শুনেছি। আমি আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি এবং এখানে এসে মিয়ানমারের বর্বরতার ব্যাপারে তাদের কাছ থেকে শুনুন। তিনি বলেন, মিয়ানমার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে প্রচারণা চালাচ্ছে, অবশ্যই তা বন্ধ করতে হবে এবং দেশটিকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো পর্যন্ত ভ্রাতৃপ্রতীম মুসলিম দেশগুলো থেকে বাংলাদেশকে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। অন্যান্যের মধ্যে ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসেফ আল ওথাইমেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের নির্মমতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে অবশ্যই তাদের স্বদেশে ফেরত নিতে হবে। তিনি নিরপরাধ নাগরিক বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের সুরক্ষা দিতে মিয়ানমারের ভেতরে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরির প্রস্তাব দেন এবং ‘অনতিবিলম্বে নিঃশর্তভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে’ কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গারা ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী’ মিয়ানমারের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সমস্ত ঐতিহাসিক দলিল প্রমাণ করে যে রোহিঙ্গারা কয়েক শতাব্দী ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাস করে আসছে। মিয়ানমার পরিকল্পনা মাফিক সংগঠিত ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের তাদের পৈতৃক নিবাস থেকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করছে এবং নিকট অতীতে তারা দেশের স্বীকৃত সংখ্যালঘু গ্রুপের তালিকা থেকে প্রথম রোহিঙ্গাদের বাদ দেয়। তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয় এবং পরে তাদের নিজ দেশে ইন্টারনালি ডিসপ্লেস পার্সন’স (আইডিপি) ক্যাম্পে পাঠানো হয়। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ‘জাতিগত নিধনের’ অবসান দেখতে চায়। ‘মুসলিম ভাই-বোনদের দুর্দশার অবসান হওয়া দরকার। এই সংকটের মূলে মিয়ানমার এবং মিয়ানমারেই এর সমাধান পাওয়া যাবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ওআইসি’র ঘোষণা নেতানিয়াহু’র প্রত্যাখ্যান

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন

ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা

গাজীপুরে মসজিদের ভেতর নৈশ প্রহরীকে গলা কেটে হত্যা

‘প্রেম’ করে বিয়ে, চাকরি হারালেন শিক্ষক দম্পতি

চবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির সত্যতা মিলেছে

প্রশ্ন ফাঁস হতো প্রেস থেকে

আবাসিক এলাকায় রাতে হর্ন বাজানোয় নিষেধাজ্ঞা

‘বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনে বাধা নেই’

কুয়ালালামপুরে গ্রেপ্তার ২ ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা

জামিনে আপন জুয়েলার্সের তিন মালিক

নারী সহশিল্পীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয় আমাকে

বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করার আবেদন প্রত্যাখ্যাত ইন্দোনেশিয়ায়

প্রথম ১ মাসে ৬৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমার, বাংলাদেশ সফরের আহ্বান

৪ সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ভূমিমন্ত্রীপুত্র কারাগারে