তসলিমা নাসরিন বললেন

‘সব মুসলিম, সব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নন’

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার
সব মুসলিমও সন্ত্রাসী নন। সব রোহিঙ্গাও সন্ত্রাসী নন। তাদের কেউ কেউ হতে পারেন সন্ত্রাসী। বাংলাদেশ যদি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে পারে তাহলে ভারত কেন পারবে না, ভারতেরও পারা উচিত। এ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বহুল বিতর্কিত ও নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ভারতের অনলাইন নিউজ ১৮’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, ভারতে আশ্রয় নেয়া প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তাদেরকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। এসব নিয়ে তসলিমা নাসরিনের ওই সাক্ষাতকার নেন সাংবাদিক ইরম আগা। তিনি তসলিমার কাছে জানতে চান, ভারত সরকার মনে করে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই তাদেরকে ফেরত পাঠানো উচিত। আপনি কি মনে করেন মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত হওয়া এসব রোহিঙ্গার আশ্রয় দীর্ঘায়িত করা উচিত? এ প্রশ্নের জবাবে তসলিমা বলেন, সরকার যদি রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে তাহলে এটা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আমি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো তাদের এ সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনা করতে। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্যও নিরাপত্তা হুমকি। কিন্তু বাংলাদেশ তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে। আমি এ কথা বলছি এ জন্য যে, সব সময়ই আমি নির্যাতত মানুষের কথা বলি। নারী নির্যাতিত হলে আমি তার পক্ষ নিই। আমি তাদের অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়াই। বাংলাদেশে কোনো হিন্দু নির্যাতিত হলে আমি তাদের পক্ষে দাঁড়াই। ফিলিস্তিন, বসনিয়া, গুজরাটে কোনো মুসলিম নির্যাতিত হলে আমি তাদের পক্ষ নিই। পাকিস্তানে যখন কোনো খ্রিস্টান নির্যাতিত হন তখন আমি তাদেরও পক্ষ নিই। আমি বিভিন্ন ধর্মের সমালোচনা করি। কারণ, আমি এগুলোকে নারীর অধিকার, মানবাধিকার, মুক্ত মত প্রকাশের বিরোধী। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তসলিমা বলেন, সব মুসলিম সন্ত্রাসী নন। সব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নন। তাদের কেউ কেউ সন্ত্রাসী। তবে আমি বিশ্বাস করি যদি তারা ভারতে বসবাস করেন তাহলে বাংলাদেশ বা পাকিস্তান যতটুকু করতে পারে তার চেয়ে বেশি সন্ত্রাস চেক দিতে পারে ভারত সরকার। এ জন্যই ভারত একটি গণতান্ত্রিক এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় শক্তিশালী। এ অঞ্চলে ভারতের ক্ষমতা আছে। ভারত সরকার যদি সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করতে পারে তাহলে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারে। আমার মনে হয় এখন বাংলাদেশে ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আছেন। তাদের মধ্যে কোনো রকম সন্ত্রাসী কর্মকা- চেক দেয়া আমার মনে হয় সম্ভব নাও হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। এ পর্যায়ে তসলিমার নাসরিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়Ñ অল ইন্ডিয়া মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিন নেতা আসাদুদ্দিন ওয়েইসি প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যদি তসলিমা নাসরিন ভারতে থাকতে পানে তাহলে রোহিঙ্গারা কেন নয়? যদি তসলিমা আপনার বোন হতে পারেন তাহলে রোহিঙ্গারা কেন আপনার ভাই হতে পারেন না? এই বিবৃতির বিষয়ে আপনি কি বলবেন? জবাবে তসলিমা বলেন, আমি জানি না ওই ব্যক্তির দিকে এত গুরুত্ব দেয়ার কি আছে। তিনি লোকজনকে সন্ত্রাসী বানিয়ে তোলেন। ২০০৭ সালে তার লোকজন আমার বিরুদ্ধে কলকাতায় নেমেছিল। তারা আমার বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন। আমাকে হত্যার জন্য অপরিসীম অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এসব আমি সব সময়ই ভারতীয় মিডিয়ায় দেখি। শিক্ষিত লোকজন, যারা মানবাধিকার, নারী অধিকার ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ভিতর মুক্ত মক প্রকাশের গুরুত্ব দেন তাদেরকে বাদ দিয়ে কেন যে এসব মানুষকে গুরুত্ব দেয়া হয়। আমার মনে হয় তারা আজেবাজে কথা বলেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

গণেশ হালদার

২০১৭-০৯-২০ ১০:১৮:৫৮

তসলিমার কথাও সঠিক। সকল মানুষইএক।

ফজলু

২০১৭-০৯-২০ ০১:৫২:৪৮

তসলিমার নিউজ ছাড়া কি কোন খবর নাই

আপনার মতামত দিন

‘অভিযোগ কাল্পনিক ও বানোয়াট’

মইনকে আশ্বস্ত করেছিলেন প্রণব

ব্লু হোয়েল গেম জায়েজ নয়

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন চায় জেপি

রোহিঙ্গাদের দেখতে আসছেন জর্ডানের রানী

পেপ্যাল ‘জুম’ সার্ভিস বাংলাদেশে

হাওরে সরকারি প্রকল্পে লুটপাট হয়েছে

প্রার্থী নিয়ে নির্ভার আওয়ামী লীগ-বিএনপি

গণমাধ্যম-সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্ক নিয়ে সেমিনার

সিলেটে ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত, সেক্রেটারিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

খালেদা জিয়ার পুরো জবানবন্দি

বরিশালে বিচারকের ভূমিকায় বেঞ্চ সহকারী, তোলপাড়

গাজীপুরে প্রাক্তন তিন সেনা সদস্যসহ ৪জন গ্রেপ্তার

খান আতা ইস্যুতে এফডিসিতে চলচ্চিত্র পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আদালত অঙ্গনে খালেদার আইনজীবীদের হাতাহাতি

বন্যায় ৩০ শতাংশ ধান উৎপাদন কম হতে পারে