বাবা-মাকে ছাড়াই বাংলাদেশে তেরোশো রোহিঙ্গা শিশু

অন্য গণমাধ্যমের খবর

বিবিসি বাংলা | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৫৩
তেরোশোরও বেশি রোহিঙ্গা শিশুর সঙ্গে বাবা-মা বা আত্মীয়রা কেউ নেই
জাতিসংঘের একটি সংস্থা ইউনিসেফ বলছে মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্তত ১ হাজার তিনশো শিশুকে এ পর্যন্ত চিহ্নিত করা হয়েছে যারা বাবা-মা বা কোনও আত্মীয় স্বজনকে ছাড়াই বাংলাদেশে এসেছে।

সাহায্য সংস্থাগুলো ধারণা করছে এসব শিশুর বাবা-মার দুজনকেই অথবা বাবাকে মিয়ানমারে মেরে ফেলা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নিপীড়নের মুখে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা চার লাখ পেরিয়েছে কদিন আগেই।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনারের হিসেব মতে প্রতিদিনই গড়ে দশ থেকে পনের হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে, যার একটি বড় অংশই শিশু।

এখন জাতিসংঘ বলছে তাদের সাথে কক্সবাজারে কাজ করছে এমন সাহায্য সংস্থাগুলোর হিসেবে এখন পর্যন্ত এক হাজার তিনশোর বেশি শিশুকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা বাংলাদেশে এসেছে বাবা-মা বা আত্মীয় স্বজন ছাড়াই।

ইউনিসেফের একজন কর্মকর্তা মাধুরী ব্যানার্জি বলছেন, "আজ পর্যন্ত ১৩১২ জন শিশুকে পাওয়া গেছে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অর্থাৎ পিতা মাতা বা স্বজনদের ছাড়া। তাদের সহায়তার চেষ্টা করছি আমরা। মানসিক বা ট্রমা থেকে তারা যেন বেরিয়ে এসে স্বাভাবিক হতে পারে সে চেষ্টা করা হচ্ছে"।

ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা বলছেন এসব শিশুরা নিজের কিংবা পরিচিত না হলেও কোনও না কোনও পরিবারের সাথেই বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাই সেখানে রেখেই তাদের সহায়তার চেষ্টা করছেন তারা।
মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের একজন মোহাম্মদ নুর বাংলাদেশে এসেছিলেন অনেক আগেই। তিনি বলছেন এসব শিশুদের বাবা মাকে মিয়ানমারের সেনারা মেরে ফেলেছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সংস্থার হিসেব অনুযায়ী এ দফায় নতুন করে আসা শিশু সংখ্যা দু লাখেরও বেশি।

স্থানীয় একটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধুরী বলছেন তার ধারণা যতো শিশু এসেছে তার প্রায় অর্ধেকের সাথেই বাবা নেই।

"অন্তত ৪০ শতাংশ আসছে অভিভাবক ছাড়া। তবে কেউ কেউ আসছে শুধু মায়ের সাথে বা দাদির সাথে", বলছেন তিনি।

কক্সবাজারের রেড ক্রেসেন্টের কর্মকর্তা সেলিম মাহমুদ বলছেন বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা নারীদের অনেকেই তাদের জানিয়েছেন যে তারা সাথে করে এমন অনেক শিশুকে এনেছেন যাদের পরিবারের সদস্যদের তারা আসার সময় খুঁজে পাননি।

সাহায্য সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন এ দফায় পরিবার ছাড়া অন্যদের সাথে আসা এমন অনেক শিশুকে পাওয়া গেছে যাদের বয়স মাত্র তিন কিংবা চার বছরের মধ্যে।

সঙ্গত কারণেই এসব শিশুদের অভিভাবকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে সেটি তারা কিংবা তারা যাদের সাথে বাংলাদেশে এসেছে তারাও ঠিক মতো বলতে পারছে না।।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ছাত্রদের সঙ্গে একই হলে থাকার দাবিতে আন্দোলনে ছাত্রীরা

সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সচিব অনু আর নেই

আইন ও জবাবদিহিতার উর্ধ্বে নই আমরা: মেয়র নাছির

ডাকাতি হওয়া ১১৮ বস্তা চাল মুন্সীগঞ্জে উদ্ধার

‘ক’ ইউনিটে ২৩.৩৭ ও ‘চ’ ইউনিটে ২.৭৫ শতাংশ উত্তীর্ণ

আফগানিস্তানে সিরিজ হামলায় নিহত ৭৪

কায়রো মেয়েদের জন্য সবচেয়ে ‘বিপজ্জনক শহর’

মুসলমানের মতো দেখা যায় তাই...

‘চীন ও রাশিয়ার অবস্থান আগের চেয়ে পরিবর্তন হয়েছে’

ভোলায় যাত্রীবাহি বাস খাদে, নিহত ১

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ সহ্য করা হবে না

চট্টগ্রামে মহাসড়কের পাশে নারীর লাশ

চট্টগ্রামে হোটেলে জুয়ার আসর, ব্যবস্থাপকসহ আটক ৬২

‘আওয়ামী লীগ ইসিকে স্বাধীনতা প্রদান করেছে’

বাংলাদেশেও সেখানকার মতো বিচার ব্যবস্থা দেখতে চান