রাখাইন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২১
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) এএনএন মনিরুজ্জামান রোহিঙ্গা সংকটের একটি ছবি এঁকেছেন। তার মতে, যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চল আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের একটি কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। মানবজমিনকে তিনি বলেন, সর্বশেষ যে খবরাখবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে মনে হয় এই সংকট আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।  
তিনি বলেন, বর্তমানে রাখাইন প্রদেশ থেকে যে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এবং ইতিমধ্যেই এর আগেও প্রায় পাঁচ লাখের উপরে শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। এই শরণার্থী আসার কারণে সে অঞ্চলে যে  ব্যবস্থাপনাটা করা উচিত ছিল সেটা দুরূহ হয়ে পড়েছে এবং সেটা করা সম্ভব হচ্ছে না। এখানে যেটা আশঙ্কা করা যাচ্ছে যে, বর্তমানে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপরে যে ধরনের মানবিক অত্যাচার করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে তাদের যে বিতাড়ন করা হচ্ছে, তাড়িয়ে বের করা হচ্ছে তার কারণে এখানে বেশ কিছুসংখ্যক লোক দিয়ে তারা একটা রেজিটেন্স গ্রুপ চালু করেছে। তার নাম আরসা- আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি। এর আগে আমরা দেখেছি হারাকাল আল ইয়াকীন নামে একটা সংগঠন সৃষ্টি করেছিল। বর্তমানে আরসা সৃষ্টি করার পরে হারাকাল আল ইয়াকীন তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে একসঙ্গে কাজ করছে। গত ২৫শে আগস্টে সেখানে তারা প্রায় ৩০ টি পুলিশ ফাঁড়ির ওপর মিয়ানমারের ভেতরে অভিযান চালায় এবং তারা অনেকক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে সে অভিযান চালাতে সক্ষম হয়েছিল মুন্ডু এলাকাতে এবং দু’টি পুলিশ ফাঁড়ি ছাড়াও দু’টি সেনা ছাউনিতেও  আক্রমণ চালায়। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, তাদের সক্ষমতা বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা বিশ্লেষণে দেখতে পাচ্ছি, তাদের যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা সৌদি আরবে অবস্থান করছে এবং অন্যান্য যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে মধ্যপর্যায়ে ও নিম্নপর্যায়ে তারা আঞ্চলিকভাবে ইন্দোনেশিয়া, মালেয়শিয়া ও পাকিস্তান- বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা প্রশিক্ষণও লাভ করেছে। কাজেই দেখা যাচ্ছে যে, এই সংগঠকটি বা গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে তা শুধু সন্ত্রাসের আঞ্চলিকভাবে না,  আন্তর্জাতিকভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ স্থাপন করছে এবং সৌদি আরব থেকে যে তাদের প্রাথমিক অর্থের প্রয়োজন ছিল সেটাও পেয়েছে। ইদানীং যেটা আরো উদ্বেগের বিষয় হয়েছে যে, বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের সঙ্গে বিদেশি যোদ্ধারা একাত্মতা প্রকাশ করছে। আমরা ইতিমধ্যে দেখতে পেয়েছি চেচেন যোদ্ধারা তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এবং বলেছে এই কজের জন্য তারা এখানে এসে সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে চায়। ইদানীংকালে ইন্দোনেশিয়া থেকে বেশকিছু ভিডিও বিভিন্ন সংস্থা রিলিজ করেছে এবং দেখা যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার কিছু আচে অঞ্চল ও অন্যান্য অঞ্চলে বেশকিছু জায়গায় ক্যাম্প স্থাপন করে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এই সংগ্রামের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত হতে চাচ্ছে, সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে চাচ্ছে তারা সেখান থেকে সংঘবদ্ধ হয়ে আবার এখানে এসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে চায়। আমরা দেখেছি যে, দায়েশের পক্ষ থেকে এর আগেও তাদের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছিল। বর্তমানে যখন দায়েশের যোদ্ধারা সিরিয়া এবং ইরাক থেকে চাপের মুখে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে তারা অনেকে নতুন একটা জায়গাতে এসে যুদ্ধ করার জন্য আবার সম্পৃক্ত হতে চেষ্টা করবে এবং করছেও। কাজেই সার্বিকভাবে যদি আমরা বিশ্লেষণ করি বর্তমানে যে পরিস্থিতি হয়েছে রাখাইনে, সেটা একটা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হওয়ার জন্য খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে সেদিকে। এবং সেটা যদি হয় তাহলে আমাদের সীমান্তের কাছাকাছি একটা সন্ত্রাসের পরিমণ্ডল যদি নতুন করে স্থাপন হয়, সেটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি এবং চ্যালেঞ্জ। এছাড়া যে ধরনের সীমান্ত আমাদের সঙ্গে মিয়ানমানের রয়েছে যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ একপার থেকে অপর পারে অবাধে চলাফেরা করতে পারে, সেখানে বড় আশঙ্কা করা যাচ্ছে যদি রাখাইন প্রদেশে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে থাকে তাহলে হয়তো তার বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশের ভেতরে সরাসরি এসে পড়বে। সবকিছু মিলিয়ে বলতে চাই যে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের যে ধরনের আশঙ্কা করা যাচ্ছে রাখাইন প্রদেশে জন্ম নেয়ার এবং আমাদের সীমান্তে যে অরক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, তা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Shapon Jamaddar

২০১৭-০৯-১৩ ১৪:৫৯:৩৩

না ,রাখাইন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রে পরিণত হবে না। রাখাইন থাকবে ছিন্নভিন্ন । রাখাইনকে উদ্দেশ্য করে সমগ্র মায়ানমারকে সঙ্কুচিত জীবনযাপন করতে হবে । {প্রতিটা দুর্ঘটনার প্রতিক্রিয়ার চেয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অধীক বেশি শক্তিশালী} (স্বপন জমাদ্দার)

sujan ahmed

২০১৭-০৯-১৩ ১১:৩৫:৫৮

r8

আপনার মতামত দিন