হাওরপাড়ে বাড়ছে চোরের উপদ্রব

বাংলারজমিন

সুনামগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
হাওরপাড়ের গ্রামগুলোতে বেড়েছে চোরের উপদ্রব। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ধর্মপাশা আর শাল্লা এ দুই উপজেলায় চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী। সম্প্রতি দুইটি উপজেলায় বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এপ্রিল মাসে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে একমাত্র ফসল হারানোর পর চোরের উপদ্রব হাওরপাড়ের মানুষের কাছে অনেকটা ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’। জানা গেছে, হাওরবেষ্টিত জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক ও দোয়ারাবাজারসহ অন্যান্য উপজেলায় চোরের উপদ্রব না থাকলেও জেলার শাল্লা ও ধর্মপাশা এ দু’টি উপজেলায় চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর এলাকায়ও বাড়ছে চুরির ঘটনা।
শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রামে গতকাল রাতে বনমালী দাস, তাপস চন্দ ও রাজচরণ দাসের বাড়ি থেকে সাতটি গরু ও ঘরের আসবাব চুরি হয়। রাতে ঘরের বেড়া ভেঙে গরুগুলো চুরি করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। মধ্যনগর থানার চামারদানী ইউনিয়নে চিহ্নিত চোরের সর্দার রয়েছে। এ চোর বাহিনীর কাছে জিম্মি এলাকাবাসী। প্রতিদিনই ইউনিয়নের কোনো কোনো গ্রামে গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এ সংঘবদ্ধ চক্রটি মাড়াইকল, সৌরবিদ্যুতের প্যানেল ও সেল মেশিন অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। ধর্মপাশা উপজেলার চামারদানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকেরুল আজাদ মান্না বলেন, চোরের সর্দার ও তার বাহিনীর এমন অত্যাচারে ও চুরির উপদ্রবে ইউনিয়নবাসী অতিষ্ঠ। স্থানীয় জনগণের চাপে আমি একাধিক বার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করেছি।
কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না। শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের মিহির কান্তি জানান, উপজেলার কামারগাঁও, উজানগাঁও, চিকাডুবি ও জাতগাঁও চোরের গ্রাম হিসেবে পরিচিত। ওইসব গ্রামের  লোকদের পেশাই চুরি করা। তারা শাল্লা উপজেলা ছাড়াও পাশের জেলাসমূহের বিভিন্ন গ্রামে গরু, স্বর্ণালঙ্কারসহ ঘরের আসবাবপত্রও চুরি করে এলাকায় নিয়ে আসে। চুরি হওয়া এসব মালামাল আবার টাকার বিনিময়ে ফিরিয়ে দেয়া হতো। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় বেশ কয়েক বছর ধরে চুরি বন্ধ হলেও এবার ফসলহানীর পর আবার চোরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। চোরের উৎপাতে এলাকারবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে শাল্লা থানার এসআই লোকমান বলেন, নওয়াগাঁও গ্রামে গরু চুরির ঘটনার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সাথে সাথে পুলিশ গরুগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মধ্যনগর থানার সেকেন্ড অফিসার লুৎফুর রহমান জানান, এদের অবস্থান সুনির্দিষ্ট তথ্য জানালে আমি নিজে ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে চোরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তবে এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় কাজটি অনেকাংশেই কঠিন। তারপরও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেজন্য জনসচেতনতা ও তাদের সহযোগিতা দরকার।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দাবি

এখনও আসছে রোহিঙ্গারা, সমঝোতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

৯০ টাকা ছাড়ালো পিয়াজের কেজি

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি মামুলি ব্যাপার

‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’

চিরঘুমে লোকসংগীতের মহীরুহ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার ক্ষতি পোষাতে দরকার ১০০ কোটি টাকা

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ

দুই দলেই হেভিওয়েট প্রার্থী

দরিদ্রদের জন্য বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে

৭ই মার্চ ভাষণের স্বীকৃতিতে দেশব্যাপী শোভাযাত্রা আজ

সম্মতিপত্র প্রকাশের দাবি বিএনপির

ঘরে ঘুরে দাঁড়ালো চিটাগং

মিশরে মসজিদে জঙ্গি হামলা, নিহত কমপক্ষে ২৩০

‘শেষ মুহূর্তে হলে সরকার সমঝোতায় আসবে’

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি