ঘাতকের জবানিতে বন্ধু হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

বাংলারজমিন

সাজিদুর রহমান সাজু, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) থেকে | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
বন্ধুর ছোট বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কই সুমনের জীবনের যমদূত হয়ে দেখা দেয় বন্ধু কান্ত। দা দিয়ে কুপিয়ে দেহ থেকে মাথা দ্বিখণ্ডিত করে খুন করা হয় সুমনকে। ঘটনার দিন রাতে ২ লিটার দেশি মদ খাওয়াইয়া মাতাল করিয়া বাগানে নিয়া দা দিয়া কোপাইয়া বডি হতে মাথা আলাদা করিয়া মাথা, কাপড় অন্যত্র মাটির নিচে লুকাইয়া রাখি যাতে লাশ শনাক্ত না হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই জানিয়েছে ঘাতক কান্ত।
সোমবার রাত ৮টায় কমলগঞ্জের মির্তিঙ্গা চা বাগানের ৪নং সেকশনের কুটিবাড়ি এলাকার একটি ড্রেন থেকে মস্তকবিহীন অজ্ঞাত পরিচয় সুমনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সুমন নুনিয়া (২২) কমলগঞ্জের মাধবপুর চা বাগানের শ্রমিক বলরাম নুনিয়ার ছেলে। অজ্ঞাত পরিচয়ে মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধারের পরদিন মঙ্গলবার সুমনের পরিচয় নিশ্চিত হলে দুপুরে পুলিশ উপজেলার মির্তিঙ্গা চা বাগানের চিনিয়া টিলা থেকে সুমনের বন্ধু পুতুল তন্ত বাই (২৫) ওরফে কান্ত এবং তার বাবা বদ্রি বাইকে আটক করে। আটকের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বন্ধুকে খুনের ঘটনা স্বীকার করে পৈশাচিক লোমহর্ষক বীভৎসতার বর্ণনা প্রদান করে ঘাতক কান্ত। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে নিয়ে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মির্তিঙ্গা চা বাগানের ২০নং সেকশনের চিনিয়া টিলার ধানী জমি থেকে সুমনের খণ্ডিত মাথা, হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো দা, তার গায়ের কাপড় উদ্ধার করা হয়। গতকাল বুধবার সকালে উদ্ধার করা মাথাটি তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) ছোট বোন মুন্নী নুনিয়ার বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে মির্তিঙ্গা চা বাগানের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সুমন নুনিয়া। শুক্রবার রাত আটটা পর্যন্ত সুমনের মোবাইল ফোনে কথা বলেন পরিবারের সদস্যরা। তারপর থেকে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে খুঁজে পায়নি। সোমবার বিকালে মির্তিঙ্গা চা বাগানের ৪নং সেকশনের গুটি বাড়ির একটি নালাতে মস্তকবিহিন অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ রাত ৮টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। পরদিন পুলিশ সুমন নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ মিয়া এ ঘটনাটি তদন্তে জানতে পারেন সুমন হত্যার কারণ। তার পরই আটক করা হয় সুমনের বন্ধু কান্ত ও তার বাবা বদ্রিকে। কমলগঞ্জ থানার ওসি বদরুল হাসান জানান, মির্তিঙ্গা চা বাগান সুমনের বোনের বাড়ি হওয়ায় সুমন ওই চা বাগানে আসা যাওয়া করায় পরিচয় হয় পুতুল তন্ত বাই ওরফে কান্তের সঙ্গে। একপর্যায়ে কান্তের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বন্ধুত্বের সম্পর্কে প্রায় ৩-৪ বছর ধরে কান্তর বাড়িতে আসা-যাওয়া করছিল সুমন। এই আসা যাওয়ার মধ্যেই কান্তের ৩য় বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সুমনের। বছর খানেক ধরে চলা এই সম্পর্ক গত মাস চারেক হয় এক রাতে সুমনের সঙ্গে একত্রে তার বোনকে দেখে সুমনকে খুন করার পরিকল্পনা করে কান্ত। লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা প্রদান করে দায় স্বীকার করায় গতকাল ঘাতক কান্তকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মধুপুরে রোহিঙ্গা সন্দেহে যুবক আটক

ম্যানচেস্টারে এবার মসজিদের বাইরে একজন ডাক্তারকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কলেরা সংক্রমণের আশঙ্কা বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার

স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণ, আটক ১

২৮ ‘হিন্দু’র খুনী কে!

ভেঙ্গে গেল স্পর্শিয়ার সংসার

নির্বাচিত মারকেল, ইসলামবিরোধী এএফডির উত্থান, কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে

মালিতে নিহত সার্জেন্ট আলতাফের বাড়িতে শোকের মাতম

বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের শোক, নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় আরও তিন দেশ

‘যেভাবে ভাবি সেভাবে এখনো ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে পারিনি’

​ জার্মানির নির্বাচনে শেষ হাসি মার্কেলেরই

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন: ইউএনএইচআরসি

ভিত্তিহীন খবরে তোলপাড়

মার্কেল?

ফের সীমান্তে রোহিঙ্গা স্রোত