যতদিন বেঁচে আছি আপনাদের পাশেই থাকবো

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ও কুড়িগ্রাম, রাজারহাট প্ | ২১ আগস্ট ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৩
বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট, দুর্দশা কাছ থেকে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কথা বলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সঙ্গে। করেছেন ত্রাণ বিতরণ। বন্যার্তদের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেছেন, আপনাদের পাশে আছি, পাশে থাকব। সামনের ফসল উঠার আগ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ সহায়তা পাবেন। যাদের ঘর বাড়ি নষ্ট হয়েছে তাদের ঘর করে দেয়া হবে।
ভূমিহীনদের স্থায়ীভাবে ঘরবাড়ি করে দেয়া হবে। দেশের প্রতিটি মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান
সরকার সব কিছু করছে। এ সরকার আওয়ামী লীগের সরকার। এ সরকার জনগণের সরকার। এ সরকার আপনাদের সরকার। আমার বাবা দেশের মানুষকে বেশি ভালোবাসতেন। তাই তিনি দেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছেন। আমিও দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ও কল্যাণে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। গতকাল প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
বিকালে কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গা হাই স্কুল মাঠে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সবাইকে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে। আগামী মাস থেকে দেশের ৫০ লাখ মানুষকে ১০টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল তিন মাস দেয়া হবে। দেশে যেন খাদ্য ঘাটতি না হয় সেজন্য চাল আমদানির উপর ২৮ভাগ ট্যাক্স কমিয়ে ২ ভাগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫ লাখ টন খাদ্য আমদানি করা হয়েছে। কাজেই কোনো সংকট নেই। আমি ১৯৮১ সাল থেকে কুড়িগ্রামের প্রতিটি উপজেলায়, ইউনিয়নে ঘুরে বেড়িয়েছি। মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখেছি। তখন এ অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ, মঙ্গা লেগে থাকত। সরকারে না থেকেও তখন মানুষের পাশে ছিলাম। লঙ্গরখানা খুলেছি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে এ জেলার জন্য অনেক উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়েছি। যাতে করে গ্রামের মানুষটিও ভালো থাকতে পারে। অল্প সময়ে কুড়িগ্রামকে খাদ্য উদ্বৃত্ত করতে সক্ষম হই। এখন আর মঙ্গা নেই। আমরা মাঝে ক্ষমতায় ছিলাম না। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে দেখি আবারও দেশে ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটিত। আমাদের চেষ্টায় দেশ আবারও ৩০ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীরবিক্রম) এমপি, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এইচ এম মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সফুরা খাতুন এমপি, রুহুল আমিন এমপি, একেএম মোস্তাফিজার রহমান এমপি, সাবেক মন্ত্রী মোতাহার হোসেন এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডল, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, আবু নুর মো. আক্তারুজ্জামান প্রমুখ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান। কুড়িগ্রাম জেলা শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে লালমনিরহাট জেলা সংলগ্ন ছিনাই ইউনিয়নের পাঙ্গা হাই স্কুল মাঠে ত্রাণ বিতরণ এ অনুষ্ঠান বিশাল জনসভায় পরিনত হয়। বিশাল মাঠ ছেড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত হাজার হাজার নারী-পুরুষ রাস্তা ও পার্শ্ববর্তী বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিকাল ৩টায় রাজারহাট হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করে। তিনি সভাস্থলে পৌঁছেন ৩টা ১০ মিনিটে। বিকাল ৩টা ৪২ থেকে ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ৩৩ মিনিট বক্তব্য রাখেন। এর পর ২১জন বন্যার্ত নারী পুরুষের হাতে সরাসরি ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন। এর পর স্থানীয় প্রশাসন ৯৭৯জন বন্যার্তর মাঝে এই প্যাকেজের ত্রাণ বিতরণ করে। প্রতিটি প্যাকেটে ৯টি আইটেম ছিল। এরমধ্যে ১০কেজি চাল, ১কেজি ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি চিড়া, আধা কেজি মুড়ি, তেল ১ কেজি, মোমবাতি ও দেয়াশলাই এক ডজন করে।
শেখ হাসিনা দেশের এনজিওগুলোর উদেশে বলেন, যারা ঋণ দিয়েছেন, (কিস্তি আদায়ের ব্যাপারে) দয়া করে বন্যাকবলিত মানুষদের অত্যাচার ও জুলুম করবেন না। তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করেন আমার উপর আস্থা আছে? সবাই তার কথায় সাড়া দেয়। বলে আস্থা আছে। ‘আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। আমাদের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। বিশ্বাস রাখতে হবে। বাংলার মানুষের জন্য আমি যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটা আগস্ট মাস। এ মাসে দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। আমি ও আমার ছোট বোন রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। জিয়া তখন একজন মেজর ছিল। জাতির পিতা তাকে মেজর জেনারেল করেন। কিন্তু তিনি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন। এমনকি আমার ছোট বোন যেন দেশে আসতে না পারে এজন্য তাঁর পাসপোর্ট নবায়ন করতে দেয়া হয়নি।
তিনি বন্যায় কুড়িগ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা হয়েছে। আমি দিনাজপুরের বন্যাদুর্গত এলাকা দেখে এবং ত্রাণ বিতরণ করে আসলাম। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক, মহাসড়ক ও বাঁধের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি। একই সঙ্গে আশ্রয় কেন্দ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেরামতের কাজ করা হবে। আপনারা যারা স্থানীয় তাঁরা দেখে নেবেন কাজ যেন ঠিকমত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ধানের চারা বিতরণ করা হবে। চারার ব্যবস্থা আমরা করে রেখেছি। সার, বীজ সব দেয়া হবে।
এদিকে দিনাজপুর জিলা স্কুল আশ্রয় কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যা দুর্গতদের আগামী তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না ঘরে নতুন আমন ফসল উঠে, ততদিন বানভাসি মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। কৃষক ভাইদের পুনরায় কৃষি ঋণ প্রদানসহ নতুন করে বীজ রোপণের ব্যবস্থা করা হবে। যাদের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে গেছে তাদের টিন প্রদানের পাশাপাশি নতুন করে বাড়ি-ঘর তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যে সমস্ত ছেলেমেয়ে পড়ালেখা করতে পারেনি, বন্যায় যাদের বইপত্র নষ্ট হয়েছে গেছে, প্রয়োজনে তাদের নতুন করে বইপত্র প্রদান করা হবে। সকাল ১০টা ৫৯ মিনিটে থেকে ১১টা ১২ মিনিট পর্যন্ত ১৩ মিনিটের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে নতুন করে খাদ্য আমদানি করা হচ্ছে। আমাদের যথেষ্ট খাদ্য মজুত রয়েছে।
তিনি বলেন, আপনাদের এতটুকু বলতে পারি যতক্ষণ আমি আছি ততক্ষণ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষ না খেয়ে মরবে না। আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনে আমার বাবার মতো আমিও জীবন দিয়ে যাবো এটাই আমার প্রতীজ্ঞা। তিনি আরো বলেন, আমার বাবার স্বপ্ন ছিল ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্য মুক্ত দেশ গড়ে তোলা। তাই আমি নিজেকে উৎসর্গ করেছি বাংলার মানুষের জন্য দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তিনি বলেন, সব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাবেন। চিকিৎসা ব্যবস্থা, খাদ্য ব্যবস্থা সব করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে যত রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নষ্ট হয়েছে, সবই সংস্কার করা হবে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং এর মানুষের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তার সব করা হবে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মীর্জা আশফাক, কোতোয়ালি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সফর সঙ্গী হিসেবে, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের তেঘরা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন ও বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। দিনাজপুর সার্কিট হাউজে দুপুরের নামাজ ও খাওয়া শেষ করে তিনি কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে হেলিকপ্টার যোগে রওনা দেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নবীনগরে আওয়ামী লীগ নেত্রী খুন

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা হবে পোপের

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে বিশ্বজনমত গঠিত হয়েছে

৬৯ মাসে তদন্ত প্রতিবেদন পেছালো ৫২ বার

মসনদে বসছেন ‘কুমির মানব’

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সমঝোতার কাছাকাছি বাংলাদেশ-মিয়ানমার

তনুর পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ

স্বপ্ন দেখাচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ

আসন ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ, ফিরে পেতে মরিয়া বিএনপি

মেয়র পদে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র জমা

জিদান খুনের রোমহর্ষক বর্ণনা আবু বকরের

অসহনীয় শব্দ দূষণে বেহাল নগরবাসী

সব স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি দেয়ার নির্দেশ

একতরফা নির্বাচন কোন নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়

‘অনুমোদনহীন বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’

কি পেলাম কি পেলাম না সেই হিসাব মেলাতে আসিনি: প্রধানমন্ত্রী