প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১০ জনের প্রাণদণ্ড

প্রথম পাতা

কোর্ট রিপোর্টার | ২১ আগস্ট ২০১৭, সোমবার
প্রায় ১৭ বছর আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় বিস্ফোরক  দ্রব্য আইনের মামলায় ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোসাম্মাৎ মমতাজ বেগম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলা হয়েছে রায়ে।
মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি অন্য একটি মামলায় কার্যকর হওয়ায় তার নাম এ মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়। মামলার মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত অন্য আসামিরা হলেন- মো. মহিবুল্লাহ, মুন্সি ইব্রাহিম, মো. মাহমুদ আজহার, মো. রাশেদ ড্রাইভার, মো. শাহ নেওয়াজ, মো. ইউসুফ, মো. লোকমান, শেখ মো. এনামুল ও মো. মিজানুর  রহমান। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বিষয়ে বিচারক তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন, ‘দ্য স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ১৫ (১) (এ) (বি) (সি) /২৫(ডি) ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে উক্ত ধারা মতে তাঁদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত পদ্ধতি মোতাবেক গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক। এ নয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি বিস্ফোরক আইনের অপর একটি ধারায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় মেহেদী হাসান নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আনিসুল ইসলাম, মহিবুল্লাহ ও সারোয়ার হোসেন নামে তিন আসামিকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ১০ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ শামসুল হক বাদল বলেন, তিনি আংশিক সন্তুষ্ট। রায়ের কপি পাওয়ার পর আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, তার মক্কেলরা জেল আপিল করবেন।
২০০০ সালের ২০শে জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের জন্য মঞ্চ নির্মাণের সময় মাটিতে পুঁতে রাখা ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পাওয়া যায়। এর দুই দিন পর ওই কলেজ মাঠের জনসভায় ভাষণ দেয়ার কথা ছিল শেখ হাসিনার। ওই ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক নূর হোসেন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান ২০০১ সালের ৮ই এপ্রিল ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেন। পরে ২০০৯ সালের ২৯শে জুন নতুন করে ৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে মামলা দুটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সৈয়দ সামছুল হক বাদল জানান, ২০০৫  সালের ২৪শে জুলাই পর্যন্ত গোপালগঞ্জের সংশ্লিষ্ট আদালত ৪১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে গত ৭ বছরে ওই সাক্ষীসহ মোট ৬৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২। 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

২৮ ‘হিন্দু’র মৃতদেহ উদ্ধারের দাবি, জড়িত থাকার কথা অস্বীকার আরসার

ভেঙ্গে গেল স্পর্শিয়ার সংসার

মালিতে নিহত সার্জেন্ট আলতাফের বাড়িতে শোকের মাতম

বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের শোক, নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় আরও তিন দেশ

‘যেভাবে ভাবি সেভাবে এখনো ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে পারিনি’

​ জার্মানির নির্বাচনে শেষ হাসি মার্কেলেরই

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন: ইউএনএইচআরসি

ভিত্তিহীন খবরে তোলপাড়

মার্কেল?

ফের সীমান্তে রোহিঙ্গা স্রোত

সন্তানদের সামনেই শামিলাকে ধর্ষণ করে বার্মিজ সেনারা

মন্ত্রী-এমপিরা আমাদের সঙ্গে আছেন

মনোনয়ন দৌড়ে ২৩ নেতা

ট্রাকচালক থেকে সপরিবারে ইয়াবা ব্যবসায়ী

বাড়লো আটার দাম