শিশুর নিউমোনিয়া, যা জানা প্রয়োজন

শরীর ও মন

অধ্যাপক ডা. মো: আব্দুল মান্নান | ১৮ আগস্ট ২০১৭, শুক্রবার
নিউমোনিয়া সব বয়সেই হয়। তবে নিউমোনিয়ার কারণে কখনো শিশুর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। সাধারণত পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যেই নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশি থাকে। নিউমোনিয়া হলে শিশুর ফুসফুস মারাত্মক সংক্রমণের শিকার হয়।

নিউমোনিয়ার উপসর্গ
শিশুর বয়সভেদে রোগের উপসর্গে তারতম্য হয়। শিশুর নিউমোনিয়া হলে যেসব লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যেতে পারে :
  • জ্বর, কাঁপুনি
  • কাশি, সর্দি
  • দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস
  • শ্বাসে শাঁ শাঁ শব্দ
  • শ্বাস কষ্ট (নাসারন্ধ্র ফুলে ফুলে ওঠা, দ্রুত পেট ওঠা-নামা, পাঁজরের মাংশপেশি দেবে যাওয়া)
  • নির্জীব হয়ে পড়া
  • ঠোট ও আঙুলের নখ ধূসর অথবা নীলাভ রং ধারণ করা ।
  • বমি, পেট ব্যথা
  • বুক ব্যথা।

নিউমোনিয়া কাদের হয়?
শিশু এবং বড়দের সবারই নিউমোনিয়া হতে পারে। তবে ৫ বছরের কম বয়সি বাচ্চাদের মধ্যেই এর প্রকোপ বেশি।
দেখা গেছে, যেসব বাচ্চা অপুষ্ট হয়ে জন্ম নিয়েছে, ওজন কম, বুকের দুধ খায়নি, টিকা ঠিক মত নেয়নি, ঘন বসতি, স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে বাস করে, যে ঘরে বড়রা ধুমপান করে- তাদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি হয়।

নিউমোনিয়া হলে কি হয়?
শ্বাস টেনে বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং শরীরের অপ্রয়োজনীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়া হলো শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রধান কাজ। নিউমোনিয়া হলে শ্বাসনালির শেষ প্রান্তে যেখানে এই বাতাসের আদান প্রদান হয়, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এটা বাধাগ্রস্ত হয়। ফলাফল- অক্সিজেন পাওয়া থেকে শরীর বঞ্চিত হয় এবং বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড শরীরে জমা হয়; যা দ্রুতই মস্তিস্ক, হৃৎপিন্ড, কিডনি ইত্যাদিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বাচ্চাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।

শিশু কি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত?
জীবাণু দিয়ে শ্বাসনালি আক্রান্ত হলেই শরীরে প্রতিরোধ হিসেবে কাশি এবং জ্বর তৈরী হয়। ভাইরাসের কারণে হলে সর্দি বা চোখ দিয়ে পানি পড়ার মত উপসর্গও থাকতে পারে। এই শ্বাসের গতি ২ মাসের কম শিশুদের ৬০; ২ মাস থেকে ১ বছরের কম শিশুদের ৫০; ১ বছরের বেশি এবং ৫ বছরের নিচে শিশুদের ৪০ বা তার চেয়ে বেশি হলে আমরা তাকে নিউমোনিয়ার কারণেই দ্রুত শ্বাস হিসেবে ধরে নিই।
যখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ
কাশি, জ্বরের সাথে বাচ্চার শ্বাসকষ্ট শুরু হলেই তাকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। কাশির সাথে জ্বর বা উল্টো ঠান্ডা হলে গেলেও ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। আবার ২ মাসের কম বয়সের রোগীদের নেতিয়ে যাওয়া, খিঁচুনি হওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা খেতে না পারার লক্ষণ থাকলে দ্রুত ডাক্তারের নিকট/হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এগুলো শিশুর জন্য বিপদজনক চিহ্ন।

রোগ প্রতিরোধ
তুলনামূলক কম সংক্রমিত নিউমোনিয়ার বাচ্চাকে খোলা বাতাসে আরামে শ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বাচ্চার খাবার এবং শরীরের পানির পরিমাণ ঠিক রাখতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। নাক বন্ধ থাকলে নরমাল স্যালাইন (লবণ-পানির মিশ্রণ) দিয়ে ভিজিয়ে তা খুলে দিতে হবে। আবার আলতো করে টেনেও তা বের করে আনা যাবে। উন্নতি না হলে অ্যামোক্সিসিলিন বা কট্রিমঅক্সাজল জাতীয় এন্টিবায়োটিক ঠিক পরিমাণমতো (ওজন দেখে) ৫-৭ দিন দিতে হবে। মারাত্মক নিউমোনিয়ায় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হবে। প্রথমেই অক্সিজেন দিয়ে শ্বাসে সাহায্য করতে হবে। এরপর পেটে নল দিয়ে বা শিরার মাধ্যমে পুষ্টির ব্যবস্থা করে দিতে হবে, যতক্ষণ বাচ্চা সহজে মুখে খেতে না পারবে। এরপর প্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিকও শিরার মাধ্যমে দিতে হবে।

[লেখক পরিচিতি: অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল মান্নান, নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, চেয়ারমেন, নবজাতক বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা]

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নিউ ইয়র্কে আকায়েদের আত্মীয়দের বিবৃতি

জিতলেন ডগ জোনস, হারলেন রয় মুরস

লালমনিরহাটের সাবেক সাংসদ জয়নুল আবেদীন আর নেই

লক্ষ্মীপুরের সেই এডিসি ও ইউএনওর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

আইসিসের পক্ষে বোমা হামলার স্বীকারোক্তি, আকায়েদের বিরুদ্ধে ৮ মামলা

‘ট্রাম্প, তুমি তোমার জাতিকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছ’

সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমারকে সহায়তার প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে আদেশ ২রা জানুয়ারি

তেজগাঁওয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত

‘অভিনয়ের সময় আমি চরিত্রের একেবারে গভীরে ঢুকে যাই’

ফের বৃটেনের ভ্রমণ সতর্কতা, জনসমাগমে হামলার শঙ্কা

আকায়েদ নিজেই বোমার কারিগর

অভিবাসন নীতিতে অনেক গলদ আছে

গেইল তাণ্ডবে মাশরাফির হাতেই শিরোপা

টঙ্গীতে দুই প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা

নিউইয়র্কে হামলায় বাংলাদেশের নিন্দা