মাঠকে দায়ী করছে ঢাকা আবাহনী

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১৩ আগস্ট ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২৯
গত মৌসুমে দারুণ ছন্দে ছিলো ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। সানডে সিজুবা লী টাকের দারুণ সমন্বয়ে পঞ্চমবারের মতো লীগ শিরোপা জিতেছিল আকাশী-হলুদ শিবির। লী টাক সানডে না থাকলে ফেডারেশন কাপ জয়ের মধ্যদিয়ে তার ধারাবাহিকতা ছিলো। কিন্তু লীগে এসে হঠাৎ অচেনা হয়ে গেল ঢাকা আবাহনী। সাইফ স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে জয়ে শুরু করা দলটি থামে ফরাশগঞ্জের কাছে। মোহামেডানের বিপক্ষে জিতলেও চেনা ছন্দে ছিলেন না আবাহনীর ফুটবলাররা। বিজেএমসির সঙ্গে পয়েন্ট খোয়ানোর ম্যাচেও এমেকা ল্যান্ডিং রুবেলদের নামের সুবিচার করতে পারেনি। দিন দিন আবাহনীর পারফরম্যান্স নিম্নমুখী হওয়ার জন্য মাঠকে দায়ী করছেন দলটির কোচ দ্রাগো মামিচ। কোচের সঙ্গে একমত আবাহনীর ফুটবলাররা। অন্যরা সুর মিলিয়েছেন আবাহনীর সঙ্গে।
এএফসি কাপে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর এফসি ও চলতি লীগে মোহামেডানের বিপক্ষে জয় এনে দেয়া রুবেল মিয়া মনে করেন মাঠের কারণে তাদের খেলা ভালো হচ্ছে না। ‘ আসলে অতি বর্ষণে মাঠ খেলার অনুপযোগী হয়ে গেছে। এমন মাঠে ভালো ফুটবল খেলা সম্ভব না’-বলেন তিনি। আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিত দাস রূপুর মতে আবাহনীর পয়েন্ট নষ্ট করার মূলে রয়েছে মাঠ। সঙ্গে ভাগ্যেরও দায়ও রয়েছে কিছুটা। বিজেএমসির ম্যাচের কথা উল্লেখ করে রূপু বলেন, ওই ম্যাচে আমাদের দু’তিনটা নিশ্চিত গোল পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়েছে। ভাগ্য সহায় থাকলে ওই ম্যাচের দুই তিন গোলে জিততে পারতাম। মাঠ নিয়ে হতাশা আছে অন্য দলগুলোরও। ঢাকা শহরের টানা বর্ষণের পরও মাঠের কোনো বিশ্রাম নেই। ফুটবল মাঠ ধানক্ষেতে রূপ নিয়েছে, এরপরও মাঠ খেলার অনুপযোগী নয়! কিন্তু এ দেশের ফুটবল বাস্তবতা ভিন্ন। আপনার আছে সবেধন নীলমণি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, বৃষ্টি-কাদায় এই মাঠে একটি ম্যাচ চালিয়ে আবার ঠিকঠাক করারও তো সুযোগ নেই। টানা ম্যাচগুলোও তো এখানে হবে। বাফুফে এসবের তোয়াক্কা না করায় পুরো দ্বিতীয় রাউন্ডে ‘কাদা-বলের’ খেলা হয়েছে। রহমতগঞ্জের কোচ কামাল বাবু বলেছেন, ‘মাঠ ফুটবল খেলার অবস্থায় ছিল না। এমন মাঠে খেলতে হলে নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার রাগবি খেলোয়াড়দের নিয়ে আসা উচিত। আমি খুব আশ্চর্য হয়েছি বাফুফের ভূমিকায়। সংবাদমাধ্যমে মাঠের দুরবস্থা নিয়ে এত রিপোর্ট হওয়ার পরও তারা পাত্তা দেয়নি। ’ কেউ কেউ অবশ্য পুরনো দিনের ফুটবলকে টেনে এনে এ রকম কাদা-মাঠের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মেলাতে দিচ্ছেন না শেখ রাসেল কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক, ‘এ রকম মাঠে আমরা আগেও খেলেছি। কিন্তু এখনকার প্রেক্ষাপট পেশাদার ফুটবলের, এর সঙ্গে এ রকম খেলার মাঠ কোনোভাবেই যায় না। এ রকম মাঠে খেলা হওয়া অসম্ভব। পেশাদার ফুটবল তো এক মাঠে চলে না, আরো মাঠ থাকলে এই একটা মাঠের ওপর অত চাপ পড়তো না। এমনিতে বেশ কয়েকবার লীগ পিছিয়েছে, বৃষ্টির সময়ের দু-তিন দিন খেলা বন্ধ রাখলে কী ক্ষতি হতো?’ কিন্তু ক্লাবের কথা অত ভাবার সময় কই। ঠিক ঢাকা শহরের মতোই। বৃষ্টির পানিতে ভাসছে শহর। মানুষের সাময়িক কষ্ট হয়, সমালোচনা হয় চারদিকে। তারপর ঠিক মানিয়ে নেয়। ক্লাবগুলোও যেন আস্তে আস্তে মানিয়ে নিচ্ছে কাদা মাঠের সঙ্গে।



 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন