এমপি হাবিবের শখের খামার

বাংলারজমিন

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে | ১৩ আগস্ট ২০১৭, রবিবার
হাবিবর রহমান। বগুড়া-৫ আসন শেরপুর-ধুনটের সংসদ সদস্য। শেরপুর সদরেই তার বাগানবাড়ি। প্রধান গেট পেরিয়েই তার দৃষ্টিনন্দন বাড়ি সবার মন কাড়ে। পুরো বাউন্ডারি ২৮ বিঘা জমির উপর। বাড়ির সাথেই শান বাঁধা পুকুর।
পুকুরের চারপাশে হরেক রকম ফুলের গাছ মোহিত করে তোলে অতিথিদের। অবসরে এই পুকুর পাড়ে চেয়ারে বসেই গল্পগুজবে সময় কাটান এমপি। শত ব্যস্ততার মাঝেই তিনি শখের বসে গড়ে তুলেছেন খামার। কি নেই তার সেই খামারে? টারকি মুরগি, কোয়েল পাখি, বিভিন্ন জাতের কবুতর, রাজহাঁস। বিদেশি গরুর পাল। পুকুরে মাছ। এছাড়াও তিনি বাড়ির চারপাশে লাগিয়েছেন শতাধিক জাতের হাজার খানেক ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ। সাম্প্রতি এক সকালে তার ওই বাগানবাড়িতে গেলে তিনি ঘুরে দেখালেন তার পুরো বাড়ির সীমানা। জানালেন খামার তৈরির গল্প। ছোটবেলা থেকেই তিনি পশু-পাখি ভালোবাসতেন। ছাত্র থাকাকালীনও তিনি ফুলের বাগান, কবুতর পালতেন। ছাত্র জীবন শেষে তিনি এক সময় পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন। পুলিশ সুপার হন। দেশ সেবায় আরো ব্যস্ত হয়ে পড়েন একসময়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হতো চাকরির সুবাদে। ফলে অনেক সময় অনেকটাই দূরে থাকতে হতো এসব শখের জায়গা থেকে। চাকরি ছেড়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সময়ের ব্যবধানে সংসদ নির্বাচন করেন। নির্বাচিত হয়েও যান। আবারো ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এত কিছুর পরেও শখের জায়গা থেকে একটুও সরে আসেননি তিনি। আবারো খামার করেন। চাষ করেন পশুপাখি। তৈরি করেন বাগান। একটু অবসর পেলেই ছুটে যান টারকি খামারে। মুরগিগুলোর শরীরে হাত বুলিয়ে দেন। কোনো সমস্যা হলো কিনা দেখেন। আবার ছুটে যান গোয়াল ঘরে। লম্বা ছাউনির নিচে বাঁধা শতাধিক বিদেশি জাতের গরু। গরুগুলোর কাছে যেতেই মাথা এগিয়ে দেয়। হাবিব সাহেব হাত বুলিয়ে দিলে শান্ত হয়ে অনুভূতি নেয় অবুঝ প্রাণিগুলো। মুনিবের প্রতি তাদের ভালোবাসাও অবাক করার মতো।   
সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান বলেন, এখন প্রতিদিন একবার করে খামারে না গেলে খারাপ লাগে। ঢাকা থেকে এসে সোজা খামারে প্রবেশ করেন তিনি। নিজের হাতে এসব পশুপাখিকে খাওয়ান। ভালোবাসা থেকেই গড়ে তোলা তার এই শখের খামার। তিনি আরো জানান, বর্তমানে ২০-২৫টি গুরু প্রতিদিন গড়ে ৩০০ লিটার দুধ দেয়। শখের বশে খামারটি করলেও বর্তমানে বাণিজ্যিক হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে খামারটি।  
পোলট্রিফার্ম গড়ে আর্থিক স্বাবলম্বী হচ্ছে বগুড়ার যুবকরা: দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকার পাশাপাশি পোলট্রিশিল্প সাধারণ মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণেও সমান ভূমিকা রাখছে। দেশে বর্তমানে বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু না থাকায় মুখ থুবড়ে পড়া এই শিল্প আলোর মুখ দেখছে। গরু খাসির মাংসের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারাও পোলট্র্রি ফার্মের উৎপাদিত মুরগির মাংসে চাহিদা মেটাচ্ছেন। অপর দিকে বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পোলট্রি শিল্প ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বগুড়া জেলায় সরকারিভাবে মাত্র একটি হাঁস-মুরগির খামার থাকলেও বেসরকারিভাবে গড়ে উঠেছে ৪ হাজার পোলট্রিফার্ম। বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা ৭ হাজার। এর পাশাপাশি গড়ে উঠেছে শতাধিক হ্যাচারি। এসব ফার্ম এবং হ্যাচারিগুলোর উৎপাদিত মুরগি কোয়েল পাখি, টার্কি বগুড়ার মাংসের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্নস্থানে রপ্তানি হচ্ছে। এসব ফার্ম করে স্বাবলম্বী হয়েছে এই অঞ্চলের কয়েক হাজার বেকার যুবক। পড়াশোনার পাশাপাশি অনেকেই পোলট্রি ফার্ম করে সংসারে অর্থের জোগান দিচ্ছে।
শ্যামল বাংলা পোলট্রিফার্মের মালিক কলেজছাত্র আবিদ হাসান সোহাগ জানান, আর্থিক সংকটের কারণে একসময় লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পরে সামান্য কয়েকটি ডিম পাড়া মুরগি দিয়ে এই ফার্ম শুরু করি। বর্তমানে দুই হাজারের উপরে মুরগি সোহাগের ফার্মে। প্রতিদিন হাজারের বেশি ডিম উৎপাদন হচ্ছে এখন। এই খামারের আয় থেকেই দিব্যি চলে যাচ্ছে তার লেখাপড়ার খরচ। বেঁচে যাওয়া টাকায় চলছে তাদের পরিবারও।  
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আ ম শফিউজ্জামান বলেন, বেসরকারিভাবে বগুড়ায় গড়ে ওঠা ৪ হাজার খামার তাদের নজরদারিতে আছে। এসব উদ্যোগক্তাদের পরামর্শ দিয়ে এই খাতকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি।
বেকার যুবকদের হাত ধরে বগুড়ায় গড়ে ওঠা পোলট্র্রিফার্ম নিজেদের স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখানকার যুবকরা পোলট্রিশিল্পকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেবে পারবে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন