ছন্নছাড়া ছাত্রলীগ

প্রথম পাতা

ফররুখ মাহমুদ | ১৮ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৩
বর্তমান সময়ে চরম অস্থিরতা চলছে ছাত্রলীগে। কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষুব্ধ কমিটির অনেক নেতা। এছাড়া ঠিকমতো মূল্যায়ন না পাওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতাই নিষ্ক্রিয়। ক্ষোভ আর অভিমানে অনেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তেমন তৎপর নয়। আবার কেউ কেউ ক্ষোভের প্রকাশ ঘটাচ্ছেন সাংগঠনিক ফোরাম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সংগঠন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশ কিছু কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গঠনতন্ত্র না মানা, নেতাদের মূল্যায়ন না করা, প্রধানমন্ত্রীর কার্ড বিতরণে সমন্বয়হীনতা, শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি না থাকা, মেয়াদ শেষের দিকে হলেও সম্মেলনের প্রস্তুতি না নেয়া, দেশের বিভিন্ন ইউনিটে নিজেদের এলাকার প্রার্থীদের শীর্ষ পদে বসানোর প্রবণতা, কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঢালাওভাবে পদ দেয়া, ফেসবুক কেন্দ্রিক রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়া, নেতাদের বিলাসী জীবন, ক্ষোভ প্রশমনে উদ্যোগী না হওয়া, টেন্ডার বা অন্য আর্থিক বিষয়গুলোতে ভাগ না পাওয়া। গত ১২ই জুলাই ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেশ কয়েকজন নেতা শীর্ষ দুই নেতার বিলাসী জীবনসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সমালোচনা করেন। এরপরই ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস দেন নেতাকর্মীরা। এ সমালোচনার মধ্যেই ১৩ই জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রলম্বিত হবে না। খুব শিগগির আপনারা ছাত্রলীগের সম্মেলনের খবর পাবেন। ২০১৫ সালের ২৬শে জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসাইনের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৬শে জুলাই দুই বছর মেয়াদি এই কমিটির সময় শেষ হবে।
বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র না মানার অভিযোগ রয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি দু’মাস অন্তর নির্বাহী সংসদের সভা হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান কমিটি মাত্র একটি সাধারণ সভা করেছে। এছাড়া কাউন্সিলর, কেন্দ্রীয় কমিটি, সম্পাদকমণ্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। ২৩ (গ) ধারায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয়, জেলা বা নিম্নতম কোনো কমিটির সদস্য সংশ্লিষ্ট কমিটির নিয়মিত সভার পূর্বাহ্নে কারণ দর্শানো ছাড়া একাধিক্রমে তিনবার অনুপস্থিত থাকলে তার সদস্য পদ আপনা আপনি বাতিল হয়ে যাবে। গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ৩০১ সদস্য নিয়ে গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ৪৫৪ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সদস্য পদগুলো এখনো খালি রয়েছে। গঠনতন্ত্রের ৫ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, অনূর্ধ্ব ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র বা ছাত্রী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রাথমিক সদস্য হতে পারে। প্রতি শিক্ষাবর্ষে সদস্যপদ নবায়ন করা বাঞ্ছনীয়। একই ধারার ‘খ’ উপধারায় বলা হয়েছে, সদস্যপদ লাভের জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্ব-স্ব সাংগঠনিক ইউনিটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নির্ধারিত সদস্যভুক্তির নিয়ম অনুযায়ী শপথপত্রে স্বাক্ষর করে সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু ছাত্রলীগে গত কয়েক বছরে কোনো সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম হয়নি। ঢালাওভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েই সবাই কর্মী হিসেবে পরিচয় পাচ্ছে। ২৩ এর ‘খ’ উপধারায় বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্যদের প্রত্যেক সদস্যকে মাসিক ২০ টাকা, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রত্যেক সদস্য মাসিক ১৫ টাকা, জেলা কমিটির প্রত্যেক সদস্য মাসে ১০ টাকা ও নিম্নতম কমিটির সদস্য মাসে ৫ টাকা হারে সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে চাঁদা প্রদান করবেন। কোনো সদস্য পরপর ৩ মাস চাঁদা বাকি রাখলে সেই সদস্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কমিটি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। গঠনতন্ত্রের এই সিদ্ধান্তটিও মানা হয় না দীর্ঘদিন। গঠনতন্ত্র না মানার বিষয়ে কমিটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, নেতারা তাদের ইচ্ছামতো পছন্দের লোকদের দিয়ে সংগঠন চালাচ্ছে। গঠনতন্ত্রের ধার ধারছে না। অন্য কোনো নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই তারা ‘জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক’ লিখে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এসবের প্রতিবাদ কখনো করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কথা বলার ফ্লোরই তো পাই না। তাদের কাছেও ভিড়তে পারি না। তারা পছন্দের লোকদের নিয়ে থাকেন।
এদিকে দেশের অন্যতম ছাত্রসংগঠন হলেও গত দুই বছরে ছাত্রলীগকে কোনো শিক্ষার্থী বান্ধব কর্মসূচি দিতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে সংগঠনের একজন সহ-সভাপতি বলেন, বিভিন্ন সময় আমরা একসঙ্গে হলে শিক্ষার্থী বান্ধব কর্মসূচি দিতে বললেও তারা দেয়নি। উল্টো কর্মসূচি ঘোষণার পরও তা পালন না করার রেকর্ড রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশব্যাপী নিরক্ষরতার কর্মসূচি ও সারা দেশে ১০ লাখ গাছ লাগানোর ঘোষণা দিয়েই দায় সেরেছে তারা। কর্মসূচিগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
ঢালাওভাবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তাদের ইচ্ছামতো পদ দেয়ায় অন্য নেতারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানা যায়। এমনকি ছাত্রশিবির কর্তৃক নির্যাতিত একজনকে পদ দেয়ার সুপারিশ করলেও তাকে পদ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ দেয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামত নেননি। বর্ধিত সভায় সেটি অনুমোদন করিয়ে নেয়ার কথা থাকলেও সেটা তারা করেনি। তারা অভিযোগ করেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গুটি কয়েকজন পছন্দের লোকের কাছ থেকে লিস্ট নিয়ে পদ দিয়েছেন। নেতারা বলেন, শুধু সংখ্যা বাড়ালেই সংগঠন শক্তিশালী হয় না। তারা প্রশ্ন রাখেন, ২য় বা ৩য় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী যদি কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পায় তাহলে মার্স্টাস পড়ুয়া একজন কেন বিশ্ববিদ্যালয় বা মহানগর কমিটিতে থাকবে? অপর একজন সহ-সভাপতি এ বিষয়ে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের হাতে নির্যাতিত একজন পদপ্রত্যাশীকে সাধারণ সম্পাদকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি দেখবেন বলে আর দেখেননি।
কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতাদের মর্যাদা অনুযায়ী মূল্যায়ন না করার কারণে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তাদের দূরত্ব বেড়েছে বলে মনে করেন তারা। সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নাদিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক হোসেন পদ পাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই কেন্দ্রের কোনো কর্মসূচিতে আসেন না। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অবমূল্যায়নের কারণেই তারা আসেন না বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সংগঠনের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রব্বানী ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নাদিম ও ১নং সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক হোসেনকে দীর্ঘদিন কেন্দ্রের কোনো সভা-সমাবেশ, প্রোগ্রামে দেখা যায় না। এবার সুপার ফাইভ কমিটি দেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ভালো ক্যান্ডিডেট হিসেবে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এর সঙ্গে তারাও একই প্যাডে, একই স্বাক্ষরে নেতা হয়েছিলেন। কিন্তু শুরু থেকেই তাদের রাজনীতি করার ন্যূনতম সুযোগ দেয়া হয়নি। তাই, একধরনের ক্ষোভ ও অভিমান থেকে তারা নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও কখনো তাদের ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেয়নি! এমন গুরুত্বপূর্ণ দুজন ছাড়াই সংগঠন চলছে, অবশ্য এই পার্টিতে শীর্ষ দু’জন ছাড়া আর কেউ এসেনশিয়াল নয়!’    
নেতাদের মূল্যায়ন না করার বিষয়ে অপর একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে গুটিকয়েক পছন্দের নেতা ছাড়া বাকীরা ফ্লোরই পাচ্ছে না। তাদের ভাব দেখে মনে হয়, বাকিরা কিছুই না। তিনি বলেন, নিজের অঞ্চলের কর্মসূচিতে গেলেও সে অঞ্চলের কেন্দ্রীয় নেতাকে তারা পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে না বা বক্তৃতাও করতে দিচ্ছে না। চট্টগ্রামে ও নাটোরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এমন হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আমাদের কাজ কি? শুধু নিয়মিত কর্মসূচী পালন করা? অবমূল্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে একজন সহ-সভাপতি ও অপর একজন উপ-সম্পাদক বলেন, মধুর ক্যান্টিনে বসার ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে জুনিয়র একজন সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বসে আছে। কিন্তু পাশেই আরেকজন সিনিয়র দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেক্ষেত্রে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বা ওই জুনিয়র তাকে বসার জায়গা দিচ্ছে না। বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ওই ইউনিটের সম্মেলন ঘোষণা বা কমিটি গঠন করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তারা।
গত পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের নেতাদের জন্য শুভেচ্ছা কার্ড পাঠালেও তা বিতরণ না করে মধুর ক্যান্টিনের রান্না ঘরে ফেলে রাখার ঘটনায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। এ নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে বেশ সমালোচনায় পড়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে দেশের বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নিজেদের এলাকার পছন্দের প্রার্থীদের নেতা বানাতে দৃঢ় অবস্থানে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা কেন্দ্রীয় অন্যান্য নেতাদের ক্ষুব্ধ করে বলে জানান এক সহ সভাপতি। তিনি বলেন, শীর্ষ নেতারা তাদের এলাকার ছেলেদের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা বানাচ্ছেন। এটা দলের জন্য ভালো হচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লোক কে সেটা তারা দেখবে। সব জায়গায় তাদের লোক লাগবে কেন? এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের আর্থিক সমস্যা থাকলেও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিলাসী জীবন যাপনে ক্ষুব্ধ অধিকাংশ নেতা। সাধারণ সভায় এ বিষয়টি তুলেন যুগ্ম সম্পাদক সায়েম খান। এনিয়ে সভায় বেশ হট্টগোলও হয়। গত কমিটি থেকেই এ ধারার প্রচলন ঘটেছে বলে জানা যায়। এছাড়া টেন্ডারে ভাগ না দেয়া, ফেসবুক কেন্দ্রিক রাজনীতিকে প্রাধান্য দেয়া এবং ক্ষোভ প্রশমনে উদ্যোগী না হওয়ায় শীর্ষ দুই নেতা বাকি নেতাদের সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হন। এ বিষয়ে সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, নেতাদের সঙ্গে শীর্ষ নেতাদের দূরত্ব রয়েছে এটা সঠিক। তবে সমস্যা যেহেতু আমাদের এর সমাধানও আমাদের আছে। তিনি বলেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আমাদের মুখপাত্র। তারা আমাদের নেতা। অভিযোগ-ক্ষোভ তাদের কাছেই প্রকাশ করবো আমরা। চাওয়া-পাওয়ার মিল না থাকায় অভিযোগ থাকবে। তাদের উচিত ক্ষোভের প্রশমন কিভাবে করা যায় সেটা দেখা। নতুন কমিটির জন্য সম্মেলন কবে নাগাদ হবে বা এই কমিটির সময় বাড়িয়ে নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী বর্ধিত সভা করে সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সবাই প্রধানমন্ত্রীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। তবে সময় বাড়ানোর কথা উল্লেখ করলে আমি মনে করি তারা সে সুযোগ পাবে।
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য:
আগামী ২৬শে জুলাই মেয়াদ শেষ হবে। নতুন কমিটির জন্য সম্মেলন কখন দেবেন জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ২৬শে জুলাই মেয়াদ শেষ হবে না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হবে জানালে তিনি বলেন, গঠনতন্ত্রে সেটা লেখা নেই। তিনি বলেন, গঠনতন্ত্রে সব আছে। গঠনতন্ত্র পড়েন। গঠনতন্ত্র সামনে আছে এবং সেখান থেকে তাকে নির্বাহী সংসদের মেয়াদকাল সম্পর্কিত ধারা পড়ে শোনালে তিনি বলেন, নেত্রী যখন বলবে তখন সম্মেলন হবে। এটা আমি বারবারই বলেছি। এটা কি গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, করবে না। ছাত্রলীগ গত দুই বছরে শিক্ষার্থী বান্ধব কর্মসূচি পালন করেনি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সব কর্মসূচি শিক্ষার্থী বান্ধব। এ ধরনের কয়েকটি কর্মসূচির নাম জানতে চাইলে তিনি বলতে পারেননি। সাধারণ সভা একটি হয়েছে- গঠনতন্ত্রে দুই মাস পরপর সভা করার কথা থাকলেও তা হয়নি কেন জানতে চাইলে সোহাগ বলেন, আমাদের অনেক সভা হয়েছে। আটটা সভা হয়েছে। সভাগুলো কোন কোন তারিখে হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না।
সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন বলেন, ছাত্রলীগ বৃহৎ সংগঠন। টুকটাক কিছু সমস্যা রয়েছে। চাওয়া পাওয়ার হিসেব থাকে। অস্বীকার করছি না। তবে সবার কাছে আহ্বান ঘরের কথা যাতে বাইরে চলে না যায় সেই কথা চিন্তা করতে হবে। সম্মেলনের বিষয়ে তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে সম্মেলনের বিষয়ে জানানো হবে। তবে যেকোনো সময়ে সম্মেলনের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। বর্ধিত সভা করে সময় বাড়ানো হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে সম্ভাবনা কম।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সুচিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন

সিরাজগঞ্জে ভিজিডির ৭০ টন চাল উদ্ধার, আটক ১

শাহজালাল বিমানবন্দরে কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ

ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

‘সব মুসলিম, সব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নন’

ছবিতে মেক্সিকো ভূমিকম্প

বেলকুচিতে নিখোঁজের দুদিন পর কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার: আটক ২

‘সেনা অভিযান বন্ধ করুন’, মিয়ানমারের সেনাদের প্রশিক্ষণ বন্ধ করেছে বৃটেন

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক গণআদালতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বাংলাদেশের রাজিয়া

‘মনপছন্দ চরিত্র পেলে আমি দুই ধরনের ছবিতেই কাজ করব’

মেক্সিকোতে ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত কমপক্ষে ২২৬, বহু ভবন ধস