তখনো নাঈমের হাতে ছিল মদের গ্লাস

শেষের পাতা

রুদ্র মিজান | ১৮ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৭
কীভাবে কোথায় নির্যাতিত দুই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল সাফাত আহমেদের। বনানীর রেইনট্র্রি হোটেলে কি ঘটেছিল সেই রাতে। ধর্ষণের আগে ওই দুই তরুণীর সঙ্গে মদ পান, মিউজিকের তালে তালে নাচসহ সাফাত ও নাঈমের অন্তরঙ্গ নানা মুহূর্তের বর্ণনা প্রকাশ পেয়েছে আদালতে দেয়া সাদমান সাকিফের জবানবন্দিতে। গত ১৮ই মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবির ইয়াসিন আহসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি দেন এ মামলার তৃতীয় আসামি সাদমান সাকিফ।
দেড় বছর আগে নির্যাতিত তরুণী (মামলার বাদী)’র সঙ্গে সাকিফের পরিচয় ও বন্ধুত্ব জানিয়ে জবানবন্দিতে তিনি বলেন, গত ১৯শে মার্চ আমাকে ফেসবুকে সে (মামলার বাদী)  বলে ‘আছো, দেখা করবা?’ আমি তখন বলি যে, আমি আমার বন্ধু সাফাতের সঙ্গে রাতের খাবার খাচ্ছি। তোমরা চাইলে পিকাসো রেস্টুরেন্টে আসতে পারো। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার সঙ্গে ফেসবুকে কথা হয়। রাত সোয়া ৯টায় সে ও তার বান্ধবী পিকাসো রেস্টুরেন্টে আসে। আমি সাফাতের সঙ্গে ওই দিন তাদের দুজনকে পরিচয় করিয়ে দিই।
সাকিফ তার জবানবন্দিতে বলেন, পরের দিন সে ফেসবুকে আমাকে জানায় তারা বের হবে। আমাকেও বের হতে বলে। কিন্তু কাজের ব্যস্ততা থাকায় আমি বের হতে পারব না জানিয়ে দিই। তারপর ২২শে মার্চ ভারতে চলে যান সাদমান সাকিফ। ২৮শে মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরেন তিনি। তারপরই সাফাতের ফোন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, সাফাত আমাকে ফোন দিয়ে তার জন্মদিনের প্রোগ্রামে রেইনট্রি হোটেলে যেতে বলে। আমি রাত ৯টার দিকে রেইনট্রি হোটেলে পৌঁছাই।
তারপরই হোটেলের রুমের নানা দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে সাকিফ বলেছেন, এক তরুণী (শাহরিয়ারের গার্লফ্রেন্ড) ব্যতীত সবাই তখন মদ পান এবং মজা করছিল। সাফাত ও শাহরিয়ার আমাকে মদ পান করতে বলে কিন্তু আমি কখনও ড্রিংক করি না। তাই আমার গ্লাসটা এক পাশে রেখে আমি বসে থাকি। ঘণ্টাখানিক পর হোটেলের ছাদে সুইমিং করার সিদ্ধান্ত নিই আমরা।
জবানবন্দিতে সাদমান সাকিফ জানান, নাঈম ছাড়া তারা সবাই হোটেলের ছাদে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা সুইমিং করেন। সেখানে আরো দুই তরুণী ছিলেন। যাদেরকে আগে কখনও দেখেননি সাকিফ। সুইমিং শেষে তারা কেক কাটেন। রুমে ফিরে তারা রাতের খাবার খান জানিয়ে সাকিফ বলেছেন, এরপর সাফাত, নাঈম, শাহরিয়ার, সে (মামলার বাদী) ও তার বান্ধবী ড্রিংক করে। সাফাত একটা ব্লু টুথ স্পিকারে গান ছাড়ে এবং সবাই মিলে নাচতে থাকে। নাচতে নাচতে মদ পান করছিল। একপর্যায়ে নাঈম ওই তরুণীর (বাদী)’র বান্ধবীকে নিয়ে একটি রুমে চলে যায়। তখনও নাঈমের হাতে মদের গ্লাস ছিল। শাহরিয়ারও তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে একটি ডিলাক্স রুমে যায়। সাফাত তখনও ওই তরুণীকে নিয়ে আমার সামনে নাচছিল। একপর্যায়ে তারা অন্তরঙ্গভাবে নাচতে থাকে এবং... খেতে থাকে। এ অবস্থায় আমি অস্বস্তিবোধ করি। তারপর সাদমান সাকিফ বাসায় চলে যান বলে জবানবন্দিতে জানান।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন