মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে হাসপাতালের এমডিকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ১৮ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৫
সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমডি ডা. শাহ আবদুল আহাদকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। গতকাল বিকালে হাসপাতালের অফিস কক্ষে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ডাক্তার আহাদ নিজেই। তবে বিকালে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রেস ব্রিফিংয়ে ডাক্তারকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। ঘটনাটির সত্যতার জন্য তিনি পুলিশকে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ঘটনার পর কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিলেটের রাস্তাঘাট প্রশস্তকরণের কাজ চালাচ্ছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ করে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ককে প্রশস্ত করে তিনি দুই লেন থেকে চার লেনের রাস্তা নির্মাণের কাজ চালাচ্ছেন। এ জন্য সিলেট সিটি করপোরেশন ও নয়াসড়ক এলাকা থেকে চৌহাট্রা পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই অনুযায়ী রাস্তার দু’পাশের জমির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেন। সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, রাস্তার ড্রেন সম্প্রসারণের জন্য ১১ই জুলাই ৬ ফুট রাস্তা ছেড়ে দেয়ার জন্য একটি পত্র দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান। ওই পত্রে তিনি সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমডিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নোটিশ প্রদানের পর গতকাল সিলেট সিটি করপোরেশনের একদল কর্মী রাস্তা সম্প্রসারণ কাজ করতে উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় আসেন। এ সময় ওই এলাকায় কাজ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নিষেধ করেন। এ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনাও দেখা দেয় ওই এলাকায়। এরপর উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের রাস্তায় সম্প্রসারণ কাজ করানোর জন্য মোবাইল ফোনে তিনি হাসপাতালের এমডি ডা. শাহ আবদুল আহাদের সঙ্গে কথা বলেন। কথাবার্তার এক পর্যায়ে মেয়রের সঙ্গে উত্তপ্ত ও অসৌজন্যমূলক বাক্য বিনিময় হয় এমডি ডা. শাহ আবদুল আহাদের। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়র আরিফুল হক অফিস থেকে সহকর্মীদের নিয়ে তাৎক্ষণিক সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। অফিস কক্ষে এমডি ডা. শাহ আবদুল আহাদকে পেয়েই সবার সামনে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং বেয়াদব বলে গাল-মন্দ করেন। এরপর তিনি হাসপাতাল থেকে চলে যান। ঘটনার পর হাসপাতালের এমডি ডা. শাহ আবদুল আহাদ জানিয়েছেন, তিনি কল্পনা করতে পারেননি একজন মেয়র তার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করতে পারেন। তার অফিসের সবার সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তিনি রীতিমতো বিস্মিতও হন। এ সময় সামান্য আহতও হন তিনি। তার আঘাতের কারণে তার কানে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান কোতোয়ালি থানার ওসি গৌসুল হোসেনসহ পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি এমডিসহ ডাক্তারদের বক্তব্য শুনেন। আর এ ঘটনার জন্য পুলিশের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. বশির আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- এ ঘটনায় মেয়র ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এমডি ডা. শাহ আবদুল আহাদ নিজেই বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন বলে জানান তিনি। বিকালে কোতোয়ালি থানার ওসি গৌসুল হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও তার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। এদিকে বিকালে এ নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনে জরুরি প্রেস ব্রিফিং করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি দাবি করেছেন, তিনি এমডির গায়ে হাত দেননি। মারধর করা হয়নি বলে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি। দাবি করেন, সিলেটের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে এখন ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা চলছে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সুচিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন

সিরাজগঞ্জে ভিজিডির ৭০ টন চাল উদ্ধার, আটক ১

শাহজালাল বিমানবন্দরে কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ

ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

‘সব মুসলিম, সব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নন’

ছবিতে মেক্সিকো ভূমিকম্প

বেলকুচিতে নিখোঁজের দুদিন পর কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার: আটক ২

‘সেনা অভিযান বন্ধ করুন’, মিয়ানমারের সেনাদের প্রশিক্ষণ বন্ধ করেছে বৃটেন

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক গণআদালতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বাংলাদেশের রাজিয়া

‘মনপছন্দ চরিত্র পেলে আমি দুই ধরনের ছবিতেই কাজ করব’

মেক্সিকোতে ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত কমপক্ষে ২২৬, বহু ভবন ধস