হারিয়ে যাচ্ছে বরগুনার টেংরাগিরি বনাঞ্চল

এক্সক্লুসিভ

মো. মিজানুর রহমান, বরগুনা থেকে | ১৮ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার
বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলায় সংরক্ষিত টেংরাগিরি বনাঞ্চল ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ডেউয়ের তোড়ে ভূমিক্ষয়ের ফলে প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে হাজারো গাছ। মূল্যবান এই গাছগুলো পচে ভেসে যাচ্ছে মূল্যহীন বস্তু হিসেবে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢুকে পড়ছে বনের ভেতরে, ফলে ধ্বংস হচ্ছে ইকোসিস্টেম। জোয়ারের সাথে আসা বালু শ্বাসমূলে জমে কমে যাচ্ছে শ্বাসমূলীয় হরেক রকমের গাছের সংখ্যা। বরগুনার স্থানীয় মানুষ এই বনকে ‘ফাতরার বন্থ নামে চিনলেও বন বিভাগের খাতায় এটি ‘টেংরাগিরি বনাঞ্চল’ নামে পরিচিত।
সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এটি। বরগুনার তালতলী থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত পর্যন্ত এই বনের আয়তন ১০ হাজার ৬৪৭ একর। টেংরাগিরি বনাঞ্চলের মধ্যদিয়ে চার কিলোমিটার হেঁটে গেলেই দেখা মেলে সুদীর্ঘ নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকত। চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও প্রায় তিন কিলোমিটার প্রস্থের সৈকতে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে বালিয়াড়িতে পড়ে থাকা অসংখ্য রেইনট্রি, কেওড়া ও ছৈলাগাছ। কিছু গাছের আবয়ব দাঁড়িয়ে থাকলেও গাছে নেই একটিও পাতা, কিছুদিনের মধ্যে হয়তো এই গাছগুলোও শেষ হবে সমুদ্রের ঢেউয়ে। অসংখ্য গাছের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে শিকড়-বাকড় দৃশ্যমান। সংরক্ষণের আভাবে পড়ে থাকা গাছগুলো বালুতে ঢাকা পড়েছে। নোনা পানির সংস্পর্শে নষ্টো হয়ে গেছে মূল্যবান এসব বৃক্ষ।  বন বিভাগের হিসাবে, টেংরাগিরি বনের ২১ কিলোমিটারজুড়ে চলছে তীব্র ভূমিক্ষয়। এতে গত ১০ বছরে বনের আয়তন কমেছে প্রায় চার কিলোমিটার। এর মধ্যে গত দুই বছরে অন্তত ১০ হাজার শ্বাসমূলীয় গাছ বিলীন হয়েছে। বেসরকারি হিসাব মতে এই সংখ্যা আরো বেশি। প্রাকৃতিক নিয়মে জন্ম নেয়া টেংরাগিরি বনে প্রচুর গেওয়া, জাম, ধুন্দল, কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, করমচা, বলই কেওয়া, তাল, বনকাঁঠাল, রেইনট্রি, হেতাল, তাম্বুলকাটা, গরানগাছ রয়েছে। এসব গাছগুলোকে সঙ্গী করে বসত গড়েছে কাঠবিড়ালি, বানর, সাপ, শজারু, শূকর, উদ, কচ্ছপ, শিয়াল, ডোরাকাটা বাঘ, বনমোরগ, মৌ মাছি, কাঁকড়াসহ হাজারো প্রজাতির প্রাণী। বন ঘেঁষে সোনাকাটা সৈকতের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে গড়ে উঠেছে সোনাকাটা ইকোপার্ক পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু প্রতিদিন হাজারো গাছ ধ্বংস প্রকৃতি ও মানুষের এসব আয়োজনকে এলোমেলো করে দিচ্ছে। গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইকোসিস্টেম। সংকটের মুখে পড়ছে নানা প্রাণিকুল। জোয়ারে আসা লবণাক্ত পানি বনের ভেতরে ঢালু সব স্থানে জমে থাকে জোয়ার শেষ হবার পরেও। এতে মাটির গর্তে থাকা অনেক প্রাণীর বসতি নষ্ট হচ্ছে। পিপড়ে, পোকামাকড়, সাপ, ব্যাঙ, গুইশাপ, কেঁচো ইত্যাদি প্রাণী প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে বন থেকে।
বন বিভাগ সূত্র বলছে, এই বনে গাছের মৃত্যুর কারণ শ্বাসমূলে বালু জমে যাওয়া ও ভূমিক্ষয়। আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল ঢেউয়ে উপকূলীয় পাড় ভাঙছে, গাছের গোড়ার মাটি ও বালু সরে গিয়ে শিকড় বেরিয়ে যাচ্ছে। এতে এসব শ্বাসমূলীয় গাছ ঠিকভাবে অক্সিজেন নিতে না পেরে পাতা ও কাণ্ড হলদে হয়ে প্রথমে সজীবতা হারায়, পরে মরে যায়।
সখিনা এলাকার বাসিন্দা রমিজ হাওলাদার বলেন, বছর কুড়ি আগে বাজানের লগে গাংগে আইতাম। তহন বনের মধ্যে ডরেও ঢোকা যাইতো না, এত ঘোন জোংগোল আল্লে। আর এহন গুরাগারায় বনে যাইয়া ঘুইরা ঘাইরা চইলা আহে। জোংগোল পাতলা হইয়া গ্যাছে। গাছ মইরা যায়, পইচা যায়, আর জোয়ারের লগে আওয়া বালির কারনে নতুন গাছ জাগেনা।
এলাকার আরেক বাসিন্দা আল-আমিন হোসেন বলেন, প্রতিনিয়ত দেখা যায় বড় বড় গাছ পানির সাথে মিসে যায়, তবে সরকারি গাছ বিধায় এলাকাবাসীও ব্যাবহার করতে পারে না। এসব গাছ যদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হত তবে অনেক কাজে লাগানো যেত।
বন বিভাগের সখিনা বিটের বিট কর্মকর্তা সজীব কুমার মজুমদার বলেন, প্রাকৃতিক কারনেই প্রতিনিয়ত বন ধ্বংস হচ্ছে, বন রক্ষা করতে হলে এলাকায়  কংক্রিটের ব্লক ফেলা ছাড়া এই ভাঙ্গন থেকে বনকে রক্ষার উপায় নেই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এছাড়া গাছগুলো সংরক্ষনের কোনো ব্যবস্থা আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, মূলত মুল্যবান বা দুর্লভ কোনো গাছ পড়ে গেলে তা আমরা সংরক্ষণ করার চেষ্টা করি। তবে সব গাছ সংরক্ষণ করার জনবল বা ব্যবস্থা নেই।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী কিংস

গুম আর জোর করে গুম এক নয়

আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু

‘দুর্নীতি বাড়ার জন্য রাজনীতিবিদরা দায়ী’

রংপুর ও রাজশাহীতে শীত বাড়ছে

‘ভারত ও চীন রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়ি ঘর নির্মাণে সহায়তা করবে’

দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত: যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ

বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় হাইকোর্টের রায় কাল

বরিশালে রানী এলিজাবেথের পুত্রবধূর একদিন

ইরান-সৌদি আরব বাকযুদ্ধ

বরখাস্ত তিনজন, তদন্ত কমিটি

‘শিগগিরই সুখবরটি শুনতে পাবেন’

যে রাস্তাগুলো বন্ধ থাকবে আজ

জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত

‘শেষ মুহূর্তে হলে সরকার সমঝোতায় আসবে’

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি