‘কুস্তির শহর’ থেকে ক্রিকেটের বিশ্বসেরা

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক | ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৮
বেশিদিন আগের কথা নয়। গত বছর ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর পাকিস্তান সুপার লীগের (পিএসএল) প্রথম সংস্করণের এক সংবাদ সম্মেলনে উপহাসের শিকার হন হাসান আলী। ঘরোয়া ফ্যাঞ্চাইজি পেশোয়ার জালমির পাকিস্তানি এ পেসারকে ‘ছাগল’ (গোট) বলে সম্বোধন করেন এক সাংবাদিক। আর এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল শেষে হাসান আলী পেলেন প্রশংসা সূচক (জিওএট, গ্রেটেস্টে অব অল টাইম) উপাধি। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ১৩ উইকেট নিয়ে হাসান আলীর হাতে ওঠে আসর সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এক আসরে ১৩ উইকেটের কৃতিত্ব রয়েছে আর কেবল ক্যারিবীয় পেসার জেরোম টেইলরের।
ভারতে আয়োজিত ২০০৬’র আসরে এমন কৃতিত্ব দেখান জেরোম টেইলর।  ২০১৬ পিএসএলে হাসান আলীর নৈপুণ্যটা খারাপ ছিল না। কিন্তু আপাতত অখ্যাত এ ক্রিকেটারের সেই ঘটনা তখন আলোচিত হয়নি তেমন। তবে হাসান আলী স্পট লাইটে আসেন অল্পকিছু দিন পরেই। গত আগস্টে ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তানের ক্যাপ মাথায় ওয়ানডে অভিষেক হাসান আলীর। অভিষেক ম্যাচ পাঁচ ওভারের স্পেলে ২১ রানে উইকেট শূন্য থাকেন তিনি। তবে পরের ২০ ম্যাচে হাসান আলির শিকার ৩৯ উইকেট। এ সময় ওয়ানডেতে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিকার তার। এতে হাসান আলীর ইনিংসে পাঁচ উইকেটের কৃতিত্ব রয়েছে দু’বার। প্রথমবার তিনি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্ব দেখান গেল জানুয়ারিতে সিডনিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আর গত এপ্রিলে প্রভিডেন্সে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৮ রানে পাঁচ উইকেট নেন হাসান আলী। আর মোহাম্মদ আমির, জুনাইদ খান, ওয়াহাব রিয়াজের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের উপস্থিতিতেও পাকিস্তান দলের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নবীন বোলার হাসান আলীই। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা শেষে ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে হাসান আলীর হাতে। আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে হাসান আলী পান এক উইকেট। তবে পরে টানা চার ম্যাচেই হাসান আলী দেখান ইনিংসে তিন উইকেট শিকারের কৃতিত্ব। ২১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে বল হাতে ইনিংসে তিন উইকেট পেলেন তিনি নবমবার। হাসান আলী বলেন, পাকিস্তানের একজন ক্রিকেটারের সবসময়ই ভারতের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন থাকে। ভারতের বিপক্ষে নৈপুণ্য দেখাতে চায়। আমিও ব্যতিক্রম নই। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে হার নিয়ে মিশন শুরুর করে পাকিস্তান। তবে পরে টানা চার ম্যাচে জয় দিয়ে শিরোপা কুড়ায় তারা। আর পাকিস্তানের জয় পাওয়া প্রত্যেক ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে ব্রেক-থ্রো এনে দেন হাসান আলী। তার শিকার ১৩ উইকেটের মাত্র তিনটি প্রতিপক্ষ দলের  লেজের দিকের ব্যাটসম্যানের। আসরে তিনি সাজঘরের পথ দেখান যুবরাজ সিং, ফাফ ডু প্লেসি, জেপি ডুমিনি, ওয়েইন পারনেল, কুশল মেন্ডিস, আসেলা গুনারত্নে, জনি বেয়ারস্টো, এউইন মরগান, বেন স্টোকস, মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো ব্যাটসম্যানদের। অধুনা ওয়ানডে খেলায় দলীয় ৩০০ রান নিয়মিত ঘটনা। তবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইনিংসের ১১-৪০তম ওভারে ৩.১২ ইকোনমি গড়ে ১৫০ বলে হাসান দেন ৭৮ রান। এ সময় তার শিকার ৬ উইকেট।
হাসান আলীর জন্ম লাহোর থেকে ৮০ কিলোমটিার উত্তরের দিকে অবস্থিত জেলা গুজরানওয়ালায়। কুস্তি এখানে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ইমরান নাজির ও আজহার খানের পর এ অঞ্চল থেকে টেস্ট খেলার গৌরব কুড়ানো মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার হাসান আলী। ২৩ বছর বয়সী হাসান আলী বলেন, এটা সত্যি যে আমার শহর কুস্তিগীরদের জন্য বিখ্যাত। তবে ক্রিকেটেও আগ্রহের কমতি নেই। এখানে আর সবার মতো আমিও টেপ-বল দিয়ে খেলতাম। কিন্তু আমার বড় ভাই আমাকে একদিন বলেন, তুমি যদি ক্রিকেটার হতে চাও তাহলে তোমাকে চামড়ার বল নিয়ে খেলতে হবে। বড় ভাই ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ওপেনিং ব্যাটসম্যান আতাউর রহমান হাসান আলীর মূল অনুপ্রেরণা। সেমিফাইনালে তার ম্যাচসেরা পুরস্কারও বড় ভাইকে উৎসর্গ করেন তিনি। হাসান আলী বলেন, আমার শহরে আমি খুবই আদর-মমতা পাচ্ছি।  তারা আমাকে আমার শহরের গর্ব বলে মনে করেন যা আমার কাছে খুবই সম্মানের।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন