বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন অর্ড

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৮
এএফসি অনূর্ধ্ব ২৩ চ্যাম্পিয়নশিপ কোয়ালিফায়ার্স ২০১৮ তে অংশ নেবে বাংলাদেশ। ১৯ জুলাই থেকে ফিলিস্তিনে অনুষ্ঠেয় এ টুর্নামেন্টে কোন লক্ষ্য নেই জাতীয় দলের নব নিযুক্ত কোচ অ্যান্ডু্র অর্ডের। তবে এই দল থেকেই ভবিষ্যতের একটি শক্তিধর দল গঠনের উদ্দেশ্য তার । গতকাল ৫৬ জনের প্রাথমিক দল ছোট করে ৩৬ জনের দল ঘোষণা করেছে বাফুফে। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অর্ড।
আজ থেকে সাভারস্থ বিকেএসপিতে শুরু হবে অনুর্ধ্ব-২৩ দলের আবাসিক ক্যাম্প। মাঝে তিন দিন ঈদের বিরতি দিয়ে চলবে টুর্নামেন্টের আগ পর্যন্ত।
ফিলিস্তিন যাবার আগে বাংলাদেশ দলকে বেশ কয়েকটি অনুশীলন ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা আছে বাফুফের। বাংলাদেশ আছে গ্রুপ ‘ই’তে যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ জর্ডান, তাজিকিস্তান এবং স্বাগতিক ফিলিস্তিন। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো হবে ১৯, ২১ এবং ২৩শে জুলাই। ‘এই টুর্নামেন্টে আমাদের কোনো লক্ষ্য নেই। মূলত টুর্নামেন্টটা হবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পরখ করে দেখার। তারা দেশের বাইরে কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে কেমন খেলে। তাদের মনোবল, সামর্থ্য কেমন সেটা দেখা। এবং সে অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ এবং সাফের জন্য দল গঠন করা’-কথাগুলো জাতীয় দলের কোচ অ্যান্ড্রু অর্ডের। ভবিষ্যতে ভালো ফুটবলার তৈরি করতে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের ৯ জনকে রাখা হয়েছে এই দলে। এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান কোচ বলেন, ‘আমরা প্রথমে ৫ দিন ও পরবর্তীতে ৩ দিনের ট্রায়াল নিয়েছি। ট্রায়ালে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের বেশ কিছু ফুটবলারকে ডাকা হয়েছিলো। তাদের সুযোগ দেয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করা আমার দায়িত্ব।’ আক্রমণভাগে সমস্যা আছে উল্লেখ করে অর্ড বলেন, আমি যতটুকু দেখেছি এই দলে আক্রমণভাগে দুর্বলতা আছে। আমার এ নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য জ্বর ও ইনজুরির কারণে বেশকিছু ফুটবলারকে আমি দেখতে পারিনি। তবে যাদের পেয়েছি এটুকু বুঝেছি নবীনদের মধ্যে প্রতিভা আছে। এই দলকে দিয়ে অলৌকিক কিছু আশা করা যায় না। তারা যেন বিদেশের মাটিতে দেশের  ফুটবলের সুনাম বৃদ্ধি করতে পারে আমি সে চেষ্টাই করে যাব। এই দলকে নিয়ে কী দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া সম্ভব কিনা জানতে চাইলে নতুন এ কোচ বলেন, ফুটবলে অসম্ভব কিছুই না। তবে আমি এই টুর্নামেন্টে কোনো কিছুর নিশ্চয়তা দিচ্ছি না। কোনো প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছি না। আমাদের লক্ষ্য থাকবে নিজেদের সেরাটা উপহার দেয়া।’
ইনজুরি ও অসুস্থতাজনিত কারণে দলের সঙ্গে না থাকা ফুটবলারদের প্রসঙ্গে দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু জানান, ‘জুয়েল রানা ও হেমন্ত অসুস্থতার কারণে দলের সঙ্গে যোগ  দিতে পারেননি। হেমন্তর বাবা গতকাল  রোববার আমার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। সে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। তার বাবা আমাদের অনুরোধ করেছেন হেমন্তর বিষয়ে একটু ছাড় দিতে। মনসুরের বাবা খুবই অসুস্থ। রুবেল মিয়া হালকা ইনজুরড। সে রিপোর্ট করেছে কিন্তু ট্রেনিংয়ে থাকতে পারেনি। আশা করি ইনজুরি কাটিয়ে তিন-চারদিনের মধ্যে সে দলের সঙ্গে যোগ দেবে। কৌশিক ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন (গতকাল) রোববার।
যুদ্ধ বিদ্ধস্ত ফিলিস্তিনে নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। এমন দেশে বাংলাদেশ খেলতে যাচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে বাফুফে কী ভাবছে জানতে চাইলে রূপু বলেন, এএফসি যেহেতু টুর্নামেন্টটা ঐ দেশে আয়োজন করেছে। তারা নিরাপত্তা ব্যাবস্থা নিশ্চিত করেই আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাবো আমরা।
প্রাথমিক দল: সোহেল রানা, রুবেল মিয়া, বাদশা, সাদউদ্দিন, মাসুক মিয়া জনি, নুরুল নাঈম ফয়সাল, মনসুর আমিন, জাফর ইকবাল, কৌশিক বড়ুয়া, আবদুল্লাহ, সুশান্ত, রাকিন, মান্নাফ রাব্বি, মো. নাঈম, সুজন, মাসুদউদ্দিন চৌধুরী, সোহেল মিয়া, সরোয়ার জামান নিপু, রকি, মাহফুজ হাসান প্রিতম, আতিকুজ্জামান, আবদুুল মালেক, দিদারুল আলম, আলমগীর মোল্লা, খালেকুজ্জামান, নয়ন, ফজলে রাব্বি, তকলিস আহাম্মেদ, মনজুর রহমান, আসাদুজ্জামান বাবলু, জুয়েল রানা, হেমন্ত ভিনসেন্ট, ইব্রাহিম, আনিসুর রহমান, রিয়াদুল হাসান, রহমত আলী।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন