রাজধানীতে বিদ্যুতের তার কেড়ে নিলো তিন প্রাণ

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার
 ‘সকালে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। টিনশেডের ঘরে শুয়ে ছিলাম। এ সময় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ঘটে একটি তার বিচ্ছিন্ন হয়ে আমাদের ঘরের উপরে পড়ে। তখন আমার শরীর কেঁপে উঠে। আমি দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু ঘর থেকে আমার মা এবং স্ত্রী-মেয়ে বের হতে পারেনি।
কিছুক্ষণ  পর ঘরে গিয়ে দেখি তিনজনের শরীর ঝলসে গেছে। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এখন আমি কি নিয়ে বাঁচবো। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চকবাজারে নিহত তিনজনের স্বজন বাচ্চু মিয়া।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চকবাজার থানাধীন পশ্চিম ইসলামবাগের ৭০/১২ নম্বর একটি টিনশেডের দোতলা বাড়িতে বাচ্চু মিয়া পরিবার নিয়ে থাকতেন। গতকাল সকাল ১১ টার দিকে ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ লাইনের একটি ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় একটি বিদ্যুতের ছেঁড়া তার টিনের ওপর পড়ে। এতে আমেনা বেগম (৫৫), তার বৌ শিরিন আক্তার (৩০) এবং শিরিনের মেয়ে আফরিন (৫) গুরুতর দগ্ধ হন। অচেতন অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে নিহতদের আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। তাদের আহাজারীতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। হাসপাতালে আসা দর্শনার্থীরা সেখানে ভিড় জমান। পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত আমেনা বেগমের ছেলে বাচ্চু মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সকালে বৃষ্টি হওয়ার কারণে তিনি তার চায়ের দোকানে যেতে পারেননি। ঘরের মধ্যে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় বিকট শব্দে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই আমি ঘর থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু, আমার বৃদ্ধা মা, আমার স্ত্রী ও শিশু সন্তান বের হতে পারেনি। ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর সেখান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। আমি জোর করে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলেও কেউ আমাকে যেতে দেয়নি। নিহত আমেনা বেগমের মামাতো বোন রাবেয়া বেগম জানান, তার মামাতো বোনের সেটি নিজেদের বাড়ি। তারা ইসলামবাগ এলাকার পুরানা বাসিন্দা। বাড়ির ওপরে থাকা ট্রান্সফরমাটি একাধিকবার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, বাড়ির পাশ ঘেঁষে সেটি হওয়ার কারণে সবার পিলে চমকে উঠতো। আতঙ্কে সবাই ঘর থেকে বের হয়ে আসতেন। অনেকক্ষণ পরে ঘরে ঢুকতেন। কিন্তু, এবার কেউ সময় পায়নি। তিনি আরও জানান, ট্রান্সফরমার মেরামতের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অনেকবার বলার পরও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। নিহতদের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং এলাকায়। চকবাজার থানার ওসি শামীম-অর-রশিদ তালুকদার জানান, নিহত তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল  কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন