আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশেই হামলা : রিজভী

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, এই হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুনরুজ্জীবিত ও বহুব্যাপী সন্ত্রাসের আরেকটি বিপজ্জনক মাত্রা দৃশ্যমান হলো। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- আওয়ামী সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের নির্দেশেই বিএনপি মহাসচিবসহ নেতৃবৃন্দের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। গুণ্ডামির এই নবসংস্করণ জনসমর্থন ছাড়া দুঃশাসন টিকিয়ে রাখারই ইঙ্গিতবহ। গণতন্ত্রের সর্বশেষ অস্তিত্বকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার জন্যই এটি একটি সহিংস আগ্রাসী পদক্ষেপ। এরা বিরোধী দলের মানবকল্যাণধর্মী সমাজসেবামূলক কর্মসূচিকেও বানচাল করতে হিংস্র আক্রমণ চালায়। গতকাল দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, আওয়ামী সরকার জবাবদিহিতার শব্দ তাদের অভিধান থেকে মুছে ফেলেছে। সেজন্য তারা বেপরোয়া, উদ্ধত ও সন্ত্রাসের আশ্রয়প্রার্থী। আর এ কারণেই উপদ্রুত এলাকা দেখতে যাবার পথে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের ওপর আক্রমণ করতে দ্বিধা করেনি। কারণ রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তির প্রটেকশন ও উস্কানি সন্ত্রাসীদেরকে উৎসাহিত করে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ভদ্রতার নিয়মকানুন মানা আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যে নেই। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস আর গুণ্ডামীকেই নিজেদের জীবনে-আচরণে-কর্মক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। আওয়ামী-রাষ্ট্র সমালোচনা ও বিরোধী দলের গণতন্ত্রস্বীকৃত তৎপরতাকে স্তব্ধ করে দেয়া বাধ্যতামূলক কর্মসূচি বলে মনে করে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, গণবিচ্ছিন্নতার কারণে এক অজানা ভয় থেকে আওয়ামী লীগের মনস্তাত্ত্বিক আবহাওয়া বদলে গেছে। এখন সবকিছু হারিয়ে তারা শেষ ভরসা হিসেবে গুণ্ডা রাজত্ব কায়েম করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। সে জন্যই তারা নিরপরাধ, নিরীহ ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর চড়াও হচ্ছে। লুট আর দখলবাজি অব্যাহত রাখতে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে মারছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুঃশাসনের প্রকোপ এখন বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের জন্য বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলো, নাগরিক সমাজ, নাগরিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ব্যক্তিবর্গ, মুক্তচিন্তার লেখক, বিবেকবান সাংবাদিক সবাই শেখ হাসিনার চরম রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার। রিজভী বলেন, নির্বাচন আসার আগেই গুণ্ডামি ও সন্ত্রাসকে যেভাবে প্রজনন করা হচ্ছে তাতে আগামী জাতীয় নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে হলে অবাধ-সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কী শোচনীয় বিপর্যয় ঘটবে তা সহজেই অনুমেয়। সেই নির্বাচন হবে একতরফা, সন্ত্রাসকবলিত। ভোটের দিন ও এর পূর্বাপর অবস্থা চরম অরাজকতায় ঢেকে থাকবে। রিজভী বলেন, মহাসচিবের উপর হামলার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একই ঘটনার যপ্রতিবাদে নাটোরেও পুলিশ মিছিলে হামলা চালিয়ে নাটোর সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ নাটোর বিএনপির সকল নেতাকর্মীর বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে পুলিশের এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিএনপির ইফতার মাহফিলে হামলা চালিয়ে প্যান্ডেল ভাঙচুর ও ইফতার সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে আওয়ামী লীগের কর্মীরা। একইভাবে নেত্রকোনায় ইফতার মাহফিলেও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ইফতার মাহফিল পণ্ড করে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন