শুরু হলো গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম

এক্সক্লুসিভ

বিশেষ প্রতিনিধি, জার্মানির বন থেকে | ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার
জার্মান রেডিও ডয়চে ভেলের উদ্যোগে দেশটির বন শহরে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী দশম ‘গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম’। এবার ফোরামের উদ্বোধনী পর্বের অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য- এ বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভরতাকে কল্যাণমুখী করার তাগিদ দিয়েছেন উদ্বোধনী পর্বের বক্তারা। প্রতি বছরের মতো এবারো একটি বিষয় নির্ধারিত হয়েছে সম্মেলনে। গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামের এবারের স্লোগান ‘অভিন্নতা ও বৈচিত্র্য’। প্রতিবারের মতো গণমাধ্যম, একাডেমিয়া, রাজনীতি, এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ কনফারেন্স।
১৩০টি দেশের ৬৫০ জন সাংবাদিক ও ৭৫০টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২,০০০ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন এবারের কনফারেন্সে। এবারের কনফারেন্সে গুরুত্ব পাচ্ছে ব্রেক্সিট, ট্রাম্পের বিজয় ও  জেনোফোবিয়াসহ জাতীয়তাবাদের ধারণা, ভুয়া সংবাদের প্রভাব এবং সাংবাদিকতায় প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়গুলো। উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা বাকস্বাধীনতা, বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে গণমাধ্যমের ভূমিকা, গণমাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের প্রয়োজনীয়তা ও এর ক্ষতিকর দিক নিয়ে কথা বলেন। তারা বলেন, গণমাধ্যম এখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দিন দিন বাকমাধ্যমের ওপর আঘাত বাড়ছে, তার ওপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষত ফেসবুকের বিকাশের কারণে সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা ঝুঁকিতে পড়ছে। ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক পেটার লিমবুর্গ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুধু মানবাধিকার ইস্যুতেই পক্ষ নিতে পারে, অন্য কোনো বিষয়ে নয়। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উদ্দেশে তিনি বলেন,  গণমাধ্যম আপনাদের শত্রু নয়, বরং এটিকে অনেকেই নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। উদ্বোধনী পর্বে বন শহরের মেয়র অশোক শ্রীধরণ বলেন, যতই বাধা আসুক সাংবাদিকরা চুপ থাকবে না। জার্মানির অর্থনীতি ও জ্বালানি বিষয়ক ফেডারেল মিনিস্টার ব্রিগেটে স্যুপ্রিস প্রযুক্তিকে আরো সহজলভ্য ও ভবিষ্যতের জন্য উন্নতি করতে তার সরকারের নানা উদ্যোগের কথা জানান। একই সঙ্গে ভুয়া সংবাদের বিস্তার ঠেকাতে আরো কার্যকর কিছু করার আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, ভিন্নমত থাকবেই। বিতর্কও করতে হবে। কিন্তু ইদানীং ইন্টারনেটে কিছু কিছু বিতর্ক উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। কারণ, তাদের ভিত নেই। তিনি মনে করেন, জনগণের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে, বিশেষ করে নির্বাচনের সময়, ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যমগুলো ভূমিকা রাখে। সেক্ষেত্রে প্রোপাগান্ডা বা ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিশেষ কিছু করা প্রয়োজন রয়েছে। প্রতি বছর ডয়চে ভেলের উদ্যোগে সেরা ব্লগ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয় এই গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে। এবার সেজন্য হাজির হয়েছেন বিজয়ী ব্লগাররা।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন