কানাডায় অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য প্রথম বাংলা ওয়েবসাইট

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা

| ২০ মে ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৫৮
কানাডা'র অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ইমিগ্রেশন টু কানাডা’-এর যাত্রা সম্প্রতি শুরু হয়েছে। প্রবাসে ও বাংলাদেশে বসবাসকারী কিছু তরুণ পেশাজীববী ওয়েবসাইটি তৈরি করেছেন। তাদের এই উদ্যোগটি কিন্তু সম্পূর্ণ অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবীমূলক।
যাঁরা কানাডায় অভিবাসী হয়ে আসতে চান এবং যাঁরা নতুন অভিবাসী হিসেবে স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাস শুরু করেছেন, তাঁদেরকে সম্ভাব্য সব ধরনের তথ্যগত সহযোগীতা প্রদানের জন্যে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গতবছর ‘ইমিগ্রেশন টু কানাডা’র ভলান্টিয়ারগণ তাদের ফেসবুক পাতাটির (https://www.facebook.com/immigrationandsettlement) কার্যক্রম শুরু করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত মার্চে একটি ওয়েবসাইটের (www.immigrationandsettlement.org) উদ্বোধন করা হয়।

‘ইমিগ্রেশন টু কানাডা’ ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কানাডা'র ইমিগ্রেশন প্রসেসিং -এর সকল বিষয় সবার কাছে বাংলা ভাষায় সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা। এজন্য কানাডা'র অভিবাসন সংক্রান্ত সকল তথ্যগত সহযোগীতার জন্যে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত সকল তথ্যের সমন্বয়ে একটি শক্ত সঠিক রেফারেন্স নির্ভর তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে।
এটা নতুন অভিবাসীদের জন্য কানাডায় বসবাস সংক্রান্ত সকল তথ্যগত সহযোগীতার জন্যে একটি প্ল্যাটফর্ম। স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার যে স্থানটি হবে স্বেচ্ছাসেবীদের নিজস্ব দক্ষতা উন্নয়নের একটি সুযোগ্য প্ল্যাটফর্ম।
তাদের সঙ্গে কানাডিয়ান অভিবাসন বিষয়ক কোন আইনজীবি অথবা কানাডিয়ান অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কোনও প্রকার সম্পৃক্ততা নেই। এখানকার সকল তথ্য সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা হয়েছে। শুধুমাত্র কানাডায় অভিবাসন বিষয়ক প্রশ্নগুলোর উত্তর স্বেচ্ছাসেবীরা অভিজ্ঞতার আলোকে দিয়েছেন। ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকের এই পাতাটির সকল তথ্য এবং সহযোগিতা সকলের জন্যে উন্মুক্ত এবং বিনামূল্যে ব্যবহারের উপযোগী। এই প্লাটফর্ম থেকে ইমেইলে সেবাগ্রহণকারীদের ব্যাক্তিগত তথ্যাবলি সম্পূর্ণ গোপন থাকবে, কখনও তা ব্লগে অথবা অন্য কোন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হবেনা। ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকের পাতাটি সম্পূর্ণরূপে রাজনীতিমুক্ত। ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন মন্তব্য, ধর্মপ্রচার ও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত, উদ্দেশ্যমূলক স্প্যামিং, বিনা অনুমতিতে বিজ্ঞাপন প্রচার, ব্লগ বা ফেসবুকের পরিবেশ নষ্টকারী ইত্যাদি বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলা হয় এই ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেইজে। মেধাসত্ত্ব লঙ্ঘন করে, এমন কোন লেখাকে স্বেচ্ছাসেবীগণ সমর্থন বা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন। মাতৃভাষা বাংলায় স্বেচ্ছাসেবীগণ সকল লেখা প্রকাশ করে থাকেন। কানাডা'র স্বার্থ এবং আইন বিরোধী কোন বক্তব্য 'ইমিগ্রেশন টু কানাডা' ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত হবেনা এবং স্বেচ্ছাসেবীগণ এ ধরনের বক্তব্য বা লেখাকে সমর্থন করেন না।

এছাড়া ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পাতায় ফ্রেঞ্চ ভাষা শিক্ষার একটি প্রাথমিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খুব সহজভাবে ফ্রেঞ্চ শেখানোর জন্যে একজন স্বেচ্ছাসেবী এই পাতার সকলকে সাহায্য করবেন। এছাড়াও ‘আইইএলটিএস’ এর প্রতিটি মডিউলে ভালো স্কোর তোলার জন্যে সহযোগীতা এখানে পাওয়া যাবে। কানাডায় অভিবাসন প্রত্যাশী এবং বাংলাভাষী যে কেউ ফেইসবুক পাতা এবং ওয়েবসাইটের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে এই অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে অবদান রাখতে পারবেন।

সম্পূর্ণ অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজ হওয়ায় হওয়ায় নিজেদের নাম প্রকাশে অপরাগতা প্রকাশ করেন এর পেছনের কারিগররা। উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন জানান, ওয়েবসাইটি কানাডায় ইমিগ্রেশন এবং সেটেলমেন্ট বিষয়ক বিনামূল্যে তথ্যগত সাহায্য গ্রহণের নতুন এক মাইলফলক। ‘ইমিগ্রেশন টু কানাডা’-এর স্বেচ্ছাসেবীগণ স্বপ্রণোদিতভাবে চান যেন বাংলা ভাষাভাষীরা অপার সম্ভাবনাময় কানাডায় অভিবাসী হিসেবে আসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে আরও মজবুত করেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব ব্র্যান্ডিং-এর যুগে ‘বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে কানাডার মাটিতে ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ লাভ করেন।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Tapas kumar saha

২০১৭-০৮-২৫ ১৩:১১:১০

অনেক মূল্যবান।

মীর অাল অামীন

২০১৭-০৮-০১ ০৭:২৯:০৭

অামি সরকারী চাকুরি করি৷ অামি সিভিল ডিপ্লোমা ইন্জিনিঢার ৷ অামার স্ত্রী ল তে অনাস মাস্টাস করা অামাদের একটি ছেলে 4 বছর + আমি আমার ফ্যামিলি নিয়ে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আগ্রহী, এখন আমাকে কি কি করতে হবে। জানাবেন কী?

ফয়সল মিয়া

২০১৭-০৬-২৯ ১০:০২:৪৪

আমি একজন মাঝারী ধরনের ব্যাবসা করি। আমি আমার ফ্যামিলি নিয়ে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আগ্রহী, এখন আমাকে কি কি করতে হবে। জানাবেন কী?

আপনার মতামত দিন