গরম ব্লেড, ফুটন্ত পানি ঢেলে নির্যাতন

মালয়েশিয়ায় আটকে মুক্তিপণ

শেষের পাতা

এমকে ভূঁইয়া সোহেল, বাসাইল (টাঙ্গাইল) থেকে | ২০ মে ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৭
অভাবের সংসারে সচ্ছলতা আনতে তিন মাস আগে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান বাসাইলের হযরত আলী (৩২) ও শাভলু মিয়া (৩৫)। কে জানতো তাদের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। মালয়েশিয়ায় গেছে ঠিকই কিন্তু পড়েছে প্রতারকচক্রের খপ্পরে। প্রতারকচক্র  শরীরে ফুটন্ত পানির সেঁক, গরম ব্লেড দিয়ে শরীর কেটে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরিবারকে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। এ অবস্থায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বাসাইল থানায় সাধারণ ডায়েরি ও র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত ৭ই মে র‌্যাব অভিযোগ পাওয়ার পর আলম নামের এক আদম ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে এ দু’জনকে দুই জায়গায় আটকে রেখে মোটা অঙ্কের টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। টাকা না দিলে লাশ ফিরবে বাংলাদেশে এ রকম হুমকি দিয়ে ইমুতে বার্তা পাঠাচ্ছে। হযরত আলী উপজেলার সুন্না গ্রামের আবদুল কাদের মিয়ার ছেলে এবং শাভলু মিয়া পার্শ্ববর্তী সখীপুর উপজেলার কাঙ্গালীছেওয়ের  আবুল হোসেনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আদম ব্যবসায়ী সখীপুর উপজেলার বেরবাড়ি গ্রামের মিজান মিয়া ও বাসাইল উপজেলার সুন্না গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আলম মিয়ার সঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকায় মালয়েশিয়ায় কাজ নিয়ে দেবে বলে চুক্তি করে হযরত এবং শাভলু। শর্ত মতে হযরত নগদ সাড়ে ৩ লাখ এবং শাভলু দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করে। এ বছর ১৮ই ফেব্রুয়ারি তাদের দু’জনকে মালয়েশিয়া নেয়ার উদ্দেশ্যে আদম ব্যবসায়ীরা  বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।
১৫ দিন পর ফোনে জানানো হয় হযরত ও শাভলু মালয়েশিয়াতে জেলে আছে। হযরতের জন্য আরো ৮০ হাজার এবং শাভলুর  বাকি ২ লাখ টাকা পরিশোধ করে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা দিলে তাদের মুক্ত করা হবে।
এ সংবাদে দুই পরিবারের সদস্যরা আদম ব্যবসায়ী মিজান ও আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা দাবিকৃত টাকা বুঝে পেয়ে তাদের জেল থেকে ছাড়াবার তারিখ দেয়। কিন্তু জেল থেকে ছাড়া পাওয়া দূরে থাক প্রতারকচক্রের আত্যাচার থেকেও অদ্যাবধি তারা ছাড়া পায়নি। জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালালদের যোগসাজশ রয়েছে বলে উভয় পরিবারের অভিযোগ।
এ ব্যাপারে হযরত আলীর স্ত্রী রাবেয়া বেগম মানবজমিনকে বলেন, ভিডিও কলে স্বামীর উপর অমানুষিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। যশোরের মাসুদ রানা নামের একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর +৬২৭৬৫৯১০৯৪ এবং তার স্ত্রীর মোবাইল নম্বর ০১৮৮৪৫২৩৩৭৯ দিয়ে টাকা পাঠাতে বলে।
শাভলুর স্ত্রী নুরজাহান বেগম মানবজমিনকে বলেন, আদম ব্যবসায়ী মিজানকে জেলে আটক, অত্যাচার, মুক্তিপণের কথা বলে কান্নাকাটি করেছি। মিজানের দাবিকৃত বাকি টাকা পরিশোধ করেছি। সে বলেছিল জেল থেকে ছাড়িয়ে দেবে, কিন্তু বুঝতে পারিনি আদম ব্যবসায়ী মিজানরা  প্রতারকচক্রের সঙ্গে মিলে এসব করছে।
এ ব্যাপারে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, এ ব্যাপারে মামলা দায়ের হয়েছে। ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দাবি

এখনও আসছে রোহিঙ্গারা, সমঝোতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

৯০ টাকা ছাড়ালো পিয়াজের কেজি

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি মামুলি ব্যাপার

‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’

চিরঘুমে লোকসংগীতের মহীরুহ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার ক্ষতি পোষাতে দরকার ১০০ কোটি টাকা

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ

দুই দলেই হেভিওয়েট প্রার্থী

দরিদ্রদের জন্য বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে

৭ই মার্চ ভাষণের স্বীকৃতিতে দেশব্যাপী শোভাযাত্রা আজ

সম্মতিপত্র প্রকাশের দাবি বিএনপির

ঘরে ঘুরে দাঁড়ালো চিটাগং

মিশরে মসজিদে জঙ্গি হামলা, নিহত কমপক্ষে ২৩০

‘শেষ মুহূর্তে হলে সরকার সমঝোতায় আসবে’

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি