পান্থকুঞ্জের বেহাল দশা

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ মে ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৯
সীমানা প্রাচীরের লোহার এঙ্গেলগুলো ভেঙে গেছে অনেক আগে। দুই এক জায়গায় নয়, অন্তত চার-পাঁচ জায়গায়। গাছের পাতা পড়ে তৈরি হয়েছে ময়লার বাগাড়। ঝড়-তুফানে ভেঙে পড়া গাছগুলো সময় মতো সরানো হয় না। পড়ে থাকে বছরের পর বছর। মূল উপড়ে আসা গাছগুলো পার্কে চলাচলরত মানুষের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বসার জায়গাগুলো মাদকসেবী, ছিন্নমূল মানুষ আর ভিক্ষুকদের আড্ডাখানা। ব্যায়াম করার রাইডগুলো ব্যবহার অনুপযোগী। মূল ফটকের চারপাশের সীমানা প্রাচীর ঘিরে ছিন্নমূল মানুষ বসবাস করছে বছরের পর বছর ধরে। রাজধানীর কাওরান বাজারের সোনারগাঁও হোটেলের ঠিক উল্টো পাশে অবস্থান পান্থকুঞ্জ পার্কের। ক্লান্ত পথচারীদের বিশ্রামের জন্য নির্মিত এ পার্কটি এখন রীতিমতো বস্তি। নোংরা, ময়লা, দুর্গন্ধে পার্কের অবস্থা বেহাল। নিয়মিত যাদের ব্যায়াম করতে দেখা যেত সেই মুখগুলো এখন আর দেখা যায় না। পার্কে ঘুরতে আসা কাঁঠালবাগানের আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই এ পার্কে আসা যাওয়া করেন। কাঁঠালবাগানের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে অনেক দিনের জানাশোনা এ পার্কটি। তিনি বলেন, আমি ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে পার্কে এসে খেলা করতাম। পরে বন্ধুদের সঙ্গে এসে খেলাধুলা করতাম। তখন পার্কের অবস্থা অনেক ভালো ছিল। ব্যায়াম করার রাইডগুলো ভালো ছিল। আশপাশের অনেকেই সকালে এবং রাতে এসে এখানে ব্যায়াম করতেন। কিন্তু পার্কটি এখন নোংরা হয়ে গেছে। তাই আর কেউ আসেন না। হঠাৎ পরিচিত দুই একজনকে দিনের বেলা দেখা যায়। কিন্তু রাতের বেলা ভিন্ন চিত্র থাকে। জাকির নামের আরেক ব্যক্তি জানান, দিনের বেলা এখানে বসার জায়গাগুলো মাদকসেবী আর ভিক্ষুকরা দখল করে রাখে। রাতের বেলা মাদকসেবী আর বিক্রেতাদের আড্ডাস্থল হয়ে ওঠে। সরজমিন পার্কের বাংলামোটর থেকে কাওরানবাজারমুখী রাস্তার পাশে গিয়ে দেখা যায়, লোহার সীমানা প্রাচীরগুলো ভেঙে পার্কে ঢোকার একাধিক রাস্তা তৈরি হয়েছে। ফলে যখন তখন বখাটেরা পার্কে প্রবেশ করে আড্ডা দিতে পারে। ছিনতাইকারী, ছিন্নমূল আর ভাসমান পতিতাদের এখানে অবস্থান করতে দেখা গেছে। পার্কের মূল প্রবেশদ্বার ময়লা আবর্জনা আর হকারদের দখলে চলে গেছে। তার ঠিক পাশেই পার্কের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ভাসমান মানুষ অস্থায়ী নিবাস গড়ে তুলেছে। এছাড়া পার্কের মধ্যে পাবলিক টয়লেটে আর পথচারীদের প্রস্রাবের গন্ধে ঘুরতে আসা পথচারীরা বেশি সময় অবস্থান করতে পারে না। বখাটেরা পার্কের মধ্যে প্রস্রাব পায়খানা করে দূষিত করে তুলেছে ভিতরের পরিবেশ। ভিতরে ঝোপঝাড়গুলো বড় হয়ে জঙ্গল তৈরি হয়েছে। পার্কের সঙ্গে বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়কে সব সময়ই ময়লার স্তূপ থাকে। আশপাশের এলাকা থেকে সব ময়লা এনে সড়কের পাশে রাখা হয়। বেশ কয়েকটি কনটেইনারও থাকে সেখানে। ময়লার বস্তা জমতে জমতে মূল সড়কের অর্ধেক দখল হয়ে যায়। ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধও।


 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন