একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু

শিক্ষাঙ্গন

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ মে ২০১৭, বুধবার
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী পছন্দের ১০টি কলেজে আবেদন করতে পারবেন। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড মেধা অনুযায়ী একটি কলেজ নির্ধারণ করে দিবে। অনলাইন ও টেলিটক মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ২৬শে মে পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ভর্তি শুরু ২০শে জুন থেকে। ক্লাস শুরু হবে ১লা জুলাই থেকে। গতকাল দুুপুরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর আগে গত রোববার শিক্ষামন্ত্রণালয় জারিকৃত ২০১৭-১৮ সালের ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে।
অনলাইনের (www.xiclassadmission.gov.bd) পাশাপাশি টেলিটক মোবাইল থেকে এসএমএস করেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করা যাবে। অনলাইনে ১৫০ টাকা ফি জমা দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আবেদন করা যাবে। এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করতে প্রতি কলেজের জন্য ১২০ টাকা ফি দিয়ে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করা যাবে। একজন শিক্ষার্থী যতগুলো কলেজে আবেদন করবে তার মধ্য থেকে শিক্ষার্থীর মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি মাত্র কলেজ নির্ধারণ করে দিবে শিক্ষা বোর্ড।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, যারা ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছে, তাদেরও এই সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ২৭শে থেকে ২৯শে মে শিক্ষার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি করা হবে। পুনঃনিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে তারা ৩০শে থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। প্রথম তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ৬ থেকে ৮ই জুন সিলেকশন নিশ্চিত (যে কলেজের তালিকায় নাম আসবে ওই কলেজেই শিক্ষার্থী ভর্তি হবে- তা এসএমএসে নিশ্চিত করতে হবে। এরপর মাইগ্রেশনের আবেদন (অপশন প্রদান) এবং নতুন আবেদন করা যাবে ৯ থেকে ১০ই জুন পর্যন্ত। ১৩ই মে দ্বিতীয় পর্যায়ে এবং ১৮ই মে তৃতীয় পর্যায়ের ভর্তি ফল প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা ১৪ থেকে ১৫ জুন সিলেকশন নিশ্চিত করবে এবং মাইগ্রেশন আবেদন (অপশন প্রদান) ও নতুন আবেদন করতে হবে ১৬ থেকে ১৭ই জুনের মধ্যে। তৃতীয় পর্যায়ে তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ১৯শে জুন সিলেকশন নিশ্চিত করবে। ২০ থেকে ২২শে জুন এবং ২৮ থেকে ২৯শে জুন দুই দফায় শিক্ষার্থী ভর্তি শেষে আগামী ১লা জুলাই ক্লাস শুরু হবে।
ভর্তির নীতিমালা আরো বলা হয়েছে, এ বছর উত্তীর্ণ ছাড়াও ২০১৫ ও ২০১৬ সালে মাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। বিভাগীয় সদরের কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের ৮৯ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অবশিষ্ট ১১ শতাংশ আসনের মধ্যে তিন শতাংশ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সদরের বাইরের এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য, পাঁচ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং দুই শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া এবার থেকে প্রবাসীদের সন্তান এবং বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের জন্য শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত ফির চেয়ে কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নিলে পাঠদানের অনুমতি, অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলসহ এমপিও বাতিল করে ওই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা নীতিমালায় বলা হয়েছে।
এগিকে গতকাল দুপুরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবে মো. সোহরাব হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন