আহমাদিনেজাদের প্রার্থিতা বাতিল

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার
 ইরানে বর্তমান প্রেসিডেন্ট সহ ৬ জনকে আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমতি দিয়েছে দেশটির একটি প্যানেল। কিন্তু বাতিল হয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের প্রার্থিতা। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
খবরে বলা হয়, ইরানের ‘অভিভাবক পরিষদে’র এ সিদ্ধান্তে তুলনামূলক মধ্যপন্থি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আরও ৫ প্রার্থীর সঙ্গে। এদের মধ্যে রয়েছেন দুজন কট্টরপন্থি নেতা। একজন হলেন এবরাহিম রাইসি, যাকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ ভাবা হয়। আরেকজন রাজধানী তেহরানের মেয়র মোহাম্মাদ বাঘের কালিবাফ।
ধর্মীয় নেতাদের আধিপত্য রয়েছে অভিভাবক পরিষদে। নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে পারবেন তা নিয়ন্ত্রণ করে এই পরিষদ। পার্লামেন্টে যেসব আইন পাস হয় তা চূড়ান্ত করতে হলে অবশ্যই এ পরিষদের অনুমতি প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত কোন নারী প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতার অনুমতি পাননি এ পরিষদ থেকে। রাজনৈতিক ভিন্নমতালম্বী ও নাটকীয় সংস্কারপন্থি প্রার্থীরা নিয়মিতই প্রত্যাখ্যাত হন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বাকি চার অনুমতিপ্রাপ্ত প্রার্থী হলেন মধ্যপন্থি রাজনীতিবিদ ও জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইশহাক জাহাঙ্গিরি, সাবেক রক্ষণশীল সংস্কৃতি মন্ত্রী মোস্তাফা মিরসালিম ও সাবেক সংস্কারপন্থি ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তাফা হাশেমিতাবা।
সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ গত সপ্তাহে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেন। হাসান রুহানির আগে তিনিই প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ক্ষমতা ত্যাগের সময় আর রাজনীতিতে না ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া খামেনি নিজেও তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
২০০৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট থাকা আহমাদিনেজাদ প্রায়ই আক্রমণ দাগাতেন ইসরাইলের প্রতি। ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প জোরদার করার পেছনে তিনি যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন। তবে এবার নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি বলেন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হামিদ বাঘায়েই-এর সমর্থনে তিনি নির্বাচনে লড়বেন। কিন্তু হামিদ নিজেও অনুমতি পাননি।
তেহরানভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক সরোশ ফারহাদি আহমাদিনেজাদের বাদ পড়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই নির্বাচনে তিনি অনেকটা অনাহুত অতিথি।’ ফারহাদি অবশ্য এ-ও বলেছেন, প্রার্থিতা থেকে বাদ পড়লেও নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় রাজনৈতিকভাবে বেশ সক্রিয় থাকবেন আহমাদিনেজাদ।
তবে আহমাদিনেজাদ ও হামিদ বাঘায়েই-এর বাদ পড়া নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি তাদের শিবির। যেমন, আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র আলি আকবর জাভানফেকর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, এরা দুজন প্রার্থী হয়েছিলেন শুধু ‘জাতীয়, ধর্মীয় ও বিপ্লবী দায়িত্ববোধ থেকে’। তিনি আরও লিখেন, ‘আল্লাহকে ধন্যবাদ, প্রতিনিধি পরিষদ তাদের এই দুই সেনাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ১৯শে মের নির্বাচনে প্রার্থী হতে ১৬০০ জনেরও বেশি প্রার্থী নিবন্ধিত হয়েছিলেন। ইরানের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের হাতে অনেক ক্ষমতা থাকলেও, তিনি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহর অধীনস্থ। সব ধরনের সিদ্ধান্তে আয়াতুল্লাহর কথাই শেষ কথা।
দেশটিতে জনমত জরিপ না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিই এ নির্বাচনে এগিয়ে। ১৯৮১ সালের পর প্রত্যেক ইরানি প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। সংস্কারপন্থি হাসান রুহানি দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশার উন্নতি ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হন। দেশের পারমাণবিক প্রকল্প স্থগিতের বিনিময়ে তিনি পশ্চিমাদের সঙ্গে চুক্তি করে হাজার হাজার কোটি ডলারের অর্থ ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এর সুফল এখনও দেশটি ভোগ করতে শুরু করেনি।
হাসান রুহানির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন ৫৬ বছর বয়সী এবরাহিম রাইসি। কট্টরপন্থি এ ধর্মীয় নেতা ও ইসলামি আইনের অধ্যাপক দেশ থেকে দারিদ্র্য ও দুর্নীতি মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অনেক কট্টরপন্থি নেতা তাকে সমর্থন দিয়েছেন। গত বছর আয়াতুল্লাহ খামেনি তাকে একটি ইসলামি দাতব্য সংস্থার প্রধান করেন। ইরানে এ দাতব্য সংস্থার বিপুল বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে। দেশের বিচার বিভাগে তিনি বিভিন্ন পদে ছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলও ছিলেন। এমনকি খোদ আয়াতুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি হিসেবেও তার নাম সামনে এসেছে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন