এ যাত্রায় টিকে গেলেন নওয়াজ শরীফ

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:১২
আপাতত টিকে গেলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। সুপ্রিম কোর্টে একটি দুর্নীতি মামলা থেকে রেহাই পেয়েছেন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত বিভক্ত রায়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণের জন্য যথেষ্ট প্রমাণাদি নেই। তবে তাই বলে একেবারে খালাসও পাননি তিনি। সুপ্রিম কোর্ট তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে নওয়াজের দল এই রায়কেই ‘বিজয়’ বলে দাবি করেছে।
এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
২০১৫ সালে ‘পানামা পেপার্স’ নামে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য অফশোর অ্যাকাউন্টধারীর তথ্য ফাঁস হলে, সেখানে উঠে আসে নওয়াজ শরীফের তিন সন্তানের নাম। এরপরই এই ধনাঢ্য পরিবারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠে। তবে তিনি ও তার পরিবার কোনো ধরনের অন্যায় সংঘটনের কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই মামলা পাকিস্তানে বারবার শিরোনাম হয়েছে। অনেকেই অনুমান করছিলেন, এ মামলায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়তে পারে। মামলার রায় ঘোষণার সময় রাজধানী ইসলামাবাদে আদালতের আশেপাশে ১৫০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ইসলামাবাদের রেড জোনে জারি করা হয় লাল সতর্কতা বা রেড এলার্ট। পাশেই প্রতিবাদকারীরা নওয়াজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যাওয়ার স্লোগান দেয়। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ইমরান খান নিজ দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতাকর্মীদের রায়কে কেন্দ্র করে কয়েকদিন রাজধানীতে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। পিটিআই দলের নেতা শাহ মেহমুদ কোরেশি বুধবার এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা পানামা পেপার্স ফাঁস নিয়ে আলোচনা বন্ধ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তারা চেয়েছে এ ইস্যুটি মারা যাক। কিন্তু ইস্যুটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে পিটিআই। তিনি বলেন, যদি তাদের দল এ ইস্যুটিকে এভাবে সামনের দিকে ঠেলে না দিতো তাহলে এ বিষয়টি অতলে হারিয়ে যেতো। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে কথা বলেছে পিটিআই। এতে পরিষ্কার হয়েছে যে, তারা দুর্নীতি পছন্দ করে না।
গত বছরের শেষ নাগাদ বিরোধীদলীয় নেতা ইমরান খান বিক্ষোভের হুমকি দিলে সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে সম্মত হয়। তদন্তের মূল টার্গেট ছিল, অফশোর কোম্পানি ব্যবহার করে নওয়াজ পরিবার লন্ডনে বাড়ি কিনেছে।
এই মামলায় অভিযোগ ছিল নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়াম, যাকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক তারকা ভাবা হয়, এবং তার দুই ছেলে হাসান ও হুসেন। মরিয়ামকে ভাবা হয় নওয়াজের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ওই সম্পদ বৈধভাবে আয় করেছেন। কিন্তু তার সমালোচকরা বলতে চান, অফশোর কোম্পানি ব্যবহৃত হয়েছে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ পাচার করতে অথবা করফাঁকি দিতে।
সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চ বৃহসপতিবার বিভক্ত রায় দিয়েছে। দুই বিচারপতি প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের পক্ষে রায় দেন। তবে অবশিষ্ট তিন জন অধিকতর তদন্তের পক্ষে অবস্থান নেন। নওয়াজ শরীফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) এই রায়কে ‘বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। রায়ের প্রশংসা করে তার মেয়ে মরিয়াম টুইট করেছেন, প্রশংসা ও বিজয় শুধু আল্লাহর। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর স্টকমার্কেটে স্বস্তি ফিরেছে। বিভিন্ন সূচক ঊর্ধ্বমুখী।
তবে সুপ্রিম কোর্ট অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়ায় তদন্তকারীরা এখন নজর দেবেন কিভাবে নওয়াজ পরিবার কাতারে তাদের সম্পদ স্থানান্তর করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ে গত নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টে জানান, তাদের লন্ডনের বাড়িটি কেনা হয়েছে কাতারের শাসক পরিবারের মালিকানাধীন কোম্পানিতে বিনিয়োগকৃত অর্থের মাধ্যমে। কিন্তু বিরোধী দলগুলো এই দাবিকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
মূলত, ২০১৫ সালে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন পানামা পেপার্স ফাঁস করে। পানামাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার ১১ মিলিয়ন গোপন নথিপত্র ফাঁস হয়। শুধু পাকিস্তানের নওয়াজ পরিবারই নয়। বিশ্বের বহু রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতা ও ধনাঢ্য অভিজাত লোকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এতে ফাঁস হয়ে যায়। এমন কি যিনি এই ইস্যুতে সোচ্চার সেই ইমরান খানের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে।
২০১৬ সালের ১৪ই মে অনলাইন ডন আরো একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, অফসোর কোম্পানির মাধ্যমে ইমরান খান লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন বলে যে ডকুমেন্ট প্রকাশ হয়েছে তা তার দল প্রত্যাখ্যান করলেও ইমরান খান নিজে তা স্বীকার করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন বৃটিশ আয়কর ফাঁকি দিতে ১৯৮৩ সালে লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট কিনতে গঠন করেছিলেন একটি অফশোর কোম্পানি। ওই রিপোর্টে বলা হয়, লন্ডনে হিথ্রো বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় ইমরান খান বলেন, আমার আয়ের শতকরা ৩৫ ভাগ পরিশোধ করেছি। তাই বাকি আয়কর ফাঁকি দিতে একটি অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে একটি ফ্ল্যাট কিনি। যেহেতু আমি বৃটিশ নাগরিক নই, তাই এ অধিকার আমার ছিল।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়, বৈধ উপায়েও করমুক্ত বা নামেমাত্র করব্যবস্থা সংবলিত দেশগুলোতে বা অজ্ঞাতপরিচয়ে অফশোর কোম্পানি ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সাধারণত, সম্পদের প্রকৃত মালিকের নাম লুকাতেই অফশোর কোম্পানি ব্যবহার করা হয়। অথবা, সম্পদের কর এড়াতেও অনেকেই এই পন্থা অবলম্বন করে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দাবি

এখনও আসছে রোহিঙ্গারা, সমঝোতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

৯০ টাকা ছাড়ালো পিয়াজের কেজি

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি মামুলি ব্যাপার

‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’

চিরঘুমে লোকসংগীতের মহীরুহ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার ক্ষতি পোষাতে দরকার ১০০ কোটি টাকা

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ

দুই দলেই হেভিওয়েট প্রার্থী

দরিদ্রদের জন্য বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে

৭ই মার্চ ভাষণের স্বীকৃতিতে দেশব্যাপী শোভাযাত্রা আজ

সম্মতিপত্র প্রকাশের দাবি বিএনপির

ঘরে ঘুরে দাঁড়ালো চিটাগং

মিশরে মসজিদে জঙ্গি হামলা, নিহত কমপক্ষে ২৩০

‘শেষ মুহূর্তে হলে সরকার সমঝোতায় আসবে’

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি