চবিতে পুলিশ ছাত্রলীগ সংঘর্ষ

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার
বহিষ্কৃত এক নেতাকে পরীক্ষা দিতে না দেয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ। হয়েছে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি গাড়ি। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একটি কোর্সের পরীক্ষা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে এই ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে চবি ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল এবং সহ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ কায়সারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিপুল ও শাকিলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
তবে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল বলেন, ‘কায়সারের সঙ্গে আরো কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের পরীক্ষা দিতে দেয়া হচ্ছে কিন্তু তাকে কেন দেয়া হচ্ছে না? তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতির দাবিতে আমাদের কর্মীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ এসে অতর্কিত হামলা করে তাদের ওপর। এতে আমাদের প্রায় বিশজনের মতো নেতাকর্মী আহত হয়।’
ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, ঘটনার সময় রাহাত নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। সংঘর্ষের পর ছাত্রলীগকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের হুইসপাইপ কেটে দেয়। বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় রুটে ট্রেন চলাচলও।
ঘটনায় পুলিশের এএসআই মহসীন আলম পিপিএম, কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম, ইমাম হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও শরীফুল হোসেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থী রকিবুল হাসান, রায়হান, নাজমুল সাদাত রাহাত আহত হয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ষোলশহর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার এস এম শাহাবুদ্দীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝামেলা হওয়ার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। ছাত্রলীগের কর্মীরা শাটল ট্রেনের কয়েকটি বগির হুইসপাইপ কেটে দিয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ৪০১ নম্বর কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। বহিষ্কারাদেশ বলবৎ থাকায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি পায়নি চবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়সার।
ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুল হক শাহিনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কায়সারকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
চবি ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুলের অনুসারী হিসেবেও ক্যাম্পাসে পরিচিত সে। চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে অনুমতি না দেয়ায় গতকাল সকালে ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী পরীক্ষার হলের সামনে অবস্থান নেয়।
খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের পরীক্ষার হলের সামনে থেকে সরে যেতে বলে। এ জন্য তাদের কিছুক্ষণ সময়ও বেঁধে দেয় পুলিশ। কিন্তু পুলিশের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে পরীক্ষার হলের সামনে থেকে তারা না যাওয়ায় পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে।
একপর্যায়ে তারা ড. ইউনূস ভবনের তিন তলার পরীক্ষার হল থেকে নিচে নেমে যায় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় ছাত্রলীগের কর্মীরা কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে মূল ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভ করতে চেষ্টা করে। পুলিশ সেখানেও তাদের বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে। পরবর্তীতে তারাও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পাঁচ পুলিশসহ অন্তত আটজন আহত হন। জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের পর তারা শাটল ট্রেনের কয়েকটি বগির হুইসপাইপ কেটে দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রলীগের এমন তাণ্ডবে চরম দুর্ভোগে পড়েন শহর থেকে ক্যাম্পাসে ক্লাস করতে আসা ছাত্রছাত্রীরা।
হাটহাজারী পুলিশের উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দীন আলম বলেন, ‘ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পরীক্ষা নিতে বাধা  দেয়। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। তাদেরকে সেখান থেকে সরে যেতে বলি।
তবুও তারা সেখান থেকে সরে না গিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে সামান্য হাতাহাতি হয়। পরে তারা আমাদের লক্ষ্য করে ইটপাথর নিক্ষেপ করে। এই সময় আমাদের পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন