পাগল খুঁজে বেড়ান যিনি

প্রথম পাতা

শামীমুল হক | ২১ মার্চ ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪০
অন্যরকম নেশা তার। নেশার টানে ছুটে বেড়ান দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। মানবতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে তার শত চেষ্টা। কখনো বান্দরবান, কখনো নোয়াখালী, কখনো বা মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ। আবার ছুটে যান সাভার। রাস্তায় পড়ে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীনদের পরম মমতায় আগলে ধরেন। তাদের সেবা ও চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে পরিবারের হাতে তুলে দেন। এ জন্যই তার চোখ খুঁজে ফিরে এমন লোকদের। তিনিও খুঁজে পান রাজ্যের সুখ। আর মানসিক ভারসাম্যহীনদের সুস্থ করার মধ্য দিয়ে যিনি সুখ খুঁজে পান তিনি হলেন ব্যাংকার শামীম আহমেদ। তার মানবিক চেষ্টায় রাস্তায় পড়ে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন বান্দরবানের অন্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাইজুল, ময়মনসিংহের সাহিদা, ফুলপুরের ঝর্ণা, নোয়াখালীর আরিফ, রাজধানীর পল্টনের আদুরী, মানিকগঞ্জের রূপালী এখন পুরোপুরি সুস্থ। পাগল বলে যারা একদিন সমাজের অবহেলিত ছিলেন তারাই আজ সমাজে মাথা উঁচু করে হাঁটছেন। বর্তমানে সাভারে খুঁজে পাওয়া এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার সেবা ও চিকিৎসা করাচ্ছেন ব্যাংকার শামীম। এ ব্যাপারে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। এভাবে তারা একটি গ্রুপ গঠন করেছেন। এ গ্রুপের সহায়তায় এগিয়ে যাচ্ছেন শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, শুরু থেকেই আমার বন্ধু ও অফিস কলিগ আলী সাব্বির আমাকে সহায়তা করছেন। এছাড়া, ফেসবুকের মাধ্যমে কিছু বন্ধু এ কাজে মানসিক, লজিস্টিক সাপোর্ট ও সহযোগিতা করছেন। ফেসবুক বন্ধুদের অনুপ্রেরণা আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করে।  শামীম আহমেদ বলেন, একজন ভিক্ষুক আমাদের কাছে টাকা অথবা কিছু খাবার চাইতে পারে। কিন্তু একজন পাগল কিছু চাইতে পারে না। তারা খুবই অসহায়। ফেসবুকের মাধ্যমে আমি আমার কাজের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা যদি সবাই রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষের পাশে এগিয়ে আসি তাহলে হয়তো একদিন একজন মানুষও রাস্তায় পড়ে থাকবে না। তিনি বলেন, মনে হয় পৃথিবীর সকল সুখ এর মাঝেই লুকায়িত।
না। শামীম আহমেদ লক্ষ্য স্থির করে এগোননি। এ নিয়ে তার কোনো পরিকল্পনাও ছিল না। ২০১৪ সালের ঘটনা। ওই বছর ২৫শে নভেম্বর তিনি তার কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে বেড়াতে যান বান্দরবান। সেখান থেকে থানচি বাজার ঘুরতে যান। ঘুরে বেড়ানোর মজার মধ্যেই তিনি হঠাৎ দেখতে পান বাজারের পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মেয়ে গাছের নিচে বসে আছে। এগিয়ে যান শামীম। পরম মমতায় আগলে ধরেন। কিন্তু পাগল তো পাগলই। কোনো কিছুই বলছিল না মেয়েটি। কি আর করা। বেড়ানো শেষে তারা ফিরে আসেন ঢাকায়। কিন্তু শামীমের মন পড়ে থাকে থানচি বাজারে দেখে আসা ওই মেয়েটির দিকে। নিজে নিজে প্ল্যান করেন। কিভাবে মেয়েটিকে ঢাকায় এনে চিকিৎসা করানো যায়। প্রশ্নও ছিল চিকিৎসা করালে সুস্থ হবে তো? শামীম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সহকর্মী আলী সাব্বিরের সঙ্গে আলোচনা করি। সেও আমাকে সাপোর্ট করে। আমাদের এ প্ল্যানের সঙ্গে যোগ দেন হাসান ফরহাদ আজাদ নামে আরেক বন্ধু। শুরু হলো আমাদের যাত্রা। আমি ইন্টারনেট থেকে থানচি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আরো কিছু ব্যক্তির মোবাইল ফোন নাম্বার সংগ্রহ করি। এরই মধ্যে বেশ কয়েক মাস চলে যায়। পরের বছর মার্চে ঢাকা থেকে থানচির উদ্দেশে রওয়ানা হই। সেখানে পৌঁছে দেখি মেয়েটি রাস্তার পাশে শুধুমাত্র একটি কম্বল গায়ে বসে আছে। আমি ঢাকা থেকে মেয়েটির জন্য কিছু জামা নিয়েছিলাম। স্থানীয় এক মহিলার সাহায্যে মেয়েটিকে গোসল করিয়ে জট বাঁধা চুল কেটে ফেলে দেই। প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা ও খাবার খাইয়ে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য প্রস্তুত করা হয়। এরপর তাকে নিয়ে ঢাকায় যাত্রা। মনে মনে শঙ্কা। মেয়েটি সুস্থ হবে তো? ঢাকায় এনে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি করাই। ভর্তির সময় তার নাম লেখাতে হয়। কিন্তু নাম যে জানি না। মানসিক ভারসাম্য বলে সেও নাম বলতে পারছে না। সেখানেই তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম রাখি অন্তর। হাসপাতালে মেয়েটিকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করার জন্য আমরা একটি বয়স্ক মহিলাকে বেতনভিত্তিক নিয়োগ দেই। ১ মাস ৮ দিন চিকিৎসার পর, ২০১৫ সালের এপ্রিলে অন্তরকে আমার বাসার বিপরীতে অবস্থিত আদাবর ১৬ নম্বর রোডের ওই বয়স্ক মহিলার বাসায় নিয়ে আসি। এই বাসায় রেখেই মেয়েটির চিকিৎসা চালিয়ে যাই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু মানসিক থেরাপি দেই। পাশাপাশি ভালো পরিবেশ দিয়ে অন্তরের সঙ্গে বিভিন্ন কথাবার্তা বলার চেষ্টা করি। যাতে সে তার অতীত ও পরিবারের কিছু তথ্য মনে করতে পারে। মাসখানেক পর সে কিছু কিছু তথ্য দিতে থাকে। এক পর্যায়ে সে বলে তার বাড়ি চান্দুরা বাজার, ডাকবাংলা। খোঁজ নিয়ে জানলাম জায়গাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানায়। ওই বছরই ২৯শে এপ্রিল আমরা ৩ জন চান্দুরা বাজারের উদ্দেশে রওনা হই। সেখানে প্রথমে বিজয়নগর থানায় বিষয়টি অবহিত করি। পরে চান্দুরা বাজারের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারিং করি। পোস্টারিংয়ের পর তাৎক্ষণিক আমরা তার পরিবারের খোঁজ পেলাম না। কয়েকদিন পর মেয়েটি আরেকটি গ্রামের নাম “দায়োইরা” বলে। সে বলে সেখানেই তার বাড়ি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। একপর্যায়ে চান্দুরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামীমুল হক চৌধুরী ও শাহজাদাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খোকনের মাধ্যমে মেয়েটির ঠিকানা বের করা হয়। তার নাম শিউলি রাণী সরকার। বয়স ২৫ বছর। সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দাউরিয়া গ্রামের সতীর্থ সরকারের মেয়ে। এই শিউলি পাঁচ বছর আগে স্বামী ফালান সরকার, ছেলে সাগর, হৃদয় ও মেয়ে লিপির কাছ থেকে হারিয়ে যায়। দেয়া হয় তার পরিবারের কাছে সংবাদ। তার স্বামী ফালান, ছেলে সাগর, বড় ভাই তপন সরকার ঢাকায় এসে তাকে শনাক্ত করে।
এরপর সরাইল উপজেলা মিলনায়তনে ব্যক্তি উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারের কাছে মেয়েটিকে তুলে দেয়া হয়। সেদিন তার স্বামী ফালান সরকার নতুন করে সিঁদুর পরিয়ে তাকে বরণ করে নেন। এ সময় বন্ধুরা মিলে অন্তর নামের সেই শিউলি রাণী সরকারকে একটি সেলাই মেশিন, নগদ টাকা ও সোনার নাক ফুল উপহার দেয়া হয়। সেই যে মানবতার টানে নেমেছেন শামীম আজও চালিয়ে যাচ্ছেন এ কাজ।


গত পহেলা মার্চ তার ফেসবুক বন্ধু সাভারের সাইয়িদ ইহাম উজ্জামান তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। একই সঙ্গে সাভারের রাস্তায় পড়ে থাকা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে সাহায্য করতে শামীমকে অনুরোধ জানান। একই দিন মেসেঞ্জারে সাভার থেকে নাদিরা রহমান সাথীও ওই মহিলাকে সাহায্য করার জন্য তাকে অনুরোধ করেন। শামীম বলেন, এ মেসেজ পেয়ে আমি বন্ধু আলী সাব্বিরের সঙ্গে সবকিছু নিয়ে আলোচনা করি। পাশাপাশি সাথী আপাকে টেলিফোনে পরামর্শ দেই তিনি যেন ওই মহিলাকে কিছু কাপড়, বালিশ, চাদর ও কিছু খাবারের ব্যবস্থা করেন। ৪ঠা মার্চ আমি সকাল সাড়ে ১০টায় সাভার স্ট্যান্ডে পৌঁছাই। আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু আলী সাব্বির ও সাথী আপা। উনারা আমাকে নিয়ে যান সাভারের আনন্দপুরে। যেখানে মহিলাটি বিগত এক বছরের  বেশি সময় ধরে রাস্তার পাশে দিন কাটাচ্ছেন। আমরা ঘণ্টাখানেক মহিলাটির সঙ্গে সময় কাটাই ও কথা বলি। তাকে নিয়ে আসি। বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ওই মহিলাকে সেবা ও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের খড়িয়াপাড়া গ্রামের সাহিদা বেগমকেও চিকিৎসা শেষে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন শামীম আহমেদ। সাহিদার পিতার নাম গিয়াস উদ্দিন।
ফেসবুকে শামীম আহমেদের মানবসেবামূলক এসব কর্মকাণ্ড দেখে ২০১৫ সালের ৯ই অক্টোবর সাহিদা বেগমের ফুপাতো ভাই হাবিবুর রহমান বাবুল আমার সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ করেন। তিনি তার মানসিক ভারসাম্যহীন ফুপাতো বোনের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চান। শামীম আহমেদ বিষয়টির  খোঁজখবর নিয়ে ওই যুবককে তার বোনকে নিয়ে ঢাকায় আসার পরামর্শ দেন। গতবছরের  ১১ই মার্চ সাহিদা বেগমকে নিয়ে তার মা ও ফুপাতো ভাই হাবিবুর রহমান বাবুল ঢাকায় আসেন। এরপর শামীম আহমেদ তাদের নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান। আর তার নিয়োগকৃত বয়স্ক সেবিকা তো রয়েছেই। শামীম বলেন, হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করেন হাসপাতালটির বেড ইনচার্জ ডা. তারিক সুমন। সাহিদাকে হাসপাতালে একটি ফ্রি-বেড পেতেও সহযোগিতা করেন তিনি। চিকিৎসা শেষে নিজস্ব বাসায় এনে সেবা দিয়ে তাকে ফের পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়। সাহিদা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।
এ ব্যাপারে হাবিবুর রহমান বাবুল জানান, ৫ বছর আগে পাশের বাড়ির ফারুক মিয়ার সঙ্গে সাহিদার বিয়ে হয়। এক বছর পরই তাদের সংসারে একটি কন্যা শিশু জন্ম নেয়। এক মাস পর শিশুটি মারা যায়। এরপর থেকেই সাহিদা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর কিছুদিন পরে তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। এর কিছুদিন পরই সাহিদা পুরোপুরি পাগল হয়ে যায়। এভাবেই তিন বছর কেটে যায়।
শামীম আহমেদ নোয়াখালীর আরিফের কাহিনী তুলে ধরেন। বলেন, গত বছরের ৮ই অক্টোবর মানসিক ভারসাম্যহীন আরিফকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি করি। এর কিছু দিন আগে আমার অফিসে একজন লোক আসে। তিনি আমাকে বললেন, স্যার আমি একজন গরিব মানুষ, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপে ছোট একটা চাকরি করি। আমার একটা ছেলে পাগল। স্যার আমার ছেলেটাকে একটু সাহায্য করেন। এরপরই তার ব্যাপারে এগিয়ে যাই। তাকেও সুস্থ করে পরিবারের হাতে তুলে দেই।  
এছাড়া, গতবছর ২রা আগস্ট আমি অফিস থেকে আদাবর বাসায় ফেরার পথে মানিকগঞ্জের জিকু নামের এক লোকের সঙ্গে বাসে পরিচয় হয়। আলাপচারিতার মাধ্যমে তার কাছ থেকে জানতে পারলাম মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পুকুরিয়া এলাকার যাত্রী ছাউনিতে দুই বছর ধরে নাম পরিচয়হীন মানসিক ভারসাম্যহীন একটি মেয়ে দিনাতিপাত করছে। পরে ঘটনাস্থলে একজন লোক পাঠিয়ে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করি। ১৯শে আগস্ট আমি, আলী সাব্বির ও ডা. মো. শামীম  হোসেনকে নিয়ে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুকুরিয়া এলাকার যাত্রী ছাউনিতে যাই। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির জন্য ঢাকায় নিয়ে আসি। এর আগে ঘিওর থানা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়ে ঢাকায় আনা হয় তাকে। তাকেও একইভাবে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে দেই। ইতিপূর্বে ঢাকার পল্টন মোড় থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন একটি মেয়েকে উদ্ধার করে তাকে সুস্থ করে তুলেন শামীম ও তার সহযোগীরা। ওই মেয়েকে আদুরী নামে হাসপাতালে ভর্তি করি। তাকে সুস্থ করে তুলে ঠিকানা খুঁজে বের করে তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার মাইজদীতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি।  
হাসপাতালে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা ও সেবাকর্মের জন্য জরিনা বেগম নামের এক মহিলাকে বেতনে নিয়োজিত করেন তিনি। ডাক্তারদের প্রচেষ্টা ও সেবা শুশ্রূষায় আদুরী অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠার পর জরিনা বেগমের আদাবরের বাড়িতে রাখা হয়। এক সময় তার মুখ থেকে কিছু শব্দ বের হলে সে কথার সূত্র ধরে শামীম আহমেদ ফেসবুকে আদুরীর ছবি সংবলিত পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে তার পরিবারকে খুঁজে বের করেন। শামীম আহমেদ ও তার বন্ধুরা মেয়েটির গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেন। মেয়েটির প্রকৃত নাম জবা। নোয়াখালীর মাইজদী উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুরে তাদের বাড়ি। তার বাবা আলাউদ্দিন একজন রিকশাচালক ও মা গৃহিণী। ছয় বছর আগে বাড়ি থেকে সে অজানার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায়। জবার পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে তার ভাগ্যকে ছেড়ে দেয় বিধাতার হাতে।
শামীম বলেন, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের পেছনে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা খরচ হয়। সেবিকা জরিনাকে দেয়া হয় মাসে সাড়ে ৮ হাজার টাকা বেতন। জরিনা  বেগমের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলে। অনেক বছর ধরে আদাবরে বাস করেন। বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে আমাদের সেবিকা হিসেবে নিয়োগ দেই। এখন আর বাড়িতে বাড়িতে কাজ করা লাগে না। আদাবরে আমার বাসার সামনে একটা বাড়িতে থাকে। আমি আমার বাসার বারান্দা থেকে রোগীকে দেখতে পাই। শামীম আহমেদের আদি বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বর্তমানে ঢাকায় স্থায়ী বসবাস। তিনি বলেন, আমি আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই মানবিক কাজ চালিয়ে যাবো।  আমার মৃত্যুর পর যেন আমার মেয়েরা কাজটি চালিয়ে যেতে পারে সে জন্য তাদেরও আমার কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করি। শামীম আহমেদের দুই মেয়ে। একজন চতুর্থ শ্রেণি ও অন্যজন প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে।
শামীম আহমেদের তত্ত্বাবধানে পারুলি নামে একজন এখন সেবা নিচ্ছেন। পারুলি জানিয়েছে, তার বাড়ি বরগুনা জেলার চরদুয়ানী। পারুলির পরিবারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে এখন।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Jobaer Ahamed

২০১৭-০৩-২২ ০২:৪৮:৪৪

আপনি খুবই ভালো কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের একজন সুযোগ্য নাগরিক আপনি। লাখো সালাম আপনাকে।

Mohammed Imtiaz

২০১৭-০৩-২১ ১০:২৪:০৭

Vhai, Apnar phone number ar email address ta diben. Apnar moto boro maper manush hote parini, kuntu apnar moto boro manusher pashe daranor shujog chai please. amar email imrul.imtiaz@gmail.com ar cell phone number (USA country code) 678-702-9920. Vhai, amake doya kore email korben please.

Md Abdul Kader

২০১৭-০৩-২১ ০৮:১৪:৩৭

Apner phone number diben .Ami apner sathe share korte chai. Amar phone 01912424794. A make phone korle Ami jogajog korbo.

md raj

২০১৭-০৩-২১ ০৫:২৪:১৪

Thank you shamim vai tome to Ber vai

Rabiul

২০১৭-০৩-২১ ০৩:৫৩:২০

প্রতেক মানুষে একাজে এগিয়ে আসা উচিত্

biplob

২০১৭-০৩-২১ ০৩:৩৮:২৬

shabas Mr .Shamim, you are an example of great humanity, I salute you

ashraf hossain raju

২০১৭-০৩-২১ ০১:৪৮:১৩

খবরটি পড়ে চোখের পানি দৃরে রাখতে পারলাম না। আজকাল যখন খবরের কাগজ হাতে পাই, তখন দেখি সমাজের কিছু কিছু ব্যক্তির্বগের নানা রকম অসামাজিক কার্যকলাপ, গুম,খুন,ধর্ষন ইত্যাদি। ধন্যবাদ সামিম ভাই ও আপনার বন্ধুদের যারা আপনাকে এই রকম কাজে উৎসাহদান করে সমাজের প্রতিদিনের ভয়াভহ রুপ থেকে আলাদা একটা সুসংবাদ দেওয়ার জন্য।।। মানবজমিন কে ধন্যবাদ এই রকম খবর আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য !!!!!

মতিউর রহমান

২০১৭-০৩-২১ ০১:২১:০০

অসাধারণ মানবতা। এগিয়ে যান ভাই..............কোন একদিন এর সম্মান পাবেন আপনি।

নেছার আহমেদ

২০১৭-০৩-২০ ২৩:০২:১৫

একজন মানুষিক প্রতিবন্ধীর পিতা হিসাবে প্রথমেই সংবাদটির হেডলাইনের তীব্র প্রতিবাদ করছি ! পাগল মানে ?? এরা কেওই পাগল নয়, এরা কেবলই বুদ্ধি আর চিন্তায় দূর্বল আদম সন্তান। এরা কেন পাগল হতে যাবে ?? পাগলতো তারা যাদেরকে স্রোষ্টা সব কিছুই দিয়েছেন অথচ তাঁর পরেও তাদের চাওয়া পাওয়ার কোন সীমা নেই। অথচ যাদের কোন চাওয়া নেই পাওয়া নেই যারা নিজের ভালো মন্দের বেপারেও উদাসীন, যাদের অন্যের ক্ষতির চিন্তা করারও ক্ষমতা নেই তারা নাকি পাগল ?? লেখকের ভাষাতে যদি আমি পাগলের পিতা হই তাহলে এর চেয়ে বড় শান্তি আমি খুজে পাইনা। পৃথিবীর সমস্ত প্রতিবন্ধীদের একমাত্র অভিভাবক্ত গ্রহন করুন স্বয়ং আমাদের রব শুধু এই দোয়াই রইলো সেসব আদুরে মানুষদের জন্য !!

Elias

২০১৭-০৩-২০ ২২:২৩:০৯

Mr. Shameem apni ei desher desher bir sontan, karon apni manoborat kaj korchen. apnar jonno onek srodha, valobasha o doa roylo

zubayed

২০১৭-০৩-২০ ২২:২২:৪৫

vai apnar phone number ta ki pete pari? or facebook id dile o hobe...

জুনাইদ হোছাইন

২০১৭-০৩-২০ ২২:১২:৩৬

মানুষ মানুষের জন্যে - মান্নাদের এই ঐতিহাসিক গানটি শামীম সাহেবের মাধ্যমে বাস্তবে রুপ নিল।

মোড়ল মোঃইলিয়াস হুস

২০১৭-০৩-২০ ২০:১৩:৩৭

ভাই শামীমুল হক? আমি প্রান খুলে আল্লাহর নিকট আপনার জন্য দুয়া করি আপনি অনেক অনেক অনেক বড় হোউন!!!

Md Abdul Aziz

২০১৭-০৩-২০ ২০:০৪:০৪

Congratulation my dear friends. go ahead may allah help you.

T.M.AZAM

২০১৭-০৩-২০ ১৯:২১:১৭

SHAMIM VAI K THANK YOU.

Habib

২০১৭-০৩-২০ ১৪:২৫:৪০

May Allah help you, your family and your friends. People like you are the shining stars. Please keep up the good work.

রিয়াসাদ আজিম

২০১৭-০৩-২০ ১২:৩৫:৪৪

শামীম ভাই আপনাকে ধন্যবাদ বিষয়টি চমৎকার করে উপস্থাপন করার জন্য।

Mozahedul

২০১৭-০৩-২০ ১১:২৯:২০

Kub bhalo kaj. Ei somaje apnar moto ei rokom agai ashle ekdin rastai r kono pagol hoithoba dekte pabo na. Shorbo shesh bolbo Allahpak apnar sohai hown. Ameen.

আপনার মতামত দিন