এখনো খোঁজ মেলেনি হানিফের বন্ধু সোহেলের

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ মার্চ ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৯
এখনো খোঁজ মেলেনি হানিফের বন্ধু সোহেলের। আশকোনার র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার পর হানিফ মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে র‌্যাব দাবি করে। গত শনিবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে পরিবারের দাবি, হানিফ ও সোহেলকে একই সঙ্গে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাব। এ  ব্যাপারে হানিফের ভাই মো. হালিম মৃধা গত ৪ঠা মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি ডায়েরি করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এদিকে সোহেল হোসেনকে ফিরিয়ে দিতে আকুতি জানিয়েছেন তার মা মমতাজ বেগম। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘এক মায়ের এক ছেলে ফিরিয়ে দিন।’ মমতাজ বেগম জানান, সোহেল তার একমাত্র সন্তান। গতকাল উত্তরায় র?্যাব-১ কার্যালয়ে যান মমতাজ বেগম। তিনি জানান, তার ছেলে ১৯৭৪ সালে জন্ম নেয়। ছেলের জন্মের এক বছরের মাথায় স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর তিনি ছেলেকে নিয়ে বরগুনা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভিক্ষা করে ছেলেকে বড় করেন। আজিমপুরে একটি স্কুলে এসএসসি পর্যন্ত পড়িয়েছেন ছেলেকে। ২০০৬ সালে বিয়ে দেন। ছেলের ঘরে এখন এক নাতি রয়েছে তার। নাতির বয়স ৬ বছর। তিনি জানান, সোহেল হোসেন গুলশান-১ এ পুরনো ফার্নিচারের ব্যবসা করেন। মমতাজ বলেন, হানিফ আর সোহেল বন্ধু। বরিশালে চরমোনাই পীরের ওরসে গিয়ে তাদের দেখা হয়। সোহেলের এক মামা (মায়ের চাচাতো ভাই) সগীর মাস্টার ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চ চালান। সোহেল হানিফকে নিয়ে মামার লঞ্চে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তিনি তার মামাকে জানান, হানিফের গাড়ি তাদের নিতে আসবে। তাদের যেন কাঁচপুরে নামিয়ে দেয়া হয়। এ সময় তারা কাঁচপুর সেতুর কাছে দাঁড়িয়ে থাকা হানিফের গাড়িটি লঞ্চের ছাদ থেকে মামাকে দেখান। তারা নামার পর মামা লঞ্চের ছাদ থেকে দেখতে পান, তারা গাড়িতে উঠতে গেলে কয়েকজন ধরে অন্য গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। মামা সঙ্গে সঙ্গে সোহেলের মোবাইলে ফোন দিয়ে তা বন্ধ পান। এরপর তিনি বিষয়টি মমতাজ বেগমকে ফোন করে জানান। ফোন পেয়েই বরগুনা থেকে মমতাজ বেগম ঢাকায় ধলপুরে ছেলের বাসায় ছুটে আসেন। সোহেলের স্ত্রী নীপা জানান, লঞ্চ যখন চাঁদপুরে, তখন শেষবার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়। তারা হানিফের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, হয়তো তার ছেলেও র?্যাব-১ এর হেফাজতে আছে। হানিফের মৃত্যুর বিষয়টি জানার পর এখন মমতাজ বেগম তার ছেলের বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। মমতাজ বলেন, এর মধ্যে একদিন একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। মন্টুর (সোহেলের ডাক নাম) মা কিনা ওই নাম্বার থেকে জানতে চাওয়া হয়। তিনিই মন্টুর মা বলে জানান মমতাজ বেগম। ওপাশ থেকে কে বলছেন জানতে চাইলে বলেন প্রশাসনের লোক। পরে ফোন দেবেন। কিন্তু এর পর থেকে আর কোনো ফোন আসেনি। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কোথায়, কেমন আছে কিছুই জানি না। আমি প্রধানমন্ত্রী ও র?্যাবকে অনুরোধ করছি, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন।’ তিনি বলেন, আমার কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। শুধু ছেলেকে ফেরত চাই। তিনি এও বলেছেন, প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তাকে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিলো। কিন্তু তিনি জানেন না কোন প্রশাসনের লোক।
সোহেল ও হানিফের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে র?্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম রোববার বলেছিলেন, এ ঘটনার সঙ্গে র?্যাবের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

morshed

২০১৭-০৩-২০ ১৩:৪০:০৪

allaha er bichar ek din korbe

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা নির্যাতন: মিয়ানমারের মহামূল্যবান রত্ন শিল্পে আঘাত

‘এটা আমার জন্য বড় একটি ব্যাপার’

২০ লাখ পাউন্ড ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও সাবেক ডেপুটি-মেয়রের নাম

পাচার অর্থ ফেরতে নানা জটিলতা

ম্যানহাটন হামলায় আটক ব্যক্তি বাংলাদেশি?

২৯ রোহিঙ্গা নারীর মুখে ধর্ষণযজ্ঞের বর্ণনা

বাংলাদেশের দুই নেত্রীর লড়াইয়ের ইতি

বাড়ির পাশে ম্যারাডোনা

আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো কোনো দলই নেই

৩ দিনের সফরে ফ্রান্স গেলেন প্রধানমন্ত্রী

৫০ শতাংশের বেশি মানুষ মানসম্পন্ন সেবা পায় না

বিএনপি’র পিন্টু না টুকু নতুন প্রার্থীর খোঁজে আওয়ামী লীগ

তন্নতন্ন করে খুঁজেও বিদেশে সম্পদের অস্তিত্ব মেলেনি

ঢাকা-রংপুর ফাইনাল আজ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ এক সপ্তাহ স্থগিত

বাকেরগঞ্জে সাবেক এমপি মাসুদ রেজার ভাই গুলিবিদ্ধ