আওয়াজেই সীমাবদ্ধ অডিও ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম

বিনোদন

ফয়সাল রাব্বিকীন | ২১ মার্চ ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:০৫
বর্তমানে আওয়াজেই সীমাবদ্ধ অডিও ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম। গান প্রকাশ হচ্ছে একটি, কিন্তু আওয়াজ দেয়া হচ্ছে ঘটা করে। বেশিরভাগ অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ঘোষণা, প্রচারণা কিংবা আশার বাণী শোনাচ্ছেন। অথচ অ্যালবাম প্রকাশ কমে এসেছে একেবারেই উল্লেখযোগ্য হারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো এবার হাতে গোনা দু-একটি অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বাইরে পহেলা বৈশাখকে ঘিরে তেমন কোনো আয়োজনই নেই কারোও। অথচ ফেসবুক কিংবা ইউটউবে বিভিন্ন গান প্রকাশের প্রচারণা চলছে বেশ জোরেশোরে। রহস্য কি? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে চলতি বছর এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে যে অ্যালবামগুলো প্রকাশ হয়েছে তার মাত্র ২০ ভাগ কেবল কোম্পানির নিজস্ব বিনিয়োগে। বাকি আশি ভাগই নতুন অথবা বিলাসী শিল্পী কিংবা আয়োজকদের অর্থায়নে প্রকাশ হয়েছে। কোম্পাানিগুলো এখন কেবল ‘ফ্রি আইটেম’ খুঁজছে, এমন অভিযোগ জানিয়েছেন বেশ কজন শিল্পী। এই প্রবণতাটা মাঝে কমলেও চলতি বছর আবার বেড়ে গেছে। অথচ এখন মার্কেটে ডিজিটালি একটি অ্যালবাম প্রকাশের ক্ষেত্রে তেমন অর্থই প্রয়োজন হয় না। কারণ, এখন সিডি প্রকাশ হচ্ছে না বললেই চলে। কেবলমাত্র ডিজিটালি ইউটিউবে গান প্রকাশ হচ্ছে। এর বাইরে বাড়তি কোনো খরচ নেই। কিন্তু তারপরও অ্যালবামের উপর বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে কোম্পানিগুলো। গত পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আসছে পহেলা বৈশাখের হিসেব কষলেই বিষয়টি বোঝা যাবে। আকাশ-পাতাল পার্থক্য এবার। গত বৈশাখে রেকর্ডসংখ্যক অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছিল। একটি জোয়ার ছিল সিনিয়র-তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের অ্যালবাম প্রকাশের। কিন্তু এবার তার সিকিভাগ প্রস্তুতিও নেই পহেলা বৈশাখকে ঘিরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অডিও প্রযোজক বলেন, গত বছর বৈশাখ কিংবা ঈদে যে বিনিয়োগ হয়েছে তাকে ‘মিরাকেল’ বলা চলে। হঠাৎ করে সেলফোন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে কয়েক মাসের কনটেন্টের অর্থ একসঙ্গে পেয়ে যাওয়ায় সবাই তখন বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু সত্যি বলতে বেশিরভাগ কোম্পানির আসলটাই উঠেনি। আর ভুল বিনিয়োগের কথা নাইবা বললাম। এদিকে লেজারভিশনের চেয়ারম্যান ও এমআইবি সভাপতি এ কে এম আরিফুর রহমান বলেন, আসলে প্রকৃত অডিও ব্যবসায়ীরা কখনো আওয়াজে বিশ্বাসী নয়। বিশ্বাসী হতে হবে কাজে। আমরা কিন্তু সব সময় একই গতিতে চলছি। লেজারভিশন আগেও যেমন একেবারে কম বিনিয়োগ করেনি, আবার আকাশসম বিনিয়োগও করেনি। ঠিক একই রকমভাবে এখনো চলছে। এই ধারাবাহিকতাটা দরকার। এটা নষ্ট করা ঠিক নয়। এদিকে আসছে পহেলা বৈশাখে সিডি চয়েস থেকে প্রকাশ পাচ্ছে ইমরান-পড়শীর দ্বৈত অ্যালবাম ‘আবদার’। এর বাইরে তেমন একটা উল্লেখযোগ্য অ্যালবাম প্রকাশ করছে না প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে লেজারভিশন বেশ কজন তারকার অ্যালবাম প্রকাশ করবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। জি-সিরিজ ও সংগীতার আয়োজন তেমন একটা বড় নয়। গানচিল, ঈগল মিউজিক ও সিএমভি কেবল হাতে গোনা কয়েকটি সিঙ্গেলস প্রকাশ করছে বৈশাখে। আর ধ্রুব মিউজিক স্টেশন বৈশাখে নতুন গান প্রকাশ করবে না। তারা ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত গানগুলোর ভিডিও প্রকাশে জোর দেবে। এদিকে বর্তমান অডিও ইন্ডাস্ট্রির হালচাল বিষয়ে সিএমভির কর্ণধার ও এমআইবির সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহেদ আলী পাপ্পু বলেন, আসলে সব ইন্ডাস্ট্রিরই ভালো-খারাপ সময় রয়েছে। এখন বিনিয়োগটা কমেছে। কারণ গত বছর যে বড় বিনিয়োগটা হয়েছিল সেগুলো সবটা উঠে আসেনি। তবে আশার কথা হলো ইন্ডাস্ট্রি একদম খারাপ অবস্থায় আর কখনও যাবে না। কারণ এখন কোম্পানি বেশি, প্রতিযোগিতা বেশি। সবাই চাচ্ছে নিজেদের ভালোভাবে মেলে ধরতে। তবে এই মুহূর্তে সবাই কাজ একটু কম করছে। ঈদ নাগাদ এটা ঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস। সিএমভিও পহেলা বৈশাখে সিঙ্গেলস ও ভিডিওর প্রতিই জোর দিচ্ছে। এদিকে অ্যালবাম কিংবা গান প্রকাশ কম করলেও অডিও কোম্পানিগুলোর আওয়াজকে যতটা গর্জে ততটা বর্ষে না’র মতো অবস্থা বলেই মত দিয়েছেন সংগীতবোদ্ধারা। আর এরকম অযথা গর্জনকে অডিও ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকারক বলেও মনে করছেন তারা। আওয়াজ না দিয়ে কাজে মনোযোগ দিলেই অডিও ইন্ডাস্ট্রির প্রকৃত উন্নয়ন হবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করছেন সংগীতবোদ্ধারা।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন