বাঁশের লাইন থেকে চালকবিহীন ট্রেনে

প্রবাসীদের কথা

মাহবুব মাসুম, টোকিও থেকে | ১৭ মার্চ ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১৬
ট্রেনে চালক নেই। অথচ সেকেণ্ড হিসেব করে ট্রেন চলছে। অটোমেটিভ এসব ট্রেন টোকিও সিটির বেশ কয়েকটি এরিয়াতে চলাচল করে। এমন ট্রেনে গতকালই প্রথমবার উঠলাম। নিজের ভিতরে একটা ধাক্কা খেলাম! হায় কি দেখছি! ট্রেন আসছে অথচ চালক নেই। হুইসেল নেই! তাও আবার ট্রেনটি নির্দিষ্ট সময়ে এসে হাজির।

সাধারণ ট্রেনের মতই দরজাবন্ধ করে চলা শুরু করল। নির্দিষ্ট সময়ে যথা স্থানে পৌঁছে গেলাম। মিনিটতো দূরের কথা সেকেণ্ডও দেরি হয়নি। এ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যে কতটা উন্নত ও প্রযুক্তি নির্ভর তা আমাদের কল্পনারও বাইরে। তাদের উন্নয়ন দেখে মনে হয় মাটির উপরে এক পৃথিবী আর মাটির নিচে আরেক পৃথিবী! আর আমরা লোহার পাতের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করছি। কি উন্নতি আমাদের! এ নিয়ে মিডিয়াতে দেখি মন্ত্রীসাহেব দাঁত কেলিয়ে বলে বাশ ব্যবহার বাস্তব সম্মত।এটি ব্যবহার সঠিক।কি এক অদ্ভুত দেশে আমাদের বসবাস।

চালকবিহীন মেট্রো ট্রেন ছাড়াও জাপানে চালু হয়েছে চালকবিহীন ৫০০ কিলোমিটার গতির ম্যাগলেভ বুলেট ট্রেন। অতি উচ্চ গতিসম্পন্ন ম্যাগনেটিক লেভিটেশন (ম্যাগলেভ) ট্রেনটি ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের তাসুরু অঞ্চলে সেন্ট্রাল জাপান রেলওয়ে কম্পানি (জেআর টোকাই) পরিচালনা করছে। চালকবিহীন ম্যাগলেভ ট্রেনটি উচ্চ-প্রযুক্তিসম্পন্ন প্রোপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে যার নাম ‘এল-জিরো’ সিস্টেম। ২০২৭ সালের মধ্যে এ ট্রেনটি টোকিও ও নাগোয়ার মধ্যে চলাচল করবে। নাগোয়া পর্যন্ত প্রায়৩০০ কিলোমিটার রেলপথ হচ্ছে মাটির ৪০ মিটার নিচ দিয়ে। এছাড়াও নতুন এক অদৃশ্য ট্রেন আসছে। ট্রেনটি আসছে কিন্তু দেখতে পাচ্ছেন না। এমন অদ্ভুত ট্রেনে উঠতে হলে আপনাকে জাপানে আসতে হবে। এটি ঘণ্টায় ৩০০ মাইল বেগে চলা বুলেট ট্রেনেও ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাপানের সেইবু গ্রুপ।
পার্থক্য যেখানে আকাশ-পাতাল! আমরা ঘুম থেকে উঠে অর্থ লুটপাট বা অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের পরিকল্পনা করি। জাপানিরা সেখানে মেধা খাটিয়ে নতুন কিছু অবিস্কারের চিন্তা করে। আমরা ঘরে-বাইরে মুত্যু শঙ্কায় থাকি। তারা ২৪ ঘন্টায় ঘরে কিংবা বাইরে নিরাপদে থাকে।

লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন