ঝিনাইদহে পাঁচ বোনের দাবি

শেষের পাতা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৬
ঝিনাইদহে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই আকরাম হত্যার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার ৫ বোন। গতকাল দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আকরামের সেজো বোন জান্নাত আরা পারভীন রিনি। উপস্থিত ছিলেন বড় বোন রেহানা আলম গিনি, মেজ বোন ফেরদৌস আরা চিনি, সেজো বোন জান্নাত আরা পারভীন রিনি, শাহনাজ পারভীন রিপা ও ছোটবোন শামীমা নাসরীন মুক্তি। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, খুলনায়  বাবুল আক্তারের বাবা পুলিশে ও নিহত পুলিশ কর্মকর্তা আকরামের স্ত্রী বন্নির বাবা বিআরডিবিতে চাকরি করতেন। থাকতেন পাশাপাশি বাসায়।
সেই সুবাদে বাবুল-বন্নির মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। ২০০৫ সালের ১৩ই জানুয়ারি আকরামের সঙ্গে বিয়ে হয় বন্নির। অন্যদিকে পারিবারিকভাবে মিতুকে বিয়ে করেন বাবুল। কিন্তু বিয়ের পরও বাবুল আর বন্নির মধ্যে যোগাযোগ ছিল। তাদের প্রেমের বিষয়টা জানা-জানি হয় বিয়ের পর। এরই মাঝে আকরামের একটি সন্তান হয়। সন্তান জন্মকালে বন্নি যখন হাসপাতালে ছিলেন তখন প্রতিদিনই বাবুল আক্তার, ভাই সাবু ও তার বোন লাবনী হাসপাতালে দেখাশুনা করতেন। হাসপাতাল থেকে রিলিজ করার পর বন্নিকে বাবুল আক্তারের বোন লাবনীর বাসায় নিয়ে তোলা হয়। বিভিন্ন সময় বন্নির সঙ্গে যোগাযোগ করতো বাবুল আক্তার। এসআই আকরাম বিদেশে মিশনে থাকা অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলতো বন্নি। ২০১৪ সালের ২৮শে ডিসেম্বর আকরামকে যমুনা সেতু হয়ে ঢাকা আসার পরামর্শ দেয় বন্নি। কিন্তু সে বাবুলের সঙ্গে কূটকৌশল করে সন্ত্রাসী দ্বারা পথিমধ্যে আটকে রাখে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথার পেছনে গুরুতর জখম করে। এরপর ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দাহ নামক স্থানে মহাসড়কে মুমূর্ষু অবস্থায় আকরামকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আকরামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে ফরিদপুর ও পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন আকরামের অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। এই অবস্থায় ২য় বার হত্যার উদ্দেশ্যে বন্নি স্যুপের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে আকরামকে খাওযায়। এরপর ১৩ই জানুয়ারি ২০১৫ তে আকরাম মারা যায়। সেখান থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার স্ত্রী বন্নি আকরামের লাশ গ্রহণ করে। তখন পুলিশ ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করে। লাশ ঝিনাইদহে আনার সময় বন্নি না আসার জন্য নানা প্রকার ভনিতা করে। পরে ঝিনাইদহে এনে দাফন করা হয়। বন্নির বাবা একমাত্র জামাইয়ের জানাযায় অংশ না নিয়ে বন্নিসহ পরিবারের অন্যদের নিয়ে বাবুল আক্তারের মাগুরার বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসকরা বলেছিলেন আকরামের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তখনই সন্দেহ হয় এটি হত্যা। কিন্তু ওই ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনের নিকট অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। আলতাফ হোসেন এখন সাতক্ষীরায় কর্মরত। পরবর্তীতে ১৯/০১/২০১৫ তারিখে  আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। লিখিত বক্তব্যে রিনি আরো অভিযোগ করেন, তার ভাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় বন্নির সঙ্গে তার ফুফাতো ভাই সাদিমুল ইসলাম মুন উপস্থিত ছিল। তিনি বলেন, মুনের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী। সে ঐ রাতে কিভাবে সেখানে আসলো। যে কারণে মুন আমার ভাইয়ের হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে লাশ পুনরায় তুলে ময়নাতদন্ত করা হয়। যে রিপোর্টে প্রভাবিত করে বাবুল আক্তার। সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ বোন তাদের ভাই হত্যার বিচার দাবি করেন।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অস্ট্রেলিয়া গেলেন প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহা

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’

খালেদা জিয়া ফিরছেন আজ

ব্লু হোয়েলের ফাঁদে আরো এক কিশোর

তিন ইস্যু গুরুত্ব পাবে সুষমার সফরে

প্রি-পেইডে সুবিধা বেশি আগ্রহ কম

ভারত থেকে ৩৭৮ কোটি টাকার চাল কিনছে সরকার

ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ খুন নিয়ে উত্তপ্ত সিলেট

ইস্যু হতে পারে সমস্যার পাহাড়

দ্বিতীয়বার সংসার না করায় খুন

যেভাবে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ড্রোন থেকে নেয়া ভিডিও

সিলেটে কাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট

ফুটবলকে বিদায় জানালেন কাকা