কোয়ান্টামের রক্তদাতা সম্মাননা

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শনিবার
কমপক্ষে ২৫ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন, এমন দুই শতাধিক রক্তদাতাকে সম্মাননা জানিয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রক্তদাতাদের সনদপত্র, বিশেষ আইডি কার্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অনেক ক্লিনিক পেশাদার রক্তদাতাদের দূষিত রক্ত কিনে থাকে। এ ধরনের ব্লাড ব্যাংক ও সংস্থা যারা মানুষকে সুস্থ করার পরিবর্তে অসুস্থ করে তুলছে এ ব্যাপারে আমার কোয়ান্টামের সহযোগিতা চাই। নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ করে মানুষকে দেয়ার জন্য আমি কোয়ান্টামকে ধন্যবাদ জানাই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকে মেডিকেল কলেজ করছে।
ল্যাবরেটরি নাই, লাইব্রেরি নাই। আমি অনেকের ?বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। তার চেয়ে বড় কথা হলো, এত বেশি তদবির হয়- ওটাকে ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু আমি কোনোভাবে আপস করিনি। যেখান থেকে ডাক্তার তৈরি হবে সেখানে কোনোভাবেই কোনো কমেপ্রামাইজ করা যাবে না। হাসপাতাল খোলা এখন দেশে বড় ব্যবসা হয়ে গেছে জানিয়ে নাসিম বলেন, আমরা নীতিমালার ভিত্তিতে এগুলো চালানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু এত বেশি জঞ্জাল যে পরিষ্কার করতে সময় লাগছে। অনেক কষ্ট হচ্ছে, তারপরও আমরা চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য নিয়ে আমি রাজনীতি করি না, যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী চিকিৎসকদের পদায়নের চেষ্টা করি, প্রমোশন দেয়ার চেষ্টা করি। রাজনীতি করার আমার আলাদা জায়গা আছে বলেন- মন্ত্রী। স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের পক্ষে অনুভূতি বর্ণনা করেন ২৬ বার রক্ত দেয়া সাইমুম ইমতিয়াজ। সাইমুম ইমতিয়াজ বলেন, ভাষার জন্য অনেকে রক্ত দিয়েছেন। আমাদের ঋণী করে রেখেছেন। আমাদের সেভাবে রক্ত দেয়ার সুযোগ নেই। আমরা এখন এভাবে রক্ত দিয়ে তাদের ঋণ শোধ করতে পারি। রক্ত দেয়া একটা মহান কাজ। নিয়মিত রক্তগ্রহীতাদের মধ্য থেকে অনুভূতি জানায় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী শোভা আক্তার। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শোভা আক্তার বলে, ৫ বছর বয়সে আমার থ্যালাসেমিয়া রোগ ধরা পড়ে। রক্ত না নিলে আমার শরীরে জ্বর আসে, ব্যথা হয়, দুর্বল হয়ে পড়ি। রক্ত নিলে সুস্থ হয়ে যাই। আমার রক্তের গ্রুপ এবি পজেটিভ। আমি কোয়ান্টাম থেকে রক্ত নিই। কোয়ান্টামের সবাইকে ধন্যবাদ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ ব্যাগ নিরাপদ ও সুস্থ রক্তের চাহিদা রয়েছে। এর ২৬ শতাংশ আসে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে। রক্তের বিপুল চাহিদা পূরণের জন্য ১৯৯৬ সাল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। গত এক যুগের প্রচেষ্টায় সাড়ে ৮ লাখের বেশি মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারীর সভাপতিত্বে  আরো উপস্থিত ছিলেন- কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের অনারারি পরিচালক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমোটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এবিএম ইউনুস, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন