উন্মুখ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছে ত্রাণ পৌঁছাল যখন

দেশ বিদেশ

মানবজমিন ডেস্ক | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৫
ত্রাণকর্মীদের দিকে ছুটছে শিশুরা; ছবিটি বালুখালি ক্যাম্পের
 বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোর আবহ পাল্টে গেলো মুহূর্তে। মিয়ানমারে নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মাঝে ক্ষণিকের জন্য নেমে এলো যেন এক চিলতে স্বস্তি। বালুখালি, কুতুপালং ও লেডা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানোর পর শরণার্থীদের অভিব্যক্তিতে তেমনটাই ফুটে উঠেছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের পাঠানো ত্রাণবাহী জাহাজ নটিক্যাল আলিয়া চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায় মঙ্গলবার। এরপর অবশেষে যখন ত্রাণগুলো শরণার্থীদের হাতে পৌঁছায় তখন উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে তারা। কারো চোখে মুখে উন্মুখতা আর কারো চেহারায় ছিল স্বস্তির আভা। গার্ডিয়ানের সচিত্র প্রতিবেদনে ওই তিন শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ পৌঁছানো ও বিতরণের মুহূর্তগুলো উঠে এসেছে। গত বছর অক্টোবরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ব্যাপক ‘নির্মূল অভিযান’ শুরু করার পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে  আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা। তাদের স্থান হয়েছে বালুখালি, কুটুপালং আর লেডা শরণার্থী শিবিরগুলোতে। হঠাৎ এতো বেশি শরণার্থী এসে পড়ায় স্বভাবতই খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য মৌলিক সেবার সংকট সৃষ্টি হয়। শরণার্থী শিবিরের পুরোনো বাসিন্দারা সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের খাবার ও আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া, দেশি ও বিদেশি দাতব্য সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় প্রশাসন সাহায্য করে আসছে ভাগ্যাহত এ শরণার্থীদের। ত্রাণ সহায়তার অব্যাহত প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে মালয়েশিয়া সরকার ত্রাণবাহী জাহাজ পাঠায়। জাহাজে জরুরি ত্রাণ সরবরাহের সঙ্গে আসেন ত্রাণকর্মীদের একটি দল। ১৪ই ফেব্রুয়ারি আনুমানিক বেলা সাড়ে বারোটায় চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে জাহাজটি। চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত ত্রাণবাহী নটিক্যাল আলিয়ার যাত্রায় জাহাজটির জন্য বিশেষ রুট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ সরকার। এ কারণে বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। এ ছাড়া, মানবিক এই ত্রাণসেবা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য এ তৎপরতায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।


 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন