প্রেসিডেন্টে আস্থা আওয়ামী লীগের, চার প্রস্তাব

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২৭
নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে চার প্রস্তাব ও ১১টি সুপারিশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কমিশন গঠনে প্রেসিডেন্টের যে কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজেদের আস্থার কথা জানিয়েছে দলটি। আওয়ামী লীগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট যা উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, সে প্রক্রিয়ায় তিনি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের লক্ষ্যে সম্ভব হলে এখনই একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। সময় স্বল্পতার কারণে ইসি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় যেন এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।
চতুর্থত, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিরাজমান সব বিধিবিধানের সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং চালু করা। গতকাল বিকালে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপে দলের পক্ষে প্রস্তাবনা  ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সংলাপে দলের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংলাপ শেষে সন্ধ্যায় দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিকাল ৪টায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগেই প্রতিনিধি দলের বাকি সদস্যরা বঙ্গভবনে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রেসিডেন্ট বঙ্গভবনের দরবার হলে পৌঁছানোর পর বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে আলোচনা শুরু হয়। শুরুতে প্রেসিডেন্ট আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ দেন। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এইচটি ইমাম, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মোহাম্মদ জমির, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আইনবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। 
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংবিধান ও বিরাজমান সব আইনকানুনের ওপর শ্রদ্ধাশীল। তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সুগভীর প্রজ্ঞা ও সুবিবেচনার প্রতি আওয়ামী লীগের পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে প্রেসিডেন্টের গৃহীত যেকোনো ন্যায়সংগত উদ্যোগের প্রতি এই দলের পরিপূর্ণ সমর্থন থাকবে। তিনি বলেন, বিচার মানি তালগাছটা আমার- এরকম মানসিকতা আওয়ামী লীগের নেই। বিএনপি নির্বাচন কমিশন আইনের বিপক্ষে মতামত দিয়েছে- এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে আমাদের প্রস্তাব দিয়েছি। এসব প্রস্তাব কতটা যুক্তিযুক্ত, কতটা ন্যায়সঙ্গত তা বিবেচনার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের। বিএনপি কি বললো বা কি করলো- এটা আমাদের বিবেচনার বিষয় নয়। এক্ষেত্রে আমাদের কোনো দ্বিচারিতা বা দ্ব্যর্থতা নেই। প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন- এ ধরনের নিয়ম রয়েছে প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নেবেন কি-না  সেটা তার বিষয়। তবে প্রেসিডেন্ট সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব দলের ঐকমত্য সম্ভব কিনা প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা এ নিয়ে আশাবাদী। এদিকে ই-ভোটিং নিয়ে প্রশ্নে এইচটি ইমাম বলেন, এর আগে কয়েকটি জায়গায় ই-ভোটিং ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশন এরইমধ্যে অনেক কাজ করেছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জেনেছি এই ব্যবস্থা এখনই প্রয়োগ করা যেতে পারে। এ জন্য আমাদের প্রস্তাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আওয়ামী লীগ একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে সব বিষয় অতীব গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরে। এগুলো হচ্ছে- একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ আচরণ, ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা, নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবর্তে কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রিজাইডিং অফিসার থেকে পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ, দেশি/বিদেশি পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ তৎপরতা, নির্বাচনে পেশীশক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল পর্যায়ের ভোটারের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা, নির্বাচনের পূর্বে ও পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সকল সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা এবং নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবলমাত্র আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রুটিন) কার্যাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। এতে বলা হয়, এসব বিষয় তখনই সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদিত হতে পারে যখন প্রতিটি সংস্থা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালন করবে। 
নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে প্রেসিডেন্টের ডাকা সংলাপ প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত ২৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। এসব দলের পক্ষ থেকে প্রায় অভিন্নভাবে ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের পরামর্শ দেয়া হয়। আগামী ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। তার আগেই নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হবে। সংলাপের শেষ ধাপে আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রেসিডেন্ট। 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বরিশালে বিচারকের ভূমিকায় বেঞ্চ সহকারী, তোলপাড়

গাজীপুরে প্রাক্তন তিন সেনা সদস্যসহ ৪জন গ্রেপ্তার

খান আতা ইস্যুতে এফডিসিতে চলচ্চিত্র পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আদালত অঙ্গনে খালেদার আইনজীবীদের হাতাহাতি

বন্যায় ৩০ শতাংশ ধান উৎপাদন কম হতে পারে

রাজধানীতে নিরাপত্তাকর্মীকে কুপিয়ে যখম

জেনারেল মইনকে আশ্বস্ত করেছিলেন প্রণব

সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

গভীর রাজনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কা কাতালোনিয়ায়

নাইকোর আবেদন তিন সপ্তাহ মুলতবি

চল্লিশ বছর পর আবার...

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করলো যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি মজনু গ্রেপ্তার

কুয়েতে এসি বিস্ফোরণে নিহত পাঁচজনের মরদেহ দেশে,বিকালে দাফন

আমাদের অনেক এমপি অত্যাচারী, অসৎ : অর্থমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে শূন্য হাতে ফিরলেন জাতিসংঘ কর্মকর্তা